‘বাঁচতে দাও, গয়না ফেরত দাও!’ আমরণ অনশনে কাঁথির দম্পতি, চরম অত্যাচারের অভিযোগ পরিবারের বিরুদ্ধে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: চড়া রোদে খাঁ খাঁ করছে চারদিক। তারই মধ্যে কাঁথিতে দিঘা বাইপাস জাতীয় সড়কের ধারে পোস্টার হাতে বসে আছেন এক দম্পতি। তাতে লেখা, “আমাদের বাঁচতে দাও, আমাদের গয়না ফেরত দাও।” জানা গেছে আমরণ অনশনে বসেছেন তাঁরা। ছেলের পরিবার তাঁদের বিয়ের সব গয়না কেড়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। এমন ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    তবে এই ঘটনার শিকড় বেশ গভীর। জানা গেছে, বাবা-মায়ের মতের বিরুদ্ধে প্রেমিকাকে বিয়ে করেছিলেন যুবক। কোনও রকমে হাতে-পায়ে ধরে বাড়িতে ঠাঁই হলেও, বৌয়ের বাড়ি থেকে দাবিমতো পণ না মেলায় বৌ ও ছেলেকে দিনের পর দিন শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে যুবকের বাবা ও মা।

    নববধূর অভিযোগ, তিনি পড়াশোনা করতে চাইলে শাশুড়ি তাঁর গায়ে হাতও তোলেন। শেষমেশ ছেলে ও বৌ দু’জনকেই বেধড়ক মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় কয়েক মাস আগে। শুধু তাই নয়, শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তাঁরা এত দিন ‘খাওয়ানো-পরানো’র মূল্য বাবদ বৌমার সমস্ত গয়নাগাঁটি কেড়ে নিয়েছেন। তার বাজার মূল্য প্রায় দশ লক্ষাধিক টাকা।

    এই অবস্থায় কোনও রকমে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসেন দম্পতি।কাঁথিতে একটি ঘরভাড়া করে থাকতেন তাঁরা। টিউশন করে সংসার কোনও রকমে চালাচ্ছিলেন। এই ভাবেই হয়তো নিজেদের জীবন গড়ে নিচ্ছিলেন তাঁরা।

    কিন্ত সমস্যা হল লকডাউনে। টিউশন বন্ধ। অন্য কাজকর্মেও সুযোগ নেই। চরম বিপাকে পড়ে ফের কয়েক দিন আগে বাড়িতে যান, ছেলে। তাঁর স্ত্রী গয়না ফেরত চান আবার। কিন্তু ফের মার খেতে হয় বাবা-মার হাতে। গয়না দেওয়া তো দূরের কথা, অভিযোগ, উল্টে তাঁরা ছেলের জামা, প্যান্ট, জুতো খুলে নেন। গত ১ জুলাই এই কাণ্ড ঘটার পরে রাতে ছেলেকে লাথি মেরে বাড়ি থেকে বার করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

    পরনের পোশাকও নেই। লজ্জা নিবারণের জন্য গায়ে কলাপাতা মুড়ে কোনও রকমে মন্দারমণি কোস্টাল থানার দ্বারস্থ হন ছেলে। খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রী-ও সেখানে গিয়ে পৌঁছন। অভিযোগ নেওয়ার আগে পুলিশ তাঁকে জামাকাপড় পরিয়ে খাওয়া-দাওয়া করায়।

    পরে পুলিশ অভিযুক্ত শ্বশুর-শাশুড়ির বাড়ি গেলে জানতে পারেন, তাঁরা ঘরে তালা দিয়ে কাঁথির বাড়িতে চলে গেছেন। কাঁথি থানায় সব জানানো হয়। কিন্তু দশ দিনের বেশি পার হয়ে যাওয়ার পরেও কোনও সুরাহা না হওয়ায় শেষমেশ আমরণ অনশনে বসেছেন দম্পতি। হাতে পোস্টার। গয়না ফেরত চাইছেন তাঁরা, এই অপমানের প্রতিকার চাইছেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বাবার নাম অনল দাস, তিনি সরকারি চাকরি করেন। মা অশ্রুকণা হাইস্কুলের শিক্ষিকা। তাঁদের ছেলের নাম মেহেবুব দাস। সুমিতা দাসকে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছেন মেহবুব। তার পরেই শুরু অশান্তি। এখন সব হারিয়ে পথঘাটই সম্বল তাঁদের। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত মা-বাবার সঙ্গে নাকি যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More