‘করোনা কবচ’ বিমা জনপ্রিয় হচ্ছে দেশে, কোভিড চিকিৎসার খরচ মেটাতে অনেক সুবিধা পলিসিতে

সাধারণ স্বাস্থ্য বিমায় হাসপাতালে ভর্তি না হলে কভারেজ পাওয়া যায় না। কিন্তু করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষ এই বিমায় সেই সুবিধাও রয়েছে।

২০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগও। অনেকের মধ্যেই কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসার খরচ নিয়ে চিন্তা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভরসা বাড়ছে করোনা কবচ বিমা প্রকল্পের উপরে। ফলে এই বিমার বিক্রি বাড়ছে।

দেশের সব বিমা সংস্থাই কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য এই প্রকল্প বাজারে আনে। এখন সেই প্রকল্প Policybazaar.com ওয়েবসাইট থেকেও কেনা যাচ্ছে। পলিসিবাজারের স্বাস্থ্য বিমা বিভাগের প্রধান অমুত ছাবড়া জানিয়েছেন, “যবে থেকে এই বিমা প্র‌কল্প পলিসিবাজারের ওয়েবসাইটে এসেছে তবে থেকেই বিপুল চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ বিমা বিক্রি হচ্ছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, বেশি করে কমবয়সীরা এই প্ল্যান কিনছেন। তাঁর দাবি, মাসে ২০৮ টাকাও প্রিমিয়াম দেওয়া যায় এই পলিসিতে। প্রিমিয়াম অত্যন্ত কম এবং অনেকেরই সাধ্যের মধ্যে বলেই এত চাহিদা। দেশের যে সব রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বেশি সেখানেই বেশি চাহিদা বলে জানিয়েছেন ছাবড়া। তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, দিল্লির মানুষ বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”

আরও পড়ুন

ইলেকট্রিক বিলের অতিরিক্ত টাকা এখন জমা দিতে হবে না, চাপের মুখে পিছু হটল সিইএসসি

এই পলিসির চাহিদা নিয়ে একই অভিজ্ঞতা এসবিআই জেনারেল ইন্সিওরেন্স কোম্পানির। সংস্থার পক্ষে সুব্রহ্মনিয়ম ব্রহ্মজসুলা বলেন, “এই পলিসিতে গোটা পরিবারকেও একসঙ্গে যুক্ত করা যায়। এটা একটা বড় সুবিধা। সেই সঙ্গে পলিসিহোল্ডারদের হা‌সপাতালের খরচ ছাড়াও প্রতিদিন ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত নগদ পাওয়ার সুবিধা রয়েছে।”

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর পরই এমন স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প আনার নির্দেশ দিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইআরডিএ। এর পরে গত ১০ জুলাই দেশের ২৯টি সাধারণ ও স্বাস্থ্য বিমা সংস্থা এই পলিসি বাজারে আনে। শূন্য থেকে ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত ব্যক্তিদের জন্য এই পলিসি কেনা যায়। এর সর্বনিম্ম মেয়াদ সাড়ে তিন মাস এবং সর্বোচ্চ সাড়ে ন’মাস। বিমার অঙ্ক হতে পারে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। এমনিতে যে সব সাধারণ স্বাস্থ্য বিমা রয়েছে তাতেও করোনা চিকিৎসায় সুবিধা মেলে। কিন্তু করোনা কবচ প্রকল্পে বাড়তি কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থায় শর্ত ও প্রিমিয়ামে ফারাক থাকলেও সাধারণ স্বাস্থ্য বিমার থেকে এতে খরচ অনেকটাই কম। কারণ, পলিসির মেয়াদ কম।

সাধারণ স্বাস্থ্য বিমায় হাসপাতালে ভর্তি না হলে কভারেজ পাওয়া যায় না। কিন্তু করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষ এই বিমায় সেই সুবিধাও রয়েছে। তবে বাড়িতেই চিকিৎসা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে করোনা সংক্রমণের প্রমাণ দাখিল করতে হবে। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা হলে তার আগের ১৫ দিন ও ছুটির পরে ৩০ দিনের চিকিৎসা খরচের টাকাও পাওয়া যাবে। এই পলিসির আওতায় স্বামী-স্ত্রী তো বটেই সেই সঙ্গে বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত নির্ভরশীল সন্তানদের যুক্ত করা যায়।

এছাড়াও একটি সুবিধা রয়েছে করোনা কবচ বিমা প্রকল্পে। হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসার সময়ে যেহেতু রোগী কোনও আয় করতে পারবেন না সেই কারণে প্রতিদিন নগদ টাকা পাওয়ারও সুবিধা রয়েছে। এই টাকাটা হবে বিমা করা অঙ্কের ০.৫ শতাংশ। সেটা আবার সর্বাধিক ২,৫০০ টাকা। তবে এর জন্য প্রিমিয়ামের অঙ্ক বাড়বে। এটা পাওয়া যাবে ১৫ দিনের জন্য।

ইফকো টোকিও জেনারেল ইন্সিওরেন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত মণ্ডল জানিয়েছেন, বেশির ভাগ ক্রেতাই সাড়ে ন’মাসের জন্য পলিসি কিনছেন। কারণ, তাঁরা মনে করছেন এই মহামারী আরও কিছুদিন থাকবে। তবে সব সংস্থাই বলছে, শুধু এই পলিসিটাই নয়, করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পরে দেশে সব রকমের স্বাস্থ্য বিমা কেনার ব্যাপারে সচেতনতা বেড়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More