আমার চোখের সামনে শ্বাস বন্ধ হয়ে গেল ওর! এভারেস্ট ছুঁয়েছিলেন দম্পতি, ফিরলেন স্বামী একা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’জন মিলে বিশ্বের সাত মহাদেশের উচ্চতম সপ্ত শৃঙ্গ ছুঁয়ে আসবেন বলে স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁরা। স্বপ্নের এক কারবারি ছুটি নিয়েছেন, বিশ্বের উচ্চতম শৃঙ্গের কোলেই। আর কী হবে, স্বপ্ন পূরণ? এই উত্তরটা নিজেও জানেন না ৫৮ বছরের শরদ কুলকার্নি। চোখের সামনে এখনও ভাসছেন, এভারেস্ট ছুঁতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে স্ত্রী অঞ্জলির মৃত্যুর দৃশ্য।

    কান্না যেন বাঁধ মানছে না এখনও। কত পরিকল্পনা, কত প্রস্তুতির পরে স্ত্রী অঞ্জলির সঙ্গে এভারেস্ট অভিযানে গিয়েছিলেন মুম্বইয়ের শরদ। ভাবতেও পারেননি, একসঙ্গে শৃঙ্গ ছোঁয়া হলেও, সেই সাফল্যে আনন্দের লেশমাত্র থাকবে না। ভাবতে পারেননি, এই অভিযানই সারা জীবনের অন্যতম বিষাদ হয়ে উঠবে।

    “আমার চোখের সামনে ছটফট করছিল ও, অক্সিজেনের অভাবে। আমরা ট্র্যাফিক জ্যামে অনেক ক্ষণ আটকে গেছিলাম। ফলে সমস্ত অক্সিজেন শেষ হয়ে গেছিল। নামার সময়ে আর শেষরক্ষা হল না। পাগলের মতো খুঁজছিলাম, যদি কারও কাছে অতিরিক্ত অক্সিজেন পাওয়া যায়। কোথায়ই বা পাব! সকলের একই অবস্থা কম-বেশি। যাঁরা নেমে আসছেন, তাঁরা বিধ্বস্ত। যাঁরা উঠছেন, তাঁরা কোন ভরসায় নিজেদের অক্সিজেন দিয়ে দেবেন! ওই অবস্থায় ওকে নিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট বসেছিলাম। কিন্তু… আমার চোখের সামনেই শেষ নিঃশ্বাস ফেলল অঞ্জলি। আমার শেরপা আমায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে চলে গেল… আমিও মরে যেতাম নয়তো ওভাবেই।”– গলা কেঁপে যায় শরদ কুলকার্নির।

    কাছে থেকেও কিছু করতে না পারার অসহায়তা তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছে। চোখের সামনে জীবনসঙ্গিনীর এই মৃত্যু তাঁর চরম ধাক্কা হয়ে রয়ে গেল। জীবনের সেরা অভিযান, সর্বোচ্চ সাফল্য যেন আজ ব্যঙ্গ করছে তাঁকে। এ সাফল্যের মাসুল দিতে যে নিজের স্ত্রীকে হারাতে হবে, দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি শরদ।

    গত মাসের ২৩ তারিখে এভারেস্টের পথে মৃত্যু হয়েছিল তিন ভারতীয় পর্বতারোহীর। তাঁদেরই মধ্যে এক জন ছিলেন মুম্বইয়ের অঞ্জলি কুলকার্নি। নেপাল পর্যটন দফতরের আধিকারিক মীরা আচার্য জানিয়েছিলেন: পুনের বাসিন্দা ২৭ বছরের নিহাল আশপাক ভগবান, মুম্বইয়ের বাসিন্দা ৫৪ বছরের অঞ্জলি শরদ কুলকার্নি এবং ওড়িশার বাসিন্দা ৪৯ বছরের কল্পনা দাস প্রাণ হারিয়েছেন এভারেস্ট অভিযানে।

    ১২০ জনেরও বেশি পর্বতারোহী পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখরে উঠেছিলেন ওই দিন। কিন্তু ৮৮৫০ মিটার উচ্চতায় ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে পড়েন তাঁরা ওঠার আগে ও পরে। তার ফলে অনেকেই ক্লান্ত, অবসন্ন হয়ে পড়েন। জল শেষ হয়ে যায় অনেকের। অক্সিজেনের অভাবে ভোগেন। তাতেই মৃত্যু হয় কয়েক জনের। অঞ্জলিও সেই হতভাগ্যদেরই এক জন।

    আরও পড়ুন…

    BREAKING: মৃত্যুমিছিল যেন থামছেই না! দীপঙ্করকে উদ্ধার করতে গিয়ে মৃত শেরপা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More