করোনাভাইরাস: চিন্তা বাড়াচ্ছে অন্য দেশগুলি! চিনের বাইরে আক্রান্ত ৮০ হাজার, মৃত অন্তত ৪০

চিনে মৃত্যু বেড়ে ২৭১৫। কিন্তু চিনের বাইরে হঠাৎই বেড়ে গেছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসে চিনের মৃত্যুসংখ্যা ছুঁতে চলেছে তিন হাজার। অসুখ সামাল দেওয়া দূরের কথা, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন অসুখে। কেবল মঙ্গলবার চিনে নতুন করে আরও ৪০৬ জন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, তাঁদের মধ্যে ৪০১ জনই হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। এক দিনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫২ জন। মৃতেরা সকলেই উহান শহরের বাসিন্দা। এই নিয়ে চিনে সরকারি ভাবে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২,৭১৫ জন। আক্রান্ত ৭৮ হাজার ৬৪ জন।

    এই অবস্থায় চিন্তা বাড়িয়েছে অন্য একটি বিষয়। করোনাভাইরাসের উৎস চিনের বাইরে হঠাৎই বেড়ে গেছে সংক্রমণের হার। এত দিন শুধু চিনে গুরুতর হলেও, এবার এর বাইরেও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এটি। চিনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। মারা গেছেন অন্তত ১১ জন। চিনের বাইরে সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছে ইরানে। সেখানে মারা গেছেন অন্তত ১৬ জন, আক্রান্ত ৯৫। বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৯৬৭ জন।

    ইতালিতে ৩৯৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ১১ জন। হংকংয়ে আক্রান্ত ৮৫, মৃত্যু ২ জনের। জাপানে আক্রান্ত ১৫৯, মৃত ১। সিঙ্গাপুরে ৯১ জন করোনায় আক্রান্ত। আমেরিকায় ৫৩ জনের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে। ব্রাজিলে ৬১ বছর বয়সি এক ব্যক্তির প্রাথমিক পরীক্ষায় নতুন করোনভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তিনি ইতালি থেকে ফিরেছেন সদ্য। এছাড়া, জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে কোয়ারেন্টাইনে রাখা জাহাজ ডায়মন্ড প্রিন্সেসের ৬৯১ যাত্রীর শরীরে প্রাণঘাতী নতুন ভাইরাস ধরা পড়েছে। ইতিমধ্যে জাহাজটির অন্তত চার যাত্রী মারা গেছেন।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বলছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। চিনের পর্যুদস্ত অবস্থার থেকেও চিনের বাইরের এই পরিসংখ্যান এখন অনেক বেশি করে ভীতিপ্রদ। কারণ চিন এই দু’মাসে এই রোগের সঙ্গে লড়াই করার জন্য যত দ্রুত প্রস্তুত হতে পেরেছে, অন্য দেশগুলির পক্ষে তা বেশ কঠিন। তার উপর এই ভাইরাস একবার কোনও নতুন জায়গায় গিয়ে থাবা বসালে, সে জায়গাকে সুরক্ষিত রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। সেইসঙ্গে যত দিন যাচ্ছে, ভাইরাসটির প্রকৃতিও তত দ্রুত বদলাচ্ছে। কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাপদ্ধতি।

    এই অবস্থায় হু-এর তরফে জানানো হয়েছে, এই ভাইরাস নিয়ে কেউ যেন রাখ-ঢাক না করেন। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ারই এক নাগরিককে নিয়ে আড়াল করার অভিযোগ উঠেছে সেখানকার স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, বহু সংক্রমণের খবর চেপে রাখার চেষ্টা করছে তারা। ইতিমধ্যেই কাউকে জানতে না দিয়ে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে কয়েকশো মানুষকে।

    হু-অর ডিরেক্টর টেড্রোস অ্যাডানোম গেব্রিয়েসাস এই অবস্থায় বলেছেন, এই মুহূর্তে তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রথমত, সব দেশকে নিজের স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বয়স্ক ও অন্য রোগে ভুগছেন, এমন ব্যক্তিদের এই মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা করার জন্য তাঁর আশবপাশের কমিউনিটিকে সচেতন করতে হবে। তৃতীয়ত, ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে রক্ষার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁর কথায়, “এখন আর এই অসুখের ভয় চিনের একার নয়, ভয় সকলের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে। সকলে মিলেই এর মোকাবিলা করতে হবে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More