রবিবার, আগস্ট ২৫

নতুন কংগ্রেস সভাপতি স্থির হবে শনিবার, জল্পনা মুকুল ওয়াসনিককে নিয়ে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : লোকসভা ভোটের কিছুদিনের মধ্যেই পরাজয়ের দায় স্বীকার করে সভাপতির পদ ছাড়তে চেয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। অন্য নেতাদের হাজার অনুরোধ উপরোধেও তিনি কান দেননি। বাধ্য হয়ে নতুন সভাপতি বেছে নিতে হচ্ছে কংগ্রেসকে। শুক্রবার দলের প্রথম সারির নেতারা প্রাক্তন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর বাড়িতে বৈঠকে বসেন। তারপর জানানো হয়, শনিবার বসছে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে। সেখানে স্থির হবে কে পরবর্তী সভাপতি হচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে প্রবীণ নেতা মুকুল ওয়াসনিকের নাম।

৫৯ বছরের মুকুল ওয়াসনিক একসময় কেন্দ্রে মন্ত্রী ছিলেন। কংগ্রেসের আগামী সাংগঠনিক নির্বাচন পর্যন্ত তিনিই সভাপতি থাকতে পারেন। দু’দশকের মধ্যে এই প্রথম গান্ধী পরিবারের কাউকে কংগ্রেসের সর্বোচ্চ পদে বসানো হচ্ছে। রাহুল ইস্তফা দেওয়ার সময়েই বলেছিলেন, এবার গান্ধী পরিবারের বাইরে কাউকে কংগ্রেস সভাপতি পদে বেছে নিতে হবে। সনিয়া এবং সদ্য রাজনীতিতে যোগ দেওয়া প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও দলের শীর্ষ পদে থাকতে চাননি। কংগ্রেসের ১৩৪ বছরের ইতিহাসে বেশিরভাগ সময় নেহরু-গান্ধী পরিবারের সদস্যরাই দলের শীর্ষ পদে থেকেছেন। বর্তমানে ওই পরিবারের তিন সদস্য, সনিয়া, রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা রাজনীতিতে সক্রিয়। কিন্তু তাঁরা কেউ দলের হাল ধরছেন না।

শনিবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দলকে এতদিন নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য রাহুলকে ধন্যবাদ জানাবে।

এদিন সনিয়ার বাড়িতে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রবীণ নেতা এ কে অ্যান্টনি, আহমেদ পটেল এবং কে ভি বেণুগোপাল। তাঁরা একবাক্যে বলেন, কংগ্রেসের সভাপতির পদ আর বেশিদিন শূন্য রাখা যায় না। গত দু’মাস ধরে দলের শীর্ষপদটি ফাঁকাই রয়েছে। রাহুলের বদলে কে সভাপতি হবেন, তা নিয়ে নেতারা একমত হতে পারছিলেন না।

দলের নেতৃত্বহীনতার ছাপ পড়েছে সংসদে কংগ্রেস এমপিদের আচরণে। শাসক বিজেপি কয়েকদিন আগেই ৩৭০ ধারা বিলোপ ও জম্মু-কাশ্মীরকে দু’ভাগ করার মতো দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের বিরোধিতা করতে পারেননি। গুলাম নবি আজাদ ও কপিল সিব্বলের মতো নেতা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কিন্তু জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, মিলিন্দ দেওরা, জয়বীর শেরগিল, কর্ণ সিং ও জনার্দন দ্বিবেদির মতো নেতা সরকারকে কার্যত সমর্থন করেছেন।

Comments are closed.