একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ জন, দেশে করোনা-পজিটিভ মোট ৩৯৬, মৃত সাত

পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার পর্যন্ত সংখ্যাটা ছিল ৩১৫। শুধু রবিবারেই আরও ৮১ জন নতুন রোগীর খবর আসার পরে একলাফে সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৯৬! ভারতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর এই সংখ্যাটা মোটেই স্বস্তিদায়ক নয় আর। এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে সাত জনের। তবে ইতিমধ্যেই পুরোপুরি সুস্থও হয়ে উঠেছেন ২২ জন।

    তবে এই ভাইরাসকে যে আর কোনও ভাবেই সুযোগ দেওয়া যাবে না, তা সমস্ত প্রশাসনিক মহলের তৎপরতা দেখলেই বোঝা যায়। রাজ্যে রাজ্যে ইতিমধ্যেই লক ডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলাফেরাও নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিমানবন্দরগুলিও। ৩১ মার্চ পর্যন্ত রেল পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে রেলের তরফে।

    রবিবারই সারা দেশজুড়ে ১৪ ঘণ্টার ‘জনতা কার্ফু’র ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কার্ফু পালিতও হয় দিনভর। বিকেল পাঁচটায় দেশবাসী বারান্দায় বেরিয়ে এসে জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত কর্মীদের উদ্দেশে হাততালি দেন, ঘণ্টা বাজান। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

    রবিবার বিহারে মারা গেছেন ৩৮ বছরের এক ব্যক্তি। তাঁর বয়সই সবচেয়ে কম মৃতদের মধ্যে। কাতার থেকে ফিরেছিলেন তিনি। যদিও তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন, কিন্তু পরীক্ষা করে তাঁর শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। হতে পারে ক্যানসারের কারণে সহজে সংক্রামিত হয়েছিলেন তিনি। মুম্বইয়েও এক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে রবিবার। ৬৩ বছরের ওই ব্যক্তি শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার কারণে মারা গিয়েছেন।

    এখনও পর্যন্ত দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত মহারাষ্ট্রে, সেখানে সংখ্যাটা ৭৪। তার পরেই কেরলে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০। তার মধ্যে অবশ্য সাত জন বিদেশি নাগরিক। দিল্লিতেও করোনা আক্রান্ত ২৭ জন, তারমধ্যে একজন বিদেশি। ২৪ জন করোনা আক্রান্ত উত্তরপ্রদেশে, তারমধ্যে একজন বিদেশি। তেলেঙ্গানায় ২১ জন আক্রান্ত, তারমধ্যে ১১ জন বিদেশি নাগরিক। রাজস্থান ও হরিয়ানায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ জন। কর্নাটকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৫। পঞ্জাব এবং লাদাখে ১৩ জন করে করোনা আক্রান্ত। গুজরাতে ভাইরাস আক্রান্ত ৭ জন এবং কাশ্মীরে ৪। তামিলনাড়ু, অন্ধপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ডে তিনজন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। ওড়িশায় দুজন, পদুচেরি, ছত্তিশগড়, এবং চণ্ডীগড়ে একজন করে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত।

    ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা পেরিয়েছে ১৩ হাজার।

    এই পরিস্থিতিতে সমস্ত মানুষকেই সামাজিক ভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ সামাজিক ভাবে ছড়িয়ে পড়াতে শুরু করার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে করোনাভাইরাস। ইতিমধ্যেই এমন কয়েক জন আক্রান্ত হয়েছেন, যাঁরা সরাসরি বিদেশ থেকে ফেরেননি, অন্যের মাধ্যমে সংক্রামিত হন। অর্থাৎ আন্দাজ করা হচ্ছে, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন প্রায় শুরু হতে চলেছে এই ভাইরাসের। দেশের প্রতিটি রাজ্যই সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জিম, মিউজিয়াম, হোটেল, সামাজিক জমায়েতের বিভিন্ন কেন্দ্র, সুইমিং পুল, সিনেমা হল বন্ধ রাখছে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। বাস পরিষেবাও বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে একাধিক রাজ্য।

    দিল্লিতেও জমায়েত বা ভিড় এড়াতে সোমবার কয়েক ঘণ্টা ছাড়া বাকি সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে মেট্রো পরিষেবা। সম্পূর্ণ বন্ধ দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত এলাকা কনট প্লেস। ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেছে পঞ্জাব এবং রাজস্থান। সমস্ত গণপরিবহন ব্যবস্থাও বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে শপিং মল ও দোকানপাট। গুজরাতের আমেদাবাদ, সুরাত, রাজকোট এবং ভদোদরা বুধবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More