BREAKING: কেন্দ্রের নির্দেশ পালনের ‘সর্বোচ্চ স্তরের আশ্বাস’ নবান্নর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চিঠি মুখ্য সচিবের

২৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দল পাঠানোর ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দ্বিতীয় চিঠির পর নবান্নর কথা ও সুর দৃশ্যতই অনেকটাই বদলে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব অজয় ভাল্লাকে রাজ্যের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা যে মঙ্গলবার চিঠি পাঠিয়েছেন, তাতে পরিষ্কার জানিয়েছেন, “বিপর্যয় মোকাবিলা আইন ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশাবলি মোতাবেক কেন্দ্রীয় সরকার যে নির্দেশ দিয়েছে তা পালনের জন্য সর্বোচ্চ স্তরের আশ্বাস দিতেই এই চিঠি।”

পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দল পাঠানোর ব্যাপারে কেন্দ্রের প্রথম নির্দেশ পাওয়ার পর মুখ্য সচিবের যে মুড ও প্রতিক্রিয়া টিভির পর্দায় দেখা গিয়েছিল তার সঙ্গে মঙ্গলবারের চিঠির মেজাজের ফারাক পরিষ্কার। বিশেষ করে এ ব্যাপারে ‘সর্বোচ্চ স্তরের আশ্বাসের’ কথা তাৎপর্যপূর্ণ।

কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের ৭টি জেলায় করোনাভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ মোকাবিলা কেমন চলছে তা খতিয়ে দেখতে আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দল পাঠানোর ব্যাপারে ১৯ এপ্রিল অর্থাৎ গত রবিবার প্রথম চিঠি পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কেন্দ্রের বক্তব্য ছিল সেখানে লকডাউনের শর্ত কোথাও কোথাও লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তা ছাড়া ওই সাত জেলার চিকিৎসা পরিকাঠামো, টেস্টের পরিসংখ্যান ইত্যাদি খতিয়ে দেখাও কেন্দ্রের উদ্দেশ্য।

কিন্তু সেই চিঠি পাওয়ার পরই সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য সচিব বলেছিলেন, “গাইডলাইন না মেনে কেন্দ্রীয় দল এসেছে। আমাদের কিছু না জানিয়েই এলাকায় চলে যাচ্ছে। এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না।” তিনি এও বলেন, “কেন ওই এলাকাগুলো বেছে নেওয়া হল সেটাও বুঝতে পারছি না। আগে আমাদের কারণ জানান, না হলে ওই দলকে আমরা ঘুরতে দিতে পারব না!”

শুধু এখানেই ব্যাপারটা থেমে থাকেনি। নবান্ন তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেছিলেন আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য তথা অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সচিব অপূর্ব চন্দ্র। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বলেন, রাজ্য সরকার তাঁদের সঙ্গে কোনও সহযোগিতাই করছে না। কোথাও যেতেও দিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নর্থ ব্লকে রিপোর্ট পাঠানোর পরই মুখ্য সচিবের কাছে ফের কড়া চিঠি আসে দিল্লি থেকে। এবং এ বার মুখ্য সচিবকে চিঠি দেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব অজয় ভাল্লা। তাতে লেখা ছিল, ‘আপনাকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পাঠানো ১৯ তারিখের নির্দেশ অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রক প্রতিনিধি দলের জন্য সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের এই চিঠির জবাবই দিয়েছেন মুখ্য সচিব। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, আন্তঃমন্ত্রক টিমকে যে একেবারেই সাহায্য করা হয়নি তা নয়। আসলে তাঁরা আগে থেকে না জানিয়ে চলে এসেছেন বলে তাঁদের জন্য ব্যবস্থা করা যায়নি। মুখ্য সচিব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে এও জানিয়েছেন যে দুটি প্রতিনিধি দলের যাঁরা নেতৃত্বে রয়েছেন তাঁদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং সব রকম সাহায্য করা হবে।

রাজনৈতিক শিবিরের অনেকের মতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব যখন সুপ্রিম কোর্টের গাইড লাইন ও কেন্দ্রীয় আইন মোতাবেক নির্দেশ দিচ্ছেন তখন মুখ্য সচিবের তা পালন করা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক সংঘাত থেমে গেল। বাংলার শাসক দল এর পরেও কেন্দ্রের এই একতরফা সিদ্ধান্তের সমালোচনা চালিয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর শর্ত যে লঙ্ঘন করা হয়েছে সে ব্যাপারে রাজনৈতিক অভিযোগ তুলবে।

অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপাত ভাবে অন্তত যে কথা বলছেন তাতে ভুল নেই। করোনা মহামারীর মতো একটা ভয়াবহ সংকটের মধ্যে রয়েছে দেশ। আন্তঃমন্ত্রক টিম পাঠানোর ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আগে চিঠি দিয়ে বা ফোন করে জানাতেই পারত। সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়ার পর যে ভাবে জানানো হয়েছে তা বিগ ব্রাদার সুলভ আচরণ। তাতে পাল্টা ইগো ও জেদ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকেই। সেই সঙ্গে সমন্বয়ের পরিবেশটাও তাতে নষ্ট হয়ে যায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More