চার পুত্রবধূর কাঁধে মৃত শাশুড়ি মায়ের শেষযাত্রা! রীতি ভাঙার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মা মারা গিয়েছেন দীর্ঘ দিন রোগে ভুগে। বাড়িতে শোকের ছায়া। চার ছেলে মেনে নিতে পারছেন না মায়ের মৃত্যু, দুঃখে-কষ্টে মূহ্যমান তাঁরা। কেঁদেই চলেছেন। এগিয়ে এলেন চার পুত্রবধূ। জানালেন, তাঁরা কিছু করতে শাশুড়ি মায়ের জন্য। তাই শেষকৃত্যটুকু সম্পন্ন করলেন তাঁরাই।

    গোটা পাড়ায় তখন ধন্য ধন্য পড়ে গিয়েছে। চার মহিলার কাঁধে মৃতা শাশুড়ির দেহ। কাঁধে খাট নিয়ে শ্মশানের পথে এগিয়ে চলেছেন চার বৌমা। এই বিরল দৃশ্য নজর কেড়েছে সকলের। পাড়া-প্রতিবেশী প্রত্যেকেই প্রশংসা করছেন ওই চার জনের। বলছেন, এমনটা বিরল। সারা দেশে যখন শাশুড়ি-বউমার দ্বৈরথের নানা ঘটনা রোজ সামনে আসছে, নানা রকম হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে, তখন সেই বদনাম ঘোচানোর ব্যতিক্রমী ছবি ছড়িয়ে পড়ুক চতুর্দিকে, এমনই চাইছেন আত্মীয়-পরিজন-প্রতিবেশীরা।

    সোমবার সকালে বিড জেলার কাশীনাথ নগর এলাকার এই ঘটনার ছবি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে নেট-দুনিয়ায়। চিরাচরিত কাল ধরে চলে আসা নিয়ম এ রীতিকে ভেঙে খান খান করে দিয়ে এভাবেও যে মায়ের মৃত্যুকে বৌমারা কাঁধ দিতে পারেন, তা আগে কখনও দেখা যায়নি বলেই বলছেন অনেকে।

    সুন্দরবাই দাগডু নাইকওয়াডে নামের বৃদ্ধা অনেক দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন। সোমবার ৮৩ বছর বয়সে নিজের বাড়িতেই মারা যান তিনি। চার ছেলে, বৌমা, নাতি-নাতনিরা ভেঙে পড়ে স্বাভাবিক ভাবেই। সেই সঙ্গে ব্যবস্থা করেন, মায়ের চক্ষুদানের। কারণ সুন্দরবাইদেবীর শেষ ইচ্ছে ছিল, মৃত্যুর পরে তাঁর স্বামীর মতোই চক্ষু দান করবেন।

    এ সবের মধ্যেই দেরি হয়ে যাচ্ছিল শেষকৃত্যের। ক্রমে আরও বেশি ভেঙে পড়ছিলেন তাঁর চার ছেলেই। তখনই এগিয়ে আসেন বৌমারা। জানান, শাশুড়ি-মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান তাঁরাই। প্রথমে কেউ বিশ্বাসই করতে চাননি, এমনটা সম্ভব বলে। বিস্মিত হন আত্মীয়, প্রতিবেশী সকলেই। কেউ বা তোলেন নীতির প্রশ্ন। কিন্তু বৌমারা জানান, সব নীতিই ভাঙতে হয় এক দিন। শেষমেশ বৌমাদের ইচ্ছে মেনে নেন সকলেই।

    নিয়ে আসা হয় খাট। ফুল, মালায় সাজিয়ে তোলা হয় বৃদ্ধার দেহ। পাড়া-প্রতিবেশীদের সাহায্যে ওই চার গৃহবধূর শাশুড়ির দেহ তোলা হয় খাটে। সেই খাট কাঁধে তুলে নেন লতা, উষা, মনীষা ও মীনা। চার পুত্রবধূর কাঁধে চেপে শেষযাত্রা করেন বৃদ্ধা। পিছনে হেঁটে হেঁটে চলেন সারা গ্রামের মানুষ,আত্মীয়-পরিজন। বহু অচেনা মানুষও যোগ দেন, এমন দৃশ্য কখনও দেখেননি বলে।

    প্রায় হাফ কিলোমিটার পথ শাশুড়ি মায়ের দেহ বয়ে নিয়ে যান চার বৌমা। তার পরে গাড়িতে তুলে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। শুধু তা-ই নয় বৃদ্ধার পারলৌকিক কাজকর্মও চার বৌমাই করবেন বলে জানা গিয়েছে।

    শাশুড়ি-বৌমার সম্পর্কে যে সমস্যা থেকেই যায়, তা সকলেই স্বীকার করেন। কিন্তু গতে বাধা এই ধারণাকেই মিথ্যে প্রমাণিত করলেন চার গৃহবধূ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More