দিনে পুলিশ, রাতে শিক্ষক বিনোদ পড়ান রাস্তার আলোতেই

রাজ অবশ্য বিনোদ দীক্ষিতের প্রথম ছাত্র নয়। এর আগে ধর ও রতলমে যখন তাঁর পোস্টিং ছিল তখনও অন্য পড়ুয়াদের জন্য এই ভাবেই সময় বের করতেন তিনি। বিনোদ জানিয়েছেন, কেউ পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে জানলে তিনি এগিয়ে যান সাহায্য করার জন্য।

৩১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ল্যাম্পপোস্টের আলোতেই চলে স্কুল। চেয়ার, টেবল নয়, পুলিশ জিপের বনেটেই খাতা-বই রেখে লেখাপড়া। একজনই পড়ুয়া। আর শিক্ষকও একজন। সেও আবার খাঁকি উর্দি পরা। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের কাছে পলাশিয়ায় এমন দৃশ্য অনেকেরই চোখে পরে কিছুদিন ধরে। পরে জানা যায় কাহিনি। দিনের পর দিন এক গরিব পরিবারের শিশুর স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে এমনটা করে চলেছেন পুলিশ অফিসার বিনোদ দীক্ষিত। ছাত্রের নাম রাজ।

আরও পড়ুন

আত্মহত্যার চেষ্টা দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিজয়লক্ষ্মীর, ভিডিও বার্তায় অভিযোগ সহ-অভিনেতার দিকে

বেশিদিনের পরিচয় নয়। এই লকডাউনের আলাপ। গরিব ঘরের রাজের বয়স ১২-র আশপাশে। মনে স্বপ্ন, বড় হয়ে যে পুলিশ অফিসার হবে। এই লকডাউনের সময়ে পুলিশের কাজ দেখেই এই পেশার প্রতি ভালবাসা তৈরি হয়। পুলিশকাকু বিনোদ দীক্ষিতের কাছে সেই ইচ্ছার কথা জানায় সে। আর সেই জানানোতেই কাজ হয়ে যায়। রাজের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়ে নেন ‘চাচাজি’ বিনোদ দীক্ষিত। সেই থেকে পুলিশের ডিউটি সামলে সময় পেলেই চলে আসেন রাজকে পড়াতে। আর সেটা বেশির ভাগ সময়েই হয় রাতের দিকে। কাজের শেষে স্ট্রিট লাইটের আলোতেই চলে স্কুল।

লকডাউনের সময়ে একদিন পেট্রোলিংয়ের জন্য রাজের বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় এসেছিলেন পলাশিয়ার স্টেশন হাউস অফিসার বিনোদ দীক্ষিত। তিনি জানিয়েছেন, “রাজ যে জায়গায় থাকে সেটা খুবই গোলমেলে এলাকা। ওখানেই পেট্রোলিং করার সময়ে রাজ এসে বলে বড় হয়ে সে পুলিশ অফিসার হতে চায়। এর জন্য লেখাপড়া করার ইচ্ছা থাকলেও বাড়ি থেকে টিউশন রাখার অবস্থা নেই।” রাজের বাবা শ্রমিকের কাজ করেন। আর দাদুর একটা রাস্তার ধারে দোকান আছে। রাজ বলে, “লকডাউনের সময়ে আমি দেখেছি পুলিশরা কী ভাবে মানুষের জন্য কাজ করছেন। সেসব দেখেই আমার ইচ্ছা হয় পুলিশ হওয়ার। আমি সেই ইচ্ছার কথাই আঙ্কলজিকে বলেছিলাম। তারপরে উনি আমায় পড়াতে রাজি হয়ে যান।”

গুরু বিনোদ আর শিষ্য রাজের লেখাপড়ার লড়াইটা কম নয়। কোথায় পড়াশোনা হবে সেটাই ছিল বড় চিন্তা। এখন কাছেই একটা এটিএম-এর সামনে কিংবা পুলিশ জিপের বনেটেই চলে পাঠ। রাজ এখন মন দিয়ে অঙ্ক আর ইংরেজি শিখছে। জানিয়েছেন, উর্দিধারী মাস্টারমশাই বিনোদ দীক্ষিত। তিনি বলেন, “আমায় দেখলেই রাজ চলে আসে। যেখানেই আলো থাকে সেখানেই বসে কিংবা দাঁড়িয়ে পড়া বুঝে নেয় রাজ।”

রাজ অবশ্য বিনোদ দীক্ষিতের প্রথম ছাত্র নয়। এর আগে ধর ও রতলমে যখন তাঁর পোস্টিং ছিল তখনও অন্য পড়ুয়াদের জন্য এই ভাবেই সময় বের করতেন তিনি। বিনোদ জানিয়েছেন, কেউ পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে জানলে তিনি এগিয়ে যান সাহায্য করার জন্য।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More