শনিবার, মার্চ ২৩

পাকিস্তান থেকে ভারতে আমদানি করা পণ্যে চাপছে ২০০ শতাংশ শুল্ক

দ্য ওয়াল ব্যুরো : জঙ্গিদের মদত দেওয়ার প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানের ওপরে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে ভারত। জঙ্গি হানার পরদিন, শুক্রবারই পাকিস্তানের অপর থেকে ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’-এর স্বীকৃতি বাতিল করেছিল ভারত। এরপর শনিবার সরকার জানাল, এর ফলে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা প্রতিটি পণ্যের ওপরে মূল শুল্ক বেড়ে হয়েছে ২০০ শতাংশ।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে সিআরপিএফের এক কনভয়ে হামলা করে আত্মঘাতী জঙ্গি। ৪০ জনেরও বেশি নিহত হন। ঘটনার দায় স্বীকার করে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ ই মহম্মদ। অন্যদিকে ভারত সরকার ঘোষণা করে, পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মহল থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার পরে জানানো হয়, পাকিস্তানের ওপর থেকে মোস্ট ফেভারড নেশন বলে স্বীকৃতি তুলে নেওয়ায় তার পণ্যের ওপরে ২০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি শনিবার সন্ধ্যায় টুইট করেন, পুলওয়ামার ঘটনার পরে ভারত পাকিস্তানকে আর মোস্ট ফেভারড নেশন বলে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। এর ফলে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা যে কোনও পণ্যের ওপরে শুল্ক বসছে ২০০ শতাংশ।

দুই মিত্র দেশ যখন পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বাণিজ্য করে তখন একে অপরকে মোস্ট ফেভারড নেশন বলে স্বীকৃতি দেয়। ভারত ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানকে ওই স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান ভারতকে ওই স্বীকৃতি দিয়েছে অনেক পরে। যদিও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী তাদের অবিলম্বে ভারতকে ওই স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ছিল।

কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, পাকিস্তান এখন এমনিতেই আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। মোস্ট ফেভারড নেশনের স্বীকৃতি রদ করলে আরও সমস্যায় পড়বে তারা। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতি বছর ২০০ কোটি ডলারের ব্যবসা হয়। ভারত মূলত তুলো, রাসায়নিক, শাকসবজি এবং লৌহ-ইস্পাত রফতানি করে পাকিস্তানে। সেদেশ থেকে আমদানি করে ফল, সিমেন্ট, চামড়া ও মশলা।

এর মধ্যে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ বাড়ছে পাকিস্তানের ওপরে। ভারত থেকে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, জইশ ই মহম্মদের নেতা মৌলানা মাসুদ আজহারকে ‘রাষ্ট্রসঙ্ঘের চিহ্নিত সন্ত্রাসবাদী’ বলে ঘোষণা করা হোক। চিন থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, জইশ ই মহম্মদ বা মৌলানা মাসুদ আজহার সম্পর্কে তারা অবস্থান বদলাচ্ছে না। আমেরিকা থেকে পাকিস্তানকে বলা হয়েছে, অবিলম্বে জঙ্গিদের সমর্থন করা বন্ধ করতে হবে। পাকিস্তান যেন জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় না হয়ে দাঁড়ায়।

Shares

Comments are closed.