মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১
TheWall
TheWall

প্রধানমন্ত্রী বিদায় নিলেন, ইরাকে কি শান্তি ফিরবে?

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ডেঞ্জারাস টার্নিং পয়েন্ট! কিছুদিন আগে ইরাকে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন বিবিসি-র এক সাংবাদিক। তিনি আন্দাজ করেছিলেন, এই আন্দোলন ইরাকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে।

গত কয়েক বছর ধরেই খুচখাচ বিক্ষোভ চলছে ইরাকের নানা প্রান্তে। কিন্তু অক্টোবরের শুরু থেকে যেভাবে আন্দোলন ফেটে পড়েছে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে তার তুলনা মেলা ভার। আন্দোলনে ইতিমধ্যে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে। গত শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদি। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা বলছেন, কিছুদিন জিরিয়ে নিয়ে ফের পথে নামবেন। আদেল বিদায় হয়েছেন, ভালো হয়েছে। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের লড়াই চলবে।

বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে, তাদের আন্দোলন কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়। তারা লড়াই করছে একটা সিস্টেমের বিরুদ্ধে। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী ভুতপূর্ব শাসক সাদ্দাম হুসেনের পতন ঘটানোর পরে দেশে ওই সিস্টেম চালু হয়েছে। তার শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার তরুণ-তরুণী।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ইরাকে যোগ্যতার ভিত্তিতে কেউ সরকারি চাকরি পায় না। প্রতিটি ক্ষেত্রে আছে কোটা। বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও জাতির আলাদা আলাদা সংরক্ষণ আছে। তার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হয়। নানা গোষ্ঠীর নেতারা দেশের সম্পদ লুঠ করেন। তাঁরা এক একজন বিরাট ধনী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের অনুগামীদেরও ধনসম্পত্তি কম নেই। এর ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এক বছর আগে ইরাকে ক্ষমতায় এসেছিল আদেল আবদেল মাহদির সরকার। প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন, দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করবেন। এলিট ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে আনবেন। কার্যত তিনি চরম ব্যর্থ হয়েছেন। এলিটদের ওপর কর চাপানোর পরিবর্তে তাদের সঙ্গে নানারকম সমঝোতা করে চলেছেন। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর দমনপীড়ন চালিয়েছেন কড়া হাতে। তাঁরা উঁচু বাড়ির ছাদে মোতায়েন করেছেন স্নাইপার রাইফেল হাতে রক্ষী। তাদের কাজ ছিল আন্দোলনকারীদের গুলি করা।

গত বছর বসরায় বিক্ষোভকারীদের ওপরে একইভাবে গুলি চালানো হয়েছিল। প্রাণের ভয়ে পালিয়েছিল মানুষ। এবছর তা থেকে শিক্ষা নিয়েছে তরুণ-তরুণীরা।

সাধারণত প্রতি বছর গরমের সময় ইরাকে গণবিক্ষোভ দেখা যায়। বিদ্যুৎ সংকট ও অনিয়মিত জল সরবরাহ, এই দু’টি কারণে ক্ষেপে ওঠে মানুষ। কিন্তু এবছর গরম পড়েছে কম। বৃষ্টিও হয়েছে বেশি। ফলে গ্রীষ্মকালে সেভাবে বিক্ষোভ হয়নি। তার বদলে আন্দোলন হচ্ছে শীতের শুরুতে।

দমনপীড়ন চালিয়েও প্রধানমন্ত্রী রক্ষা পাননি। তাঁকে পদ ছেড়ে দিতে হয়েছে। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করলেই বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি মিলবে না। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরাকে আর একটি বড় বিক্ষোভ ফেটে পড়বে কিছুদিনের মধ্যেই।

Share.

Comments are closed.