করোনা-মৃত্যুতে চিনকে ছাড়িয়ে গেল ইতালি, মৃত ৩৪০৫! শহরের বাইরে দেহ পোড়াতে নিয়ে যাচ্ছে সেনা

গোটা বিশ্বে এই মুহূ্র্তে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ ২০ হাজারের মতো, মৃতের সংখ্যা ৯ হাজার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যার নিরিখে চিনকে ছাড়িয়ে গেল ইতালি! বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইতালিতে কোভিড ১৯-এ মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৪০৫। মোট ৪২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে শুধু এদিনই। তার আগেই বুধবার একদিনে ইতালিতে মারা গেছেন ৪৭৫ জন। চিনে এ পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩২৪৫ বলে জানা গেছে, যদিও সেই পরিসংখ্যান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহলের এক অংশ।

    গোটা বিশ্বে এই মুহূ্র্তে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ ২০ হাজারের মতো, মৃতের সংখ্যা ৯ হাজার।

    উত্তর ইতালিতে করোনা প্রথম থাবা বসালেও ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশেই। গত ১২ মার্চ লকডাউন ঘোষণা করে সে দেশের সরকার। প্রথমে সেই লকডাউন ২৫ মার্চ পর্যন্ত থাকবে বলে ঘোষণা করা হলেও পরে তার মেয়াদ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও ইতালিতে করোনার আক্রমণ বেড়েই চলেছে। ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ইতিমধ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৩ জন চিকিৎসকের। মারা গেছেন অনেক স্বাস্থ্যকর্মীও।

    অবসর নেওয়ার পরে এই চরম সঙ্কটে দেশের সেবা করতে এসেছিলেন এমন অনেক প্রবীণ ডাক্তার এখন মৃত্যুপথযাত্রী। বয়স বেশি নয়, কিন্তু দিনরাত এক করে রোগী দেখছেন এমন কিছু চিকিৎসকও ইতিমধ্যে মারা গেছেন কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়ে। মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তিরিশের কোঠায় বয়স, এমার্জেন্সি রুমের এমন কয়েকজন ডাক্তার। হাসপাতালগুলিতে ভেন্টিলেটর কম পড়ছে, অন্য সরঞ্জাম ধীরে ধীরে কমে আসছে।

    বৃহস্পতিবারই চিনের ডাক্তার ও রেড ক্রসের একটি দল ইতালিতে গেছে সাহায্য করার জন্য। মিলানে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁরা বলেন, মানুষের বাড়ি থেকে বেরোনো পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। এটাই করোনা আটকানোর একমাত্র উপায়।

    তাঁদেরই কয়েক জন বলেছেন, লকডাউন হলেও ইতালীয়রা সে ভাবে নিয়ম মেনে চলেননি। অনেকেই বাইরে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিছু দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ খোলা আছে, সেখানে তাঁরা একসাথে খাবার খাচ্ছেন। মাস্ক পরছেন না। এমনকী কিছু জায়গায় বাস-ট্রাম চলছে। এই গা জোয়ারি মনোভাবের জন্য ইতালিতে এমন ভয়ঙ্কর ভাবে বেড়েছে করোনাভাইরাস। তাতেই এই পরিস্থিতিতে মৃত্যুমিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে সে দেশে। এমনও জানা গেছে, যে আশির বেশি বয়সী যাঁরা করোনায় আক্রান্ত তাঁদের চিকিৎসাই করা হচ্ছে না পরিকাঠামোর অভাবে।

    বৃহস্পতিবার ইতালির এক শহরে দেখা গেছে সারি সারি সেনা ট্রাক, যাতে করে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শহরের বাইরে পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য। অনেক ক্ষেত্রেই মৃতদের পরিবারের লোকেরা শেষকৃ্ত্য করতে পারেননি, বা করতে দেওয়া হয়নি সংক্রমণ ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। ইতালির জনসংখ্যার একটা বড় অংশ প্রবীণ। যাঁরা মারা গেছেন তাঁদের অধিকাংশই সত্তরোর্ধ্ব।

    এ দিকে, লন্ডনের পরিস্থিতিও ক্রমে ঘোরালো হচ্ছে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। কার্যত লকডাউন হয়েছে সেখানেও। বেশির ভাগ অফিসকাছারি, শিল্প বন্ধ। কিন্তু সেখানেও কিছু মানুষ কথা না শুনে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এখনও।

    আমেরিকায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৬৪ জনের। প্রতিদিন সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বড় ভরসা করোনার প্রতিষেধক, যা নিয়ে সারা পৃথিবীর অনেক গবেষণাগারে কাজ চলছে। তবে সেই ওষুধ পরীক্ষানিরীক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে কবে বাজারে আসবে সে দিকেই তাকিয়ে সারা বিশ্ব।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More