বৃহস্পতিবার, জুন ২০

দুই আসনে প্রার্থী ঘোষণা বামেদের, কংগ্রেস বলল ‘অপ্রত্যাশিত’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলোচনা চলছিল। পাশাপাশি চলছিল মৃদু আকচাআকচিও। কিন্তু এর মধ্যেই গতবারের দুটি জেতা আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দিল রাজ্য বামফ্রন্ট। শুক্রবার রাজ্য বামফ্রন্টের বৈঠক শেষে ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ঘোষণা করেন, এ বারও রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদে সিপিএমের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মহম্মদ সেলিম এবং বদরুদ্দোজা খান।

আর বামেদের এই প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে যারপরনাই ক্ষুব্ধ প্রদেশ কংগ্রেস। সভাপতি সোমেন মিত্র ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “এটা প্রত্যাশিত ছিল না। আমরা হাইকম্যান্ডকে জানাব।” যদিও বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, কংগ্রেসের জেতা চারটি আসনে প্রার্থী দেবে না বামফ্রন্ট। কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার সমাধান সূত্র এর মধ্যে বেরোলে ভাল, না হলে পরের সপ্তাহেই বাকি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দেবে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

আলিমুদ্দিন স্ট্রিট আর বিধানভবন জট কাটাতে পারেনি। সিপিএম যেমন বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে দরবার করেছিল, ঠিক তেমনই রায়গঞ্জ আর মুর্শিদাবাদ আসনের জট নিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। শুক্রবার পর্যন্ত সেই জট পেকেই রয়েছে। তার মধ্যেই নিজেদের জেতা আসনে প্রার্থী ঘোষণার কাজ সেরে ফেলল সিপিএম।

এ দিন রায়গঞ্জে সেলিম বলেন, “কথা হয়েছিল যার যেটা জেতা আসন, সে সেখানে একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়বে না। এটাই ভদ্রলোকের চুক্তি। ২০১৬ সালেও একইভাবে আসন সমঝোতা হয়েছিল। এখন কংগ্রেস যেটা করছে সেটাকে এঁড়েপনা বলে।” প্রসঙ্গত, চোদ্দর ভোটে বাংলায় কংগ্রেস চারটি এবং বামেরা দুটি আসন জিতেছিল। রায়গঞ্জে সেলিম জিতেছিলেন দেড় হাজার ভোটের কম ব্যবধানে। কংগ্রেসের বক্তব্য, ওই আসনে এ বার সিপিএম কিছুতেই জিততে পারবে না। কিন্তু নিজেদের জেতা দুটি আসন ছাড়তে রাজি নয় আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। এ কথা স্পষ্ট করেছেন সীতারাম ইয়েচুরিও। সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্য, “এই পরিস্থিতিতে যদি জেতা দুটি আসন ছেড়ে দেওয়াই হয় কংগ্রেসকে, তাহলে কর্মীদের মনোবল ধাক্কা খাবে।”

কংগ্রেস অবশ্য অন্য অঙ্ক কষছে। তাদের বক্তব্য, প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির মৃত্যুর পর এ বার প্রথম ভোট। ফলে দীপা দাসমুন্সি দাঁড়ালে একটা আবেগ কাজ করবে। কিন্তু সিপিএম সে যুক্তি মানছে না। এ দিন বীরভূমে সূর্যকান্ত মিশ্রও একই কথা বলেন। তাঁর কথায়, জেতা আসন না ছাড়লে আসন সমঝোতা হবে না। শুক্রবার সন্ধের পর তাই অনেকেরি প্রশ্ন, আর কি সমঝোতা সম্ভব?  

Comments are closed.