আধাসেনা মোতায়েন মানছি না! সমাবর্তনের আগের দিন রাষ্ট্রপতিকে খোলা চিঠি ছাত্রদের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত পোহালেই সোমবার সকালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসব। সেই উপলক্ষেই রাষ্ট্রপতি তথা বিশ্বভারতীর পরিদর্শক রামনাথ কোবিন্দ রবিবার অন্ডাল বিমানবন্দরে নেমে হেলিকপ্টারে চড়ে পাড়ি দেন বিশ্বভারতীর উদ্দেশে।

    কিন্তু তিনি শান্তিনিকেতনের মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই অশান্তির মুখে পড়েন। বিশ্বভারতীর এক ছাত্র সংগঠনের তরফে খোলা চিঠি ধরানো হয়। ওই সংগঠনের দাবি, বিশ্বভারতীর মুক্ত শিক্ষাঙ্গনে বন্দুকধারী আধাসেনা নিয়োগ করার যে সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা প্রত্যাহার করা হোক।

    এই ব্যাপারে ডিএসও ছাত্র সংগঠনের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সুদাম সুহা বলেন, “আমরা রাষ্ট্রপতি তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শককে খোলা চিঠিতে জানিয়েছি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুক্ত শিক্ষাঙ্গনে সিআইএসএফ মোতায়েনের আগে ছাত্রছাত্রীদের কাছে কোনও মতামত নেওয়া হয়নি। তাছাড়া এমন সেনা মোতায়েন রবীন্দ্র-আদর্শ বিরোধী, ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থের বিরোধী। ভবিষ্যতে ছাত্র-ছাত্রী স্বার্থ সম্পর্কিত যে কোনও আন্দোলনকে বন্দুক দিয়ে দমিয়ে দেওয়া হবে। বন্দুক আর বেয়নেট যেখানে শেষ কথা বলবে, সেখানে সুষ্ঠ আলোচনার জায়গা থাকে না।”

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই ক্যাম্পাসজুড়ে সিআইএসএফ নিয়োগের দাবিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকে চিঠি লিখেছিলেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। ওই চিঠিতে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য লিখেছিলেন, “যেসব বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে কাজ করেন, তাঁরা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বশংবদ। ফলে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা আধিকারিকের নির্দেশ মান্য করেন না। এর ফলে তাঁদের কাজে কোনও গাফিলতি থাকলেও কোনও পদক্ষেপ করা যায় না। কারণ তাঁদের কোনও শাস্তি দেওয়া হলে বা তাঁদের সরানো হবেই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁদের হয়ে কথা বলেন। তাই নিরাপত্তার বিষয়ে আপস করে চলতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। তাই এই পরিস্থিতে বিশ্বভারতীর নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে সিআইএসএফ বাহিনী নিয়োগ করা হোক।”

    এই ঘটনার বিরোধিতা করে, সমাবর্তনের আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জুড়ে পোস্টার ফেলেন ছাত্রছাত্রীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মিসভাও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে।

    কর্মী সংগঠনের সভাপতি গগন সরকার এ বিষয়ে বলেন, “যেখানে কর্মীদের বকেয়া মেটাতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানে সিআইএসএফ মোতায়েনের জন্য কয়েক লক্ষ টাকা কেন মাসে ব্যয় করা হবে?” একই ভাবে পড়ুয়াদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে স্কলারদের বকেয়া টাকাও দিতে পারছে না, সেখানে এই বাহুল্য কোথা থেকে আসে!

    ছাত্রছাত্রীদের ভিতরে পুঞ্জীভূত এই ক্ষোভ আগাম আন্দাজ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আগামী কালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রতিটি বিভাগ থেকে মাত্র চার জন করে পড়ুয়া মঞ্চে উঠে ছাতিমপাতা নিতে পারবেন। সকলের নামে কার্ড ইস্যু করা হলেও, সকলকে মঞ্চে উঠতে দেওয়া হবে না। একমাত্র যাদের ফল বিশেষ রকম ভাল হয়েছে, তাদের হাতে উপাচার্য সপ্তপর্ণী তুলে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীদের কাজে গাফিলতি রয়েছে। ফলে চুরি যাচ্ছে মহামূল্যবান চন্দন গাছ। তারপরেই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক থেকে আধাসেনা নিয়োগ মঞ্জুর করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর আগেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস দেওয়াল দিয়ে ঘেরার সময়ে প্রাক্তন উপাচার্য সুশান্ত দত্তগুপ্তের আমলে ঘোর সমালোচনা হয়। অভিযোগ ওঠে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুক্ত অঙ্গনকে দেওয়াল দিয়ে অবরুদ্ধ করা হচ্ছে।

    এবার ফের মুক্ত অঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করে অচলায়তন গড়ার অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এমন তপ্ত পরিবেশেই পালিত হতে চলেছে বিশ্বভারতীর ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। ফলে সোমবার যাতে কোনও ভাবেই রাষ্ট্রপতির সামনে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সচেষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ।

    আরও পড়ুন…

    তৃণমূল নাক গলাচ্ছে, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় আধাসেনা দিন! স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চিঠি বিশ্বভারতীর উপাচার্যের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More