সোমবার, অক্টোবর ১৪

নরবলির শিকার হতে চলেছিলেন মহিলা! প্রতিবেশীদের তৎপরতায় ধরা পড়ল অপরাধীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: অসমের উদালগুড়িতে সম্প্রতি নরবলির অভিযোগ মিলেছে। এই নিয়ে তোলপাড় গোটা দেশ। কিন্তু তার পরেই জানা গেল, ঠিক এমনই একটি ঘটনা ঘটতে পারত এই বাংলাতেও! সূত্রের খবর, শনিবার বিপদতারিনী পুজোর দিন আলিপুরদুয়ারেই নাকি পরিকল্পনা ছিল নরবলি দেওয়ার। কিন্তু এমন মর্মান্তিক ও নিকৃষ্ট চক্রান্ত রুখে দেওয়া গেছে গ্রামবাসীদেরই প্রচেষ্টায়। তাঁদের উদ্যোগে গ্রেফতারও হয়েছে অভিযুক্ত তিন দুষ্কৃতী। তাদের দশ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

স্থানীয় সূত্রের খবর, আলিপুরদুয়ারের দু’নম্বর ব্লকের দক্ষিণ পারোকাটা গ্রামের বাড়ুইপাড়ায় ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যেয় বাড়ুইপাড়ার শীলা নন্দীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে আসে কয়েক জন। বলা হয়, শীলাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে চাকরি দেওয়া হবে। স্থানীয় এক মহিলা মঞ্জু দাস ও তার স্বামী অনিল দাসের সহযোগিতায় ওই লোকজন একটি গাড়ি করে শীলাকে নিতে আসে। বাড়িতে শীলার বাবা ছিলেন, তাঁকে টাকা-পয়সার লোভ দেখানো হয় বলেও অভিযোগ। নানা রকমের দরদাম চলতে থাকে।

এমন সময়ে গ্রামের মানুষেরা খারাপ কিছুর আঁচ পেয়ে ওই লোকগুলিকে ঘিরে ফেলে বলে খবর। পরে পুলিশে খবর দিলে ভাটিবাড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন জনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, বাকিরা পালিয়ে গেছে।

ধৃত তিন জনকে জেরা করে প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, বলি দেওয়ার কারণেই ৪৫ বছরের ওই মহিলাকে বাছাই করেছিল দুষ্কৃতীরা। পুলিশ জেনেছে, তারা বলি দেওয়ার জন্য ছ’ফুট লম্বা অবিবাহিত মহিলা খুঁজছিল অনেক দিন ধরে।

ভাটিবাড়ি থানার পুলিশ প্রদীপ মণ্ডল বলেন, “বলি দেওয়ার কারনেই শীলাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। তবে কোন মন্দিরে কখন এই নরবলির পরিকল্পনা ছিল, তা নিয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।”

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া তিন জনের নাম ঝুটন সরকার, সুশান্ত অধিকারি ও সুভাষ বর্মন। এদের মধ্যে ঝুটনের বাড়ি কোচবিহারের ডাউয়াগুড়িতে। সুশান্তর বাড়ি কোচবিহারের বক্সিরহাট থানার নাগুরহাট গ্রামে। সুভাষ কামাখ্যাগুড়ির বাসিন্দা। এই তিন জনকেই এখন জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, শীলারা ৬ বোন। ৫ বোনের আগেই বিয়ে হয়ে গেছে। অবিবাহিত শীলা ছ’ফুট লম্বা। তাঁর একটি পা সামান্য বিকল। এক চোখ খারাপ। বয়সও খুব কম নয়। এই রকম এক জন মহিলাকেকে বাইরে কাজে নিয়ে যাওয়ার জন্য এত চেষ্টা কেন, সেটা ভেবেই গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয়। সন্দেহ হতেই তাঁরা দুষ্কৃতীদের ঘিরে ধরে পুলিশে খবর দেন।

আলিপুরদুয়ার দুই নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দেবজিৎ সরকার বলেন, “এই প্রথম নয়। এর আগেও এই তরুণীকে কাজের লোভ দেখিয়ে বাইরে পাচার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের সকলকে গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে।”

আরও পড়ুন…

সপরিবার যজ্ঞ করে বলি দেওয়া হচ্ছে ৩ বছরের শিশুকে! গুলি চালাল পুলিশ, তার পর…

Comments are closed.