বড্ড কষ্ট ছেলের, সন্তানের জন্মদিনেই ইচ্ছামৃত্যু চাইলেন দুর্গাপুরের মা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য‌ ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহে শুধু ডায়ালেসিসের খরচই প্রায় ৩-৪ হাজার টাকা। তার ওপরে আছে ওষুধ। এত খরচ টানা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে শারীরিক যন্ত্রণায় ভারী কষ্ট পাচ্ছে ছেলেটা। এমন পরিস্থিতিতে ইচ্ছামৃত্যু চান মা। একা নয়, ছেলেকে নিয়েই। ছেলের শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে, ছেলেকে নিয়ে মায়ের স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জমা পড়েছে মহকুমা শাসকের কাছে। আর তা নিয়ে চাঞ্চল্য দুর্গাপুর শহরে।

ইচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেছেন দুর্গাপুরের আট নম্বর ওয়ার্ডের আটা রিয়াল রোডের বাসিন্দা বন্দনা সাঁপুই। তাঁর স্বামী পরিমল চন্দ্র সাঁপুই বেঁচে নেই। তিনি ছিলেন ইস্পাত কারখানার কর্মী। একটি মাত্র ছেলে তুষার সাঁপুই গুরুতরও অসুস্থ। মঙ্গলবারই ছিল তার জন্মদিন। আর সেই দিনেই ৩৩ বছরের অসুস্থ ছেলের বিছানায় বসে একইসঙ্গে দু’জনের মৃত্যু কামনা মায়ের মুখে, মনে।

ছেলে তুষারের ডায়ালেসিস চলছে দুর্গাপুরেরই একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তুষার একটা সময়ে ফোটোকপির দোকান চালাতেন পাড়ায়। কিন্তু এখন আর কোনওরকম রোজগারই করতে পারে না। শেষ দু’বছর দু’টো কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। ডায়াবিটিস থেকে নষ্ট হয়ে গেছে দুটো চোখ। একবার হার্ট অ্যাটাকও হয়ে গেছে। যন্ত্রণায় সারাক্ষণ চোখে জল, মুখে গোঙানি। ছেলের এই কাতর অবস্থা দেখে বৃদ্ধা মা আর চিকিৎসা করার অবস্থা না থাকায় স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।

বন্দনাদেবী জানিয়েছেন, গত দু’বছরে সমস্ত কিছু বিক্রি হয়ে গেছে। সাহায্য প্রার্থনায় প্রশাসনিক বিভিন্ন দফতরে গিয়ে গিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। এখন তাই সর্বস্বান্ত হয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন।

ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বন্দনাদেবীর। তিনি জানান, “স্বামীর চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরে ছেলের রোজগারে সংসার চলত। বছর পাঁচেক আগে রোগ ধরা পড়ে। তারপর চিকিৎসাও শুরু হয়। কিন্তু চিকিৎসার ব্যয়ভার চালানো বর্তমানে সামর্থ্যের বাইরে। ছেলের চিকিৎসায় খরচ জোগাতে নিঃস্ব হয়ে গেছি। স্বামীর অবসরের পর যা কিছু সুবিধা পাওয়া গিয়েছিল, সেই সম্বলটুকুও শেষ। রোজগেরে একমাত্র ছেলে আজ শয্যাশায়ী। শহরের সরকারি হাসপাতালে ডায়ালেসিস হয় না। বেসরকারি হাসপাতালে করাতে হয়। সেখানে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যেতে হয়। ছেলের সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More