রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

কলেজে কলেজে আসন ফাঁকা, স্নাতকে ভর্তির সময়সীমা বাড়াল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েক অধীন কলেজগুলোর বেশির ভাগ আসনই ফাঁকা রয়ে গেছে, তাই সে সব আসন ভর্তি করার জন্য কলেজে ভর্তির সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হল আরও ১০ দিন। সোমবার শিক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ জুলাই অবধি কলেজগুলিতে ভর্তির সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হল।

উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে অবশ্য আগেই অর্ডার জারি করে জানানো হয়েছিল, যে সব ক’টি কলেজের বহু আসন এখনও ভর্তি না হওয়ায় ফের নতুন করে সব কলেজভর্তির পোর্টালগুলি চালু করতে হবে। ফের শুরু করতে হবে ভর্তির প্রক্রিয়া। তার পরেই এই সময় বাড়ানোর নির্দেশিকা জারি করল কলকাতা ইউনিভার্সিটি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই বছর থেকেই সারা রাজ্যের প্রতিটি কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে করা হয়েছে। ঠিক হয়েছে, ক্লাস শুরুর আগে কোনও পড়ুয়া ক্যাম্পাসে রাখবেন না। এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে সামনে রাখা যেতে পারে গত বছর কলেজে ভর্তি নিয়ে চলতে থাকা চরম অরাজকতার ঘটনা। নানা প্রান্ত থেকে খবর এসেছিল, কলেজে কলেজে শাসক দল আশ্রিত ইউনিয়নের তরফে টাকা তোলা হয়েছে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নাম করে। এমন একটা বাতাবরণ তৈরি করা হয়েছিল, যাতে মনে হয়েছিল যে আসন সংখ্যা এবং ভর্তি হতে চাওয়া পড়ুয়ার সংখ্যার মধ্যে বিস্তর ফারাক।

কিন্তু পরে প্রকাশ্যে এসেছিল, অনেক কম আসনে অনেক বেশি পড়ুয়া ভর্তি হতে চাওয়ায় এই অরাজকতা মোটেই হয়নি। অনেক আসন বরং খালি পড়ে ছিল বলে জানা গিয়েছে। অথচ চাহিদা ও জোগানের একটা তীব্র ফারাক তৈরি করা হয়েছিল ইচ্ছাকৃত ভাবে, যাতে টাকা দিয়েও অনেকে ভর্তি হতে বাধ্য হন। এ নিয়ে তুমুল তোলপাড় হয়েছিল ভর্তি-মরসুম জুড়ে।

এ বছরে এই সমস্যার সুযোগ রাখেনি রাজ্য সরকার। আগেভাগেই ঘোষণা করেছিল, এই বছরে অ্যাডমিশন হবে অনলাইনে। প্রতিটা কলেজের খালি সিট, কত নম্বর পর্যন্ত পেয়ে কত জন ভর্তি হতে পারছেন সে তালিকা– সবই থাকবে উন্মুক্ত। এবং সেই কারণেই এ বছরে আরও প্রকট ভাবে সামনে এল আসন খালি থেকে যাওয়ার ঘটনা। পরিষ্কার হল, কম আসনে বেশি পড়ুয়া ভর্তি হতে চাওয়ার তত্ত্বটি সঠিক নয়।

কিন্তু এত আসন ফাঁকা থেকে যাওয়াও বাঞ্ছনীয় নয় বলে জানিয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতর। ফলে বাড়ানো হল ভর্তির মেয়াদ।

Comments are closed.