মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

না জানিয়ে ভ্যানিশ রাহুল, জানা গেল বিলেতে

শমীক ঘোষ: বাংলা জানুন, আর নাই জানুন, কংগ্রেসের সিনিয়র নেতাদের মনের ভাবে যেন এখন রবীন্দ্রসঙ্গীতের কলি। ‘না, না, না, ও যে মানে না মানা।’

কাকে নিয়ে? না খোদ রাহুল গান্ধী। কাকপক্ষীকেও খবর না দিয়ে, চুপি চুপি তিনি যে আবার বিলেতে ছুটি কাটাতে চলে গিয়েছেন।

এখনও নির্ঘন্ট ঘোষণা হয়নি লোকসভা ভোটের। তবে, বেজে উঠেছে ভোটের ঢাক। আজই যোগী আদিত্যনাথকে পাশে নিয়ে রামমন্দির ন্যাসের এক নেতা জানিয়ে দিয়েছেন আসন্ন ভোটের আগেই তৈরি করে দেওয়া হবে রামমন্দির।

কাশ্মীরে পিডিপির সঙ্গে জোট সরকার ফেলে দিয়েছে বিজেপি। শোনা যাচ্ছে সেখানে জঙ্গি দমনে বিরাট অভিযান করবে কেন্দ্র।

দেওয়াল লিখন স্পষ্ট, ভোট পেতে সোজাসাপটা দেশপ্রেমের কড়া দাওয়াই আর মেরুকরণের রাজনীতির ফায়দা তুলতে কোনও ফাঁক রাখতে রাজি নয় বিজেপি।

সংগঠনকে চাঙ্গা করতে দেশের এই প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত অবধি চষে ফেলছেন অমিত শাহ।

প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে চোখ রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে মায়াবতীর মতো অনেকেই। এই তো আজকেই শুভেন্দু অধিকারী বলে দিলেন, ২০১৯ এ লোকসভার রাশ দিদির হাতেই।

থেমে নেই দেশের রাজনীতির তরুণ তুর্কিরাও। রোজই তো গরমাগরম মন্তব্য করে বাজার গরম রাখছেন তেজস্বী যাদব।

আর তিনি? রাহুল গান্ধী? কর্নাটকের ভোটের ঠিক আগে যিনি সবাইকে জানিয়ে দিলেন যে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চান। সেই তিনি আবার ভ্যানিশ।

জানা যাচ্ছে, জুনের ২২ তারিখেই বিলেতে চলে গিয়েছেন রাহুল। ফিরবেন জুলাইয়ের ২ তারিখ।

জুনের ১৯ তারিখে জন্মদিন ছিল রাহুলের। অন্য বছর জন্মদিন কাটাতেই বিদেশ যান তিনি। এই বছর ক’দিন পরে গিয়েছেন।

দিল্লির রাজনীতির এক কুশীলব রসিকতা করে বলেই বসলেন, এখন উনি কংগ্রেস সভাপতি তো, তাই ক’দিন দেরি করে গেলেন।

২০১৪ সালে ভোটের ঠিক আগে মিডিয়ার সামনে নাস্তানাবুদ হয়েছিলেন রাহুল। দেশজুড়ে কংগ্রেস বিরোধী প্রচারবাহিনী তাঁর নামই দিয়ে দিয়েছিল ‘পাপ্পু’। লোকসভা ভোটেও ভরাডুবি হয়েছিল কংগ্রেসের।

চার বছর পর, বিজেপির পালে এখন ভাটা। বিরোধীদের সম্মিলিত শক্তির কাছে উত্তরপ্রদেশে টলমল করছেন যোগী। তাঁকে বেকায়দায় পেয়ে মুখ খুলে বসেছেন বিজেপি ঘনিষ্ঠ বাবা রামদেবও।

কর্নাটকেও বিরোধীরা আটকে দিয়েছে বিজেপির জয় রথ। মানুষের কাছে একটু একটু করে বদলাচ্ছে রাহুল গান্ধীর ইমেজ। কারণে অকারণে আক্রমণ করে বিজেপিও ক্রমশ গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে তাঁকে।

এর মধ্যেই জানা গিয়েছে নোটবন্দীর সময়ে সব থেকে বেশি টাকার বাতিল নোট জমা পড়েছে আহমেদাবাদের সমবায় ব্যাঙ্কে। যার ডিরেক্টর খোদ অমিত শাহ।

এখন কোথায় সংগঠন শক্ত করতে দেশে বসে থাকবে রাহুল। চেষ্টা করবেন প্রতিটা ইস্যুতে বিজেপিকে বিপাকে ফেলতে।

সে সব না করে, তিনি চলে গেলেন বিদেশে বেড়াতে। চুপচাপ। কাউকে না জানিয়ে।

পোড়খাওয়ারা বলেন, রাজনীতি আসলে ২৪ ঘন্টা, ৩৬৫ দিনের কাজ। সেই কাজে ছুটি নেওয়া যায় না। ভারতের রাজনীতির অনেকের কাছেই এই ব্যাপারে সব থেকে ভালো উদাহরণ খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

তাঁর স্বঘোষিত চ্যালেঞ্জার রাহুল সে পথে না হেঁটে, চলে গেলেন ছুটিতে। কাউকে না জানিয়ে। চুপি চুপি।

Leave A Reply