বুধবার, জুন ১৯

মেঘালয়ের র‍্যাট হোল খনি থেকে উদ্ধার পচাগলা দেহ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ৪২ দিন আগে মেঘালয়ের বেআইনি র‍্যাট হোল কয়লাখনিতে নেমেছিলেন ১৫ শ্রমিক। বৃহস্পতিবার সেই ৩৭০ ফুট গভীর খনি থেকে একজনের পচাগলা দেহ উদ্ধার করল নৌবাহিনী। গত সপ্তাহেই দেহটি লক্ষ করা গিয়েছিল। কিন্তু বুধবার তা জলে ভেসে খনির আরও গভীরে চলে যায়। এদিন দেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

খনির গভীরে ১০০ ফুট জলের নীচ থেকে দেহটি ক্রেনে করে তুলে আনা হয়। কিছুদিন আগেই নৌবাহিনীর ধারণা হয়, গুহার ভিতরে যারা আটকে পড়েছিল, তাদের কেউ সম্ভবত বেঁচে নেই। কিন্তু শ্রমিকদের পরিবার বলে, মৃতদেহগুলি অন্তত উদ্ধার করা হোক। তাহলে তাঁদের শেষকৃত্য করা যাবে।

গতবছর ১৩ ডিসেম্বর মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড়ে কয়লাখনিতে নেমেছিলেন ১৫ জন। ওই পাহাড়ে অন্তত ৮০-৯০ টি বেআইনি খনি আছে। খনির আশপাশে আছে ঘন জঙ্গল। খনিতে পৌঁছতে গেলে ৩০ ফুট চওড়া লাইতিন নদী পেরতে হয়। সেই নদী ফুলেফেঁপে উঠে পুরো খনি জলে ভাসিয়ে দেয়। এছাড়া খনির অদূরে আরও একটি জলমগ্ন খনি থেকেও জল ঢুকেছিল।

খনিতে যখন জল ঢুকছে তখন কোনক্রমে পালাতে পেরেছিলেন পাঁচ শ্রমিক। তাঁরা বলেন, এক শ্রমিক সম্ভবত ভুল করে খনির এমন দেওয়ালে আঘাত করেছিলেন যার ওপারেই ছিল জলমগ্ন আর একটি খনি। আঘাতে দেওয়াল ভেঙে পাশের খনি থেকে জল ঢুকে পড়ে।

দুর্ঘটনার পরে প্রথম কিছুদিন পাম্পের অভাবে উদ্ধারের কাজ ব্যাহত হয়। পরে কয়েকটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প আনা হয়েছে। নৌবাহিনী, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স টিম এবং এনডিআরএফের যৌথ টিম আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা করতে থাকে।

জানুয়ারি মাসের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট বলে, নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যেতেই হবে। কারণ অনেক সময় অলৌকিকভাবে কেউ বেঁচে যেতে পারে। মেঘালয় ও কেন্দ্রীয় সরকার পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করে ত্রাণের কাজ চালাক।

এখন ওই খনিতে জলের গভীরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে কয়েকটি আনম্যানড রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল। জলে নামছেন ডাইভাররা। তাঁরা কয়েকটি কঙ্কাল লক্ষ করেছেন। কিন্তু সেগুলি এখনও খনির বাইরে আনা যায়নি। খনির মধ্যেকার জলে যথেষ্ট পরিমাণে সালফার আছে। তাতে মৃতদেহগুলি পচে যাচ্ছে দ্রুত।

মেঘালয়ে কয়েক বছর আগেই র‍্যাট হোল খনি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, ওই খনিগুলির জন্য পরিবেশ দূষণ হয়। কিন্তু তার পরেও পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় অঞ্চলে র‍্যাট হোল খনি থেকে কয়লা তোলা বন্ধ করা যায়নি।

Comments are closed.