সোমবার, আগস্ট ১৯

ফের ভাঙন সিপিএমে, ঝাড়গ্রামের দাপুটে নেতা-সহ কয়েকশো কর্মী যোগ দিলেন বিজেপিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: লোকসভা ভোটে বিজেপি-কে সরাসরি সাহায্যের অভিযোগে শনিবারই ঝাড়গ্রাম জেলা কমিটির সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল সিপিএম। চব্বিশ ঘণ্টা কাটল না। সেই দাপুটে সিপিএম নেতা অসীম নন্দী সরাসরি যোগ দিলেন বিজেপি-তে। সঙ্গে কয়েকশো সিপিএম কর্মী।

রবিবার ঝাড়গ্রামে সভা করতে গিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ। সিপিএম থেকে আসা নেতা কর্মীদের হাতে তিনিই তুলে দেন বিজেপি-র পতাকা। শুধু সিপিএম নয়, গত পঞ্চায়েত ভোটে জেতা জামবনি ও ঝাড়গ্রামের নির্দল পঞ্চায়েত সদস্যরাও এ দিন যোগ দেন গেরুয়া শিবিরে। জঙ্গলমহলের এই জেলার বেশ কিছু তৃণমূল কর্মীও এ দিন যোগ দেন বিজেপি-তে। সাঁকরাইলের রোহিনী গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান সারথী সিংহ, ঝাড়গ্রামের রাধানগর গ্রাম পঞ্চয়েতের নির্দল সদস্য বুলবুলি কিস্কু, সাপধরা পঞ্চায়েতের নির্দল সদস্য বুলবুলি মণ্ডল, জামবনি ব্লকের কেন্দডাংরি পঞ্চায়েতের নির্দল সদস্য বিশ্বজিৎ মাহাতোর মতো অনেকে বিজেপিতে যোগ দেন। জামবনির পড়িহাটি ও রোড চন্দ্রকোনার কয়েকশো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও এ দিন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

লোকসভা ভোটের আগে থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করছিলেন, সিপিএমের লোকজন তলায় তলায় বিজেপি-র হয়ে কাজ করছে। ভোটের পর দেখা যায়, বামেদের সিংহভাগ ভোট গিয়ে পড়েছে বিজেপি-র বাক্সে। ফলে বামেদের ভোট নেমে এসেছে সাত শতাংশে। আর বিজেপি পৌঁছে গিয়েছে ৩৯ শতাংশে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সমর্থকদের ভোট তো গিয়েইছে। এ বার সিপিএমের সংগঠনটাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেল। তাঁদের মতে, জেলা কমিটির সদস্য মানে রাজ্য কমিটির ঠিক নীচের স্তর। সেখানকার নেতারা যদি এক এক করে গেরুয়া শিবিরের দিকে পা বাড়ান, তাহলে আর কী পড়ে থাকবে! যদিও সিপিএমের রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে ঝাড়গ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী মধুজা সেন রায় বলেন, “দু’একজন অন্য দলে গেলে গোটা সংগঠন ভেঙে পড়ে না। যাঁরা পার্টির মতাদর্শের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না, তাঁরাই অন্য দলে যাচ্ছেন।”

এর আগে মালদহের হবিবপুরের সিপিএম বিধায়ক খগেন মুর্মু বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। তিনিও ছিলেন জেলা কমিটির সদস্য। লোকসভায় বিজেপি-র টিকিটে লড়াই করে জিতেওছেন খগেন। ভোটের পর হেমতাবাদের বিধায়ক হেমেন্দ্র রায়ও আলিমুদ্দিন ছেড়ে মুরলীধর সেন লেনে গিয়েছেন। এ বার অসীম নন্দী।

পঞ্চায়েত ভোটেও এই ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি ধসিয়ে দিয়েছিল বিজেপি। একাধিক জায়গায় শাসক দল প্রার্থীই দিতে পারেনি। তারপর জিতে নিয়েছে লোকসভাও। অনেকের মতে, এই সবটাই গেরুয়া শিবির পেরেছিল নিচুস্তরে সিপিএমের সংগঠনের জোরে। কিন্তু এখন যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে আর ভায়া নয়, সোজা সেই সংগঠকরাই যোগ দিচ্ছেন বিজেপি-তে। সিপিএমের অনেকেরই প্রশ্ন, এ ভাবে চলতে থাকলে সংগঠনের ধাঁচাটা টিকিয়ে রাখা যাবে তো?

Comments are closed.