সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬

উন্নাওয়ের ধর্ষিতার জন্য হাসপাতালেই বসল কোর্ট, আনা হল অভিযুক্ত বিধায়ককেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো : একসময় উন্নাওয়ের ধর্ষিতার এফআইআর নিতে চায়নি থানা। কিন্তু বুধবার তার বক্তব্য শোনার জন্য দিল্লির এইমস হাসপাতালে গেলেন খোদ বিচারক। মেয়েটির জন্য হাসপাতালেই বসল আদালত। ধর্ষণে অভিযুক্ত বিধায়ক কুলদীপ সেনগারকেও সেখানে আনা হল।

গত জুলাই মাসে মেয়েটি গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হয়। তাদের গাড়িকে একটি ট্রাক ধাক্কা মারে। অভিযোগকারিণীর দুই পিসি মারা যান। সে নিজে এখন এইমস হাসপাতালে ভর্তি আছে। গত সপ্তাহে দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, ধর্ষিতার জন্য হাসপাতালেই স্পেশাল কোর্ট বসাতে হবে।

হাইকোর্ট খুব নির্দিষ্ট করে বলে, হাসপাতালে যখন শুনানি হবে, আহত মেয়েটিকে বিচারকের সামনে আনতে হবে ট্রলিতে চাপিয়ে। তার পাশে সবসময় উপস্থিত থাকবেন কোনও অভিজ্ঞ নার্স। শুনানির সময় সিসিটিভি বন্ধ রাখতে হবে। কিছুদিন আগে নিম্ন আদালতের এক বিচারক প্রস্তাব দিয়েছিলেন, নিগৃহীতার জন্য এইমসে বিশেষ আদালত বসানো হোক। তারপর সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি হাইকোর্টকে নির্দেশ দেয়, হাসপাতালে বিশেষ আদালত বসানোর জন্য সব ব্যবস্থা করতে হবে।

ধর্ষিতার পরিবারের অভিযোগ, জেলে বন্দি অবস্থায় কুলদীপ সেনগারই তাদের খুন করতে চেষ্টা করেছিলেন। সেই দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্ত শেষ করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইকে সম্প্রতি বাড়তি কিছুদিন সময় দিয়েছে।

অভিযোগকারিণী ২৮ জুলাই পরিবারের সঙ্গে উন্নাও থেকে রায়বরেলি যাচ্ছিল। এমন সময় একটি ট্রাক তাদের গাড়িতে ধাক্কা মারে। ট্রাকের নম্বর প্লেটের ওপরে কালো রং লাগানো ছিল। ১ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট উন্নাও ধর্ষণ সংক্রান্ত পাঁচটি মামলার শুনানি দিল্লির আদালতে করতে নির্দেশ দেয়। রোজ শুনানির জন্য এক বিশেষ বিচারপতিকে নিয়োগ করা হয়। নির্দেশ দেওয়া হয়, বিচার শেষ করতে হবে ৪৫ দিনের মধ্যে। অভিযোগকারিণীর পরিবারের জন্যও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

গত ১২ জুলাই অভিযোগকারিণীর পরিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে চিঠি লিখে বলে, সেনগার ও তাঁর সঙ্গীরা তাঁদের পক্ষে বিপদের কারণ হয়ে উঠছেন। গত একবছর ধরে নানাভাবে তাঁদের হেনস্থা করা হচ্ছে। বার বার বলা হচ্ছে মামলা তুলে নিতে।

দুর্ঘটনার পরে প্রথমে ধর্ষিতা কিশোরী ভর্তি হয়েছিল রায়বরেলি হাসপাতালে। পরে তাকে এইমসে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের একটি টিম তাকে দেখছে। ক্রিটিকাল কেয়ার, অর্থোপেডিকস, ট্রমা সার্জারি ও পালমোনারি মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে সেই টিম তৈরি হয়েছে।

Comments are closed.