পুষ্টিতে খামতির অভিযোগ, তাই কোভিড রোগীদের খাবারের মান, পরিমাণ, মূল্য বাড়িয়ে ফের সরকারি নোটিস

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

রফিকুল জামাদার

রাজ্যের প্রত্যেক কোভিড রোগীর জন্য খাবারের নির্ধারিত মান ও পরিমাণ ফের বেঁধে দিল সরকার। আজ, মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য ভবনের তরফে নোটিস দিয়ে নির্দেশ জারি করা হয়েছে, এবার থেকে ভর্তি থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে দিনপ্রতি মাথাপিছু খাবার এর মূল্য হবে ১৭৫ টাকা করে। কখন কি খাবার দেওয়া হবে তার তালিকাও নতুন করে দিয়ে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগেই জুন মাসে একটা সরকারি অর্ডার দেওয়া হয়েছিল এ বিষয়ে। সেখানে বলা হয়েছিল, ১৫০ টাকা করে দৈনিক খাবার দিতে হবে করোনা রোগীদের। তার নির্দিষ্ট সময়ও লেখা ছিল। কারণ করোনা সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করার গোড়া থেকেই অভিযোগ উঠেছিল, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভর্তি করোনা আক্রান্ত রোগীদের খাবারের মান ভাল নয়, পরিমাণেও কম। তাই এর পরেই জুন মাসে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বলে দেওয়া হয়েছিল, রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে করোনা রোগীদের ব্রেকফাস্টে থাকবে ৪টি রুটি, একটি করে ডিম, কলা, দুধ। দুপুরের খাবারে ভাত থাকবে পরিমাণ মতো, অন্তত ১০০ গ্রাম চালের। সঙ্গে ডাল অন্তত ৫০ গ্রাম থাকবে, মাছ বা মাংসের ওজন ৯০ থেকে ১০০ গ্রাম হবে, দই দিতে হবে রোজ।

একই ভাবে রাতে রুটি অথবা ভাত রোগী যেটা পছন্দ করবেন এবং তার সঙ্গে ডাল, সব্জি, মাছ দেওয়া হবে বলে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়ে। সেই সঙ্গে দেওয়া হতো প্যাকেটজাত নানা খাবার ও পানীয়ও।

সেই নিয়ম মেনেই খাবার পাচ্ছিলেন রোগীরা। কিন্তু মনে করা হচ্ছে, অসন্তোষ থেকে গেছিল তার পরেও। বহু জায়গায় করোনা রোগীর খাবারের মাণ ও পরিমাণ নিয়ে অভিযোগ তুলছিলেন। তাই ফেল এল নতুন সূচি। খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে ১৭৫ টাকা মূল্যের করা হল।

এবার নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিদিন সকালে চা এবং দুটি করে বিস্কুট দিতে হবে রোগীদের। ব্রেকফাস্টে দিতে হবে চারটি রুটি, একটি ডিমসেদ্ধ, একটি কলা এবং ২৫০ এমএল দুধ। দুপুরে ভাল চালের ভাত দিতে হবে ১৫০ গ্রাম, ৫০ গ্রাম ডাল, ৮০ বা ৯০ গ্রাম ওজনের মাংসের পিস, ১০০ গ্রাম মরসুমি আনাজের তরকারি, ১০০ গ্রাম দই। সন্ধেয় চা এবং দুটি বিস্কুট দিতে হবে, রাতে দিতে হবে ১০০ গ্রামের ভাত বা সমপরিমাণ রুটি, ৫০ গ্রাম ডাল, ১০০ গ্রাম ওজনের মাছ বা মাংসের পিস, ৭৫ গ্রাম তরকারি।

নিরামিষাসীদের জন্যও করা হয়েছে তালিকা। তাঁদের জন্য বাকি সব এক থাকলেও মাছ বা মাংসের বদলে ৮০-৯০ গ্রাম ওজনের পনির বা মাশরুম বা সয়াবিন বা রাজমার ডাল এসব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর সকালের ডিমের বদলে তাঁরা অতিরিক্ত দুধ খাবেন। ২৫০ এমএল-এর বদলে ৩৫০ এমএল।

করোনা রোগীদের পুষ্টির দিকটি বিশেষ জরুরি বলে প্রথম থেকেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। নইলে দুর্বলতা থেকে যেতে পারে ভাইরাসের সংক্রমণে। এ নিয়ে সেই জুন মাস থেকে সরকার তৎপর হলেও, তা পর্যাপ্ত হচ্ছিল না বহু রোগীর ক্ষেত্রে। অভিযোগ আসছিল রাজ্যের নানা প্রান্তের হাসপাতালগুলি থেকে। আজ মঙ্গলবার থেকে নতুন নোটিক জারি করার পরে পরিস্থিতি বদলায় কিনা, সেটাই দেখার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More