বুধবার, অক্টোবর ১৬

গভীর নিম্নচাপ পরিণত হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ে, পশ্চিম উপকূলে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বহু রাজ্য যখন প্রচণ্ড গরমে পুড়ছে, তখন দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের কয়েকটি অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি নিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বায়ু। আবহবিদরা জানিয়েছেন, সোমবার বিকালে আরব সাগরে একটি গভীর ঘূর্ণিঝড় অবস্থান করছিল। তার অবস্থান ছিল মুম্বই থেকে ৭৬০ কিলোমিটার দূরে। মঙ্গলবার সেই নিম্নচাপ পরিণত হচ্ছে শক্তিশালী ঘুর্ণিঝড়ে। তার প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় কেরল, কর্ণাটক, কোঙ্কন, গোয়া ও লক্ষদ্বীপে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সঙ্গে হাওয়া বইতে পারে ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার বেগে।

আইএমডি-র সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী কে সতীদেবী বলেন, গভীর নিম্নচাপটি এখন উপকূল থেকে দূরে অবস্থান করছে। ক্রমশ উত্তর-উত্তর পশ্চিমদিকে সরছে সে। আমরা তার ওপরে নজর রাখছি। মনে হচ্ছে, ১৩ জুন সকালে গুজরাতের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়তে পারে। তা যদি নাও হয়, তার প্রভাবে পশ্চিম উপকূলে বৃষ্টি হবে।

একইসঙ্গে সতীদেবী জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বর্ষা আসতে দেরি হবে। এমনিতেই এবছর কেরলে বর্ষা ঢুকেছে এক সপ্তাহ দেরিতে।

কেন ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বর্ষা আসতে দেরি হবে তা ব্যাখ্যা করে সতীদেবী বলেন, সমুদ্রে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে তা জলীয় বাষ্পবাহী বাতাসকে নিজের দিকে টেনে নেয়। তাতে হাওয়ার গতিমুখ বদলে যায়। এখন আরব সাগরে যে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে, তা গুজরাত উপকূলের দিকে চলে গেলেই গতি পাবে বর্ষা।

আবহাওয়া সংক্রান্ত ওয়েব সাইট স্কাইমেটের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেশ পালাওয়াত বলেন, আরব সাগরে যে সাইক্লোন সৃষ্টি হচ্ছে, তা পশ্চিম উপকূলে ভারী বৃষ্টি নিয়ে আসবে। কিন্তু তা বর্ষার অগ্রগতিকে বাধা দেবে। এবছর এমনিতেই বর্ষা দেরিতে এসেছে। স্কাইমেটের পরামর্শ, দক্ষিণ ও মধ্য ভারতের কৃষকরা খারিফ শস্য রোপণে কিছুদিন দেরি করুন।

পশ্চিম উপকূলে ঘুর্ণিঝড় বায়ুর প্রভাব থাকবে আগামী তিনদিন। কেরল, কর্ণাটক, দক্ষিণ মহারাষ্ট্র এবং দক্ষিণ গুজরাত উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র হয়ে উঠবে উত্তাল। আবহ দফতর থেকে মৎস্যজীবীদের আরব সাগরে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যে মৎস্যজীবীরা গভীর সমুদ্রে গিয়েছেন, তাঁদের বলা হয়েছে, দ্রুত ফিরে আসুন।

ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে কয়েকটি রাজ্যে প্রবল বৃষ্টিপাত হবে ঠিকই, কিন্তু দেশের বাকি অংশে তাপপ্রবাহ চলবে আগের মতোই। আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, বিদর্ভ, হরিয়ানার দক্ষিণ অংশ ও উত্তরপ্রদেশ এখনই তাপপ্রবাহ থেকে মুক্তি পাবে না।

Comments are closed.