শারজায় ‘গব্বর’ ধাওয়ানের গর্জনে কাত ধোনিরা, দিল্লি ফের শীর্ষেই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

অশোক মালহোত্রা

উফ! কী টেনশনের ম্যাচ।
রক্ত হাড়হিম হয়ে যায়। মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। বারবার মনে হতে থাকে এই লড়াই যদি দিল্লি না জেতে, তা হলে ক্রিকেট দেবতা শিখর ধাওয়ানের ওপর অবিচার করবে।
শেষমেশ ক্রিকেটই জিতল, হ্যাঁ, সেই শিখর ধাওয়ানের হাত ধরে। চেন্নাইয়ের প্রথমে ব্যাটিং নিয়ে ১৭৯/৪-র বিনিময়ে দিল্লি শেষ পর্যন্ত এক বল বাকি থাকতেই খেলখতম করে দিয়েছে। স্কোর বোর্ডে সেইসময় ১৮৫/৫। দিল্লির জয় পাঁচ উইকেটে।
একেকটি দিন এমনই যায় একেকজনের। যা ধরবে তাই সোনা। আইপিএলে এমনই এক স্বপ্নের ইনিংস খেলল শিখর ধাওয়ান। ৫৮ বলে ১০১ রানের হার না মানা ইনিংস, যার মধ্যে রয়েছে ১৪টি কপিবুক স্টাইলের বাউন্ডারি ও একটি ছয়। ভারতীয় ক্রিকেটে ওকে ‘গব্বর’ বলে ডাকা হয়। সেই গব্বরের গর্জনে শারজা স্টেডিয়াম আলো ঝলমল করে উঠল।
ভাগ্যিস ফাঁকা গ্যালারি ছিল। না হলে শিখরের এই ইনিংস দেখে কোনও দিল্লি সমর্থক মাঠে প্রবেশ করে তাকে আলিঙ্গন করতই। এমন ইনিংসের জন্য সারা রাত হেঁটে খেলা দেখতে যাওয়া যায়। হেঁটে শারজা যেতে বলছি না, আমি বলছি এই ইনিংসের জন্য সারা রাতে হাঁটার ক্লান্তিও থাকবে না।
শিখর মেজাজী ওপেনার, অনেকটা বীরেন্দ্র সেওয়াগের মতোই। যেদিন যাকে মারবে, কিছু পড়ে থাকবে না! এই ইনিংসের পরে দিল্লি হারলেও শিখর শীর্ষেই থাকত। কিছু কিছু ম্যাচে জয়-পরাজয়ের কোনও হিসেব থাকে না। ব্যক্তিগত মনিমাণিক্য এত বেশি থাকে যে খেলার ফলটাকে গৌণ মনে হয়। শনিবার তাই হল শারজায়। শিখরের ইনিংস দেখার পরে একটা মোহাবিষ্ট ভাব তৈরি হয়। আহা কী দেখলাম, অস্ফুটে কথাটি বেরিয়ে আসে। হয়তো ম্যাচে মোট চারবার ‘জীবন’ পেয়েছে ক্যাচ মিস হওয়ায়, কিন্তু এর নামই তো ক্রিকেট। কাকে কীভাবে দেবে কেউ জানে না।
স্কোরে দেখা গেল ছয় বলে ১৭ রান করতে হবে। ক্রিজে শিখর ও অক্ষর প্যাটেল। ২০তম ওভারটি দিল্লি দলনায়ক শ্রেয়স করতে দিল ভারতীয় দলে শিখরের ভাল বন্ধু জাদেজাকে। একেই বলে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা। কিন্তু সেই কাঁটা উপরে দিল অক্ষর প্যাটেল ও ধাওয়ান। জাদেজার ওই ওভারে তারা তুলেছে ২১ রান, তার মধ্যে অক্ষরের তিনটি ছয়। খেলাটি দেখে কারোর হার্ট অ্যাটাক আইপিএল কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়, এটা লিখলে ভাল হতো।
আমার খুব হতাশ লাগছে এম এস ধোনির ব্যাটিং দেখে। বলের কাছে ব্যাট যাচ্ছে না, সেই ছন্দ হারিয়েছে মাহি। বহুদিন ক্রিকেটের সঙ্গে নেই, সেটি ভালমতই বোঝা যাচ্ছে। স্যাম কুরান দ্রুত ফিরতে ফের ইনিংসকে টানল ওয়াটসন (৩৬) ও ফাফ ডু প্লেসি (৪৭ বলে ৫৮) ।
চেন্নাই ব্যাটিং ইনিংসে রাজার মতো ব্যাটিং করল আম্বাতি রায়ডু, ২৫ বলে ৪৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, যার মধ্যে ছিল চারটি ছক্কা ও একটি চার। রায়ডুর এই ইনিংস না থাকলে চেন্নাই লড়াইয়ের মতো জায়গায় যেত না। শেষদিকে রবিন্দর জাদেজাও (১৩ বলে ৩৩) চারটি ছয় মেরে দিল্লির বোলারদের সীমাবদ্ধতা দেখিয়ে দিয়েছে।
শারজার মাঠ এমনিতেই ছোট। তাই এই মাঠে ধোনিদের মোট রান কখনই জুতসই হয়নি। আরও ১০-১২ রান বাড়তি হলে ভাল হতো। আমার একটি বিষয়ে ভাল লেগেছে, সেটি হল রায়ডু ও জাদেজার ব্যাটিং। ওরা দিল্লির নামী পেসারদের বেধড়ক মেরেছে। রাবাদা ও নর্টজের মতো পেসার ছিল দিল্লি দলে। যারা চলতি আসরে রীতিমতো ভয়ঙ্কর। নর্টজে ৪৪ রানে দুই উইকেট পেলেও রাবাদা চার ওভারে ৩৩ রান দিয়ে পেয়েছেন একটি উইকেট।
এই ম্যাচে শেষমেশ বাকিদের কারা, কী কেমন অবদান রাখল গৌণই হয়ে থাকল। যারা টিভিতে খেলাটা দেখল তারা রাতের ঘুমের ঘোরেও শিখরের এই ইনিংস দেখবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর : চেন্নাই সুপার কিংস ২০ ওভারে ১৭৯/৪। ডু প্লেসি ৫৮, রায়ডু ৪৫, ওয়াটসন ৩৬, জাদেজা ৩৩, নর্টজে ২/৪৪।
দিল্লি ক্যাপিটালস ১৯.৫ ওভারে ১৮৫/৫। ধাওয়ান ১০১ নঃ আঃ, স্তোইনিস ২৪।
দিল্লি জয়ী ৫ উইকেটে। ম্যাচের সেরা : শিখর ধাওয়ান।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More