করোনা অতিমহামারীর সুযোগে অপরাধীরা যেন ফ্রি হ্যান্ড না পায়

২৮

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দিনকাল বড় খারাপ। গত এক সপ্তাহ ধরে দৈনিক ৫০ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। মৃতের সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। স্বাভাবিক কারণেই সবাই ভীতসন্ত্রস্ত। বিভ্রান্ত। এই অবস্থায় মানুষকে বোকা বানানো সহজ। অপরাধীরা সেই সুযোগটাই নেয়।

গত এক সপ্তাহে এমনই কয়েকটি অপরাধের কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একটি খবরে বলা হয়েছে, নাকতলার বাসিন্দা এক ব্যাঙ্ককর্মী গত ২০ জুলাই জ্বরে আক্রান্ত হন। পরদিন শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। ২৫ জুলাই বাড়ির লোক তাঁর করোনা টেস্টের ব্যবস্থা করেন। ল্যাবরেটরির এজেন্ট বলে পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ব্যাঙ্ককর্মীর সোয়াব ও ব্ল্যাড স্যাম্পেল নিয়ে যান। ২৭ জুলাই সকালে টেস্ট রিপোর্ট পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়, ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যাঙ্ককর্মী করোনায় আক্রান্ত হননি। সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।

কিন্তু ভদ্রলোকের রোগ বেড়েই চলে। ২৭ জুলাই বাড়ির লোকজন তাঁকে বাঘাযতীনে এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সিটি স্ক্যান হয়। ডাক্তাররা বলেন, রোগীর শরীরে যা যা লক্ষণ আছে তাতে তাঁরা ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত যে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁকে কোনও কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার।

রোগীর করোনা টেস্টের রিপোর্ট যেহেতু নেগেটিভ এসেছে, তাই একাধিক কোভিড হাসপাতাল তাঁকে ফিরিয়ে দেয়। শেষপর্যন্ত তিনি দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি করা হন। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হয়। শেষে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। ২৮ জুলাই সকালে সেই হাসপাতালেই ভদ্রলোক মারা যান। হাসপাতাল থেকে মৃতের করোনা টেস্ট হয়। তখন রিপোর্টে দেখা যায় পজিটিভ। আগের টেস্ট রিপোর্ট ছিল জাল।

রোগীর বাড়ির লোকজন নেতাজি নগর থানায় অভিযোগ করেন। তদন্তে জানা যায়, এসএসকেএম হাসপাতালের ল্যাবরেটরির অস্থায়ী কর্মী বিশ্বজিৎ সিকদার জাল কোভিড রিপোর্ট চক্রের পাণ্ডা। তার ভাই ইন্দ্রজিৎ সিকদার আর জি কর হাসপাতালের কর্মী। সেও দাদাকে সাহায্য করেছে। এক ব্যক্তি তাদের জাল রিপোর্ট তৈরি করে দিয়েছিল। তার নাম অমিত পায়রা। তিনজনেই ধরা পড়েছে।

বিশ্বজিৎ মাত্র দেড় মাস এসএসকেএমে কাজ করেছে। তার ভাই আর জি করে কাজ করেছে চার মাস। এই অল্প সময়ের মধ্যে তারা খুলে ফেলেছিল জাল রিপোর্ট তৈরির চক্র। মৃত ব্যাঙ্ককর্মীর মেয়ে জানাচ্ছেন, যে ব্যক্তি ল্যাবরেটরির এজেন্ট সেজে এসেছিল, তাকে দেখে তাঁর সন্দেহ হয়েছিল। কারণ সে এসেছিল পিপিই ছাড়া। পরীক্ষার যে ‘রিপোর্ট’ রোগীর বাড়িতে পাঠানো হয়, তাও ছিল ভুলে ভরা। কিন্তু বাড়ির লোকজন রিপোর্ট নেগেটিভ দেখে খুশি হয়েছিলেন।

এখন কারও জ্বর হলে তার বাড়িসুদ্ধু লোক ভয়ানক টেনশনে থাকে। ছোটখাটো ব্যাপারে মনোযোগ দেওয়ার মতো অবস্থায় থাকে না। জাল রিপোর্ট চক্র এই সুযোগে কতজনের সঙ্গে প্রতারণা করেছে কে জানে। একটা জালিয়াত চক্র ধরা পড়েছে। এমন চক্র যে আরও নেই তার গ্যারান্টি কে দেবে?

সব দেশেই বোধহয় এমন চক্র গজিয়ে উঠেছে। গত মাসে জানা গিয়েছিল, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশেও এমন জাল কোভিড সার্টিফিকেট চক্র ধরা পড়েছে।

কলকাতায় ও তার আশপাশে আর একটি বিপদের কারণ হয়ে উঠেছে জাল স্যানিটাইজার। কিছুদিন আগে কলকাতার কাছে জাল স্যানিটাইজার বেচতে গিয়ে ধরা পড়ে দু’জন। স্যানিটাইজারে ইথাইল অ্যালকোহল নামে একরকমের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু জাল স্যানিটাইজারে তার বদলে মেশানো হয়েছে একটি বিষাক্ত রাসায়নিক। তার নাম মিথানল। সাধারণ স্যানিটাইজারের চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে নকল স্যানিটাইজার। পুলিশ এজরা স্ট্রিটে জালিয়াতদের ডেরায় হানা দিয়ে ১৪০০ লিটার জাল স্যানিটাইজার উদ্ধার করেছে।

করোনা থেকে বাঁচতে অনেকেই ঘন ঘন স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করছেন। বেশি দাম দিয়ে অত স্যানিটাইজার কেনা সবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাঁরা সস্তার স্যানিটাইজার খুঁজছেন। সেই সুযোগে জালিয়াতরা তাঁদের বিষাক্ত জিনিস বেচে দিচ্ছে।

করোনা নিয়ে হয়তো আরও নানারকম জোচ্চুরি চলছে যা আমরা জানি না। কিন্তু একটা ব্যাপার পরিষ্কার, পুলিশ যদি এখনই কড়া হাতে রাশ না ধরে, তাহলে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তাদের জন্য অনেক মানুষের প্রাণ যাবে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে হবে। কাউকে দেখে সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More