মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

কাশ্মীর নিয়ে গভীর উদ্বেগ রাষ্ট্রপুঞ্জের, উঠল অসম প্রসঙ্গও

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কাশ্মীরে গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলছে কড়াকড়ি। এরই মধ্যে সোমবার রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার পরিষদ উদ্বেগ প্রকাশ করল কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার পরিষদের ৪২ তম অধিবেশনে বলা হয়েছে, ভারত সরকারের সাম্প্রতিক কার্যকলাপের ফলে কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণ আছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের হাই কমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস মিশেল ব্যাচিলেট বলেন, কাশ্মীরে ইন্টারনেট পরিষেবার ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় রাজনীতিক ও সমাজকর্মীদের বনব্দি করে রাখা হয়েছে।

কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানেরও নাম উল্লেখ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।

মিশেল বলেন, আমি ভারত ও পাকিস্তান সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, মানবাধিকারকে সম্মান জানানো হোক। মানবাধিকার রক্ষা করা হোক। আমি বিশেষত ভারতের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, কাশ্মীরে কড়াকড়ি ও কার্ফু শিথিল করা হোক। মানুষকে মৌলিক পরিষেবাগুলি দেওয়া হোক। যাঁরা আটক রয়েছেন, তাঁদের অধিকার রক্ষা করা হোক। কাশ্মীরের জনগণের ভবিষ্যতের ওপরে প্রভাব পড়তে পারে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যেন তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।

গত মাসে ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। এর ফলে হিংসা ছড়িয়ে পড়তে পারে আশঙ্কা করে কাশ্মীরে কয়েক হাজার বাড়তি নিরাপত্তারক্ষী পাঠানো হয়। রাজ্যের নানা জায়গায় কার্ফু জারি হয়। ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। রাজ্যের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী সহ প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের বন্দি করা হয়।

সম্প্রতি অবশ্য কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমেরিকা সহ বেশ কয়েকটি দেশ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইতিমধ্যেই। ভারত বরাবরই বলে এসেছে, জম্মু-কাশ্মীর আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে মিশেল ব্যাচিলেট বলেন, আমরা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার দুই পারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট পাচ্ছি।

অসম সম্পর্কে বলা হয়েছে, অবৈধ বাসিন্দাদের তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সেখানে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরি হয়েছে। কিন্তু তা মানুষের জীবনে ব্যাপক অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা বহন করে নিয়ে এসেছে। ৩১ অগস্ট প্রকাশিত হয়েছে এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা। তাতে ১৯ লক্ষ মানুষ বাদ পড়েছেন।

মিশেল ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন, যাঁরা নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁরা যখন আপিল করবেন, তখন যেন সব নিয়ম মানা হয়। মানুষকে যেন তাড়িয়ে না দেওয়া হয়। কেউ যেন রাষ্ট্রহীন না হয়ে পড়েন।

তাঁর কথায়, যাঁরা চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁদের যেন বন্দি না করা হয়। আইনমতো আপিলের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা যেন আগের মতোই সব অধিকার ভোগ করতে পারেন।

Comments are closed.