করোনাভাইরাস: মৃত্যু ছুঁল দেড় হাজার, সুস্থও হলেন চার হাজার! প্রশংসার ঊর্ধ্বে লড়ে চলেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: যত দিন যাচ্ছে, পরিস্থিতি যেন তত হাতের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে। দু’দিন আগেই চিন জানিয়েছিল, করোনাভাইরাসে মৃত্যুমিছিল বাড়লেও আশার আলো একটাই, যে করোনাভাইরাস আক্রান্ত বেশ কিছু রোগী সেরেও উঠছেন। এর পরেই আশঙ্কা বাড়িয়ে মার্কিন গবেষক দাবি করেছিলেন, করোনাভাইরাস ইতিমধ্যেই জিনের পরিবর্তিন ঘটিয়ে ফেলেছে। ফলে তার মোকাবিলা আরও কঠিন হতে চলেছে। সে কথাই বোধহয় সত্যি হল। তাই চিনের জ্বালানো আশার আলো নিভিয়ে দিচ্ছে পরিসংখ্যান। আজ, শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী চিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০০।

    চিনের স্বাস্থ্যকর্তারা যদিও দাবি করেছেন, হুবেই প্রদেশে আক্রান্তের হার কমেছে। গত কাল যেখানে জানানো হয়েছিল যে, আগের দিন বুধবার ২৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে আজ জানানো হলো গত কাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ১১৬ জন মারা গেছেন। পাশাপাশি বুধবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছিলেন ১৪ হাজার ৮৪০ জন। সেখানে বৃহস্পতিবারের সংখ্যাটা ৪৮২৩ জন। গোটা চিন জুড়ে আক্রান্তের এই সংখ্যাটা ৬৫ হাজার। উল্টোদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চার হাজারের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

    তবে ভয়ের বিষয় হল, চিনের বাইরে গোটা বিশ্বজুড়ে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন। চিনের বাইরে ২৪টি দেশে এ পর্যন্ত ৪৪৭ জনের শরীরে ভাইরাস নিশ্চিত হয়েছে। মারা গেছেন দু’জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, চিন নয়, চিনের বাইরের দেশগুলিই এখন আতঙ্কের বড় কারণ।  ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অসুখের নাম দেওয়া হয়েছে, কোভিড-১৯।

    চিনের পরে সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হিসেবে করোনা-আক্রান্ত হতে শুরু করেছে জাপান। জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, জাপানের উপকূলবর্তী এলাকা কানাগাওয়াতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৮০ বছরের এক মহিলার। নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। পরে দেখা যায় ওই মহিলা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত। স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা বলছেন, ওই মহিলা কখনও চিনে যাননি। অথচ তাঁর শরীরে সংক্রমণ ঢুকল কীভাবে সেটাই চিন্তার বিষয়।

    জাপানের আরও কয়েকজায়গা থেকে ভাইরাস আক্রান্তরদের খবর মিলেছে। সংক্রমণ সন্দেহে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ডজনখানেক রোগী। জাপানের ইয়োকোহোমার কাছে কোয়ারেন্টাইন করা জাহাজেও বাড়ছে সংক্রামিতের সংখ্যা। জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, অন্তত ২০০ জন ভাইরাস আক্রান্ত ডায়মন্ড এক্সপ্রেস জাহাজে।

    এসবের মধ্যেই আতঙ্কের আবহে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। যেহেতু চিনের উহান শহরে এ অসুখের আক্রমণ সবচেয়ে বেশি, তাই সেখানেই তাঁরা সবচেয়ে বেশি কাজ করছেন। প্রতিদিন অসংখ্য আক্রান্তকে হাসপাতালে পৌঁছনো থেকে শুরু করে চিকিৎসার কাজে জান লড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁরা।

    জো নামের এক স্বেচ্ছাসেবী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে জানিয়েছেন, “আমরা আসলে কিছু ভাবার সময় পাইনি। সব কিছুই আচমকা ঘটতে শুরু করল। আমাদের জীবন স্বাভাবিকই ছিল। এমনকি এই অসুখ প্রাদুর্ভাবের শুরুতেও আমরা স্বাস্থ্যকর্মীরা ভোর ছ’টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিরামহীন সেবা দিয়েছি, আমাদের কিছু মনে হয়নি। এখন গোটা শহর অবরুদ্ধ। কোনও যানবাহন চলছে না। দু ঘণ্টার বেশি সাইকেল চালিয়ে কাজে আসতে হচ্ছে। এই শীতে খুবই কষ্টের। নিজেদের বাঁচা-মরা নিয়ে আর ভাবছি না আমরা। যন্ত্রের মতো খেটে চলেছি। এটাই আমাদের কাজ।”

    এই অবস্থায় কিছু পরিবহণকর্মী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁরা গুটিকয়েক গাড়ি চালাবেন শুধু এই স্বেচ্ছাসেবীদের যাতায়াতের জন্য। কয়েকটি রেস্তরাঁও উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী স্বাস্থ্যকর্মীদের খাবারের জন্য বিনামূল্যে ব্যবস্থা করবে বলে। সকলেই জানেন, যাঁরা সংক্রমিতদের চিকিৎসা করছেন তাঁদের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি, তাঁদের সঙ্গে মেলামেশাও নিরাপদ নয়, কিন্তু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঊর্ধ্বে পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা।

    জো আরও বলেছেন, “আমরা ট্রেনিংয়ের সময়েই শিখেছিলাম, যে কোনও সংক্রামক অসুখে পরিষেবা দেওয়ার সময়ে আমাদের নিজেদের সুরক্ষা সবার আগে। তাই উপযুক্ত পোশাক, চশমা আর সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করছিলাম আমরা প্রথম থেকেই। এখন অবশ্য সরকারের তরফে প্রোটেক্টিভ স্যুট দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন একাধিক বার স্নান করছি, পোশাক ধুয়ে ফেলছি জীবাণুমুক্ত করার জন্য।”

    জো-দের জন্য আসলে কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। সেবা করাটা তাঁদের কাজ হলেও, নিজেকে সুরক্ষিত রাখাটা সকলেরই অধিকারের মধ্যে পড়ে। সেসব কথা ভাবছেনই না তাঁরা। জো বলছেন, “উহানেই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তিন প্রজন্ম ধরে আমার পরিবার এখানে বাস করছে। শহরটাকে আমি ভালবাসি। আমি এখনও সুস্থ আছি, সক্ষমতা আছে আমার। আমি নিজেই এ কাজ বেছে নিয়েছি। কোথায় যাব এ বিপদ ফেলে! বরং আরও বেশি করে জোট বেঁধে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে আমাদের। আমরা সকলের সহযোগিতা চাইছি। তবেই আমরাও আমাদের সেরাটা দিয়ে কাজ করতে পারব।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More