সোমবার, মে ২৭

মোদীর গড়ে কংগ্রেসের স্ট্র্যাটেজি বৈঠক, ভাষণ দেবেন প্রিয়ঙ্কাও

দ্য ওয়াল ব্যুরো : লোকসভা ভোটে কীভাবে বিজেপিকে মোকাবিলা করা হবে, তা স্থির করতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গুজরাতেই চিন্তন বৈঠকে বসছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার আমেদাবাদে ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, ইউপিএ-র চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সহ কংগ্রেসের প্রায় প্রত্যেক শীর্ষস্থানীয় নেতা। থাকছেন সদ্য রাজনীতিতে পা রাখা প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা এদিন প্রথমবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ভাষণ দেবেন। তাঁকে সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে ৪১ টি কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাতিদার আন্দোলনের নেতা হার্দিক পটেল এদিন রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে কংগ্রেসে যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে।

দু’দিন আগেই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তার পরে এদিন বৈঠকে বসে দলের নির্বাচনী কৌশলকে চূড়ান্ত রূপ দিতে চলেছে কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি। বৈঠক চলবে দিনভর। একটি সূত্রের খবর, মহাত্মা গান্ধী ও সর্দার পটেলের গুজরাত থেকেই কংগ্রেস সারা দেশের উদ্দেশে একটি বিশেষ বার্তা দিতে চায়।

কয়েকদিন আগেই কংগ্রেসের এই চিন্তন বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জঙ্গি হানা ও তার পরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বৈঠক পিছিয়ে যায়। গুজরাত প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজীব সাতাভ বলেন, ১৯৬১ সালে শেষবার গুজরাতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক বসেছিল। তার ৫৮ বছর বাদে ফের ওই বৈঠক বসছে। ১৯৩০ সালের ১২ মার্চ গান্ধীজি গুজরাতের ডান্ডি থেকে লবণ সত্যাগ্রহ শুরু করেছিলেন। এদিন সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকেও স্মরণ করা হবে।

এই প্রসঙ্গে সাতাভ বলেন, মহাত্মা গান্ধীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে কংগ্রেস নতুন করে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করবে। এবারের সংগ্রাম হল গণতন্ত্রকে রক্ষা করার সংগ্রাম।

ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শুরুর আগে এদিন কংগ্রেস নেতারা সবরমতীতে গান্ধী আশ্রমে গিয়ে প্রার্থনা করেন। পরে তাঁরা শহিদ সৈনিকদের স্মারক স্তম্ভে মালা দেন। পরে সর্দার পটেল ন্যাশনাল মেমোরিয়াল হলে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক বসে। এদিন বিকালে গান্ধীনগরে জন সংকল্প সমাবেশেরও আয়োজন করেছে কংগ্রেস।

গুজরাতে দীর্ঘকাল ধরে কংগ্রেসের সংগঠন খুবই দুর্বল। রীতিমতো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছে দলের অভ্যন্তরে। এদিন কংগ্রেস সেজন্য দোষ দিয়েছে বিজেপিকে। তাদের অভিযোগ, দল ভাঙানোর খেলায় নেমেছে বিজেপি। একটি সূত্রে খবর, লোকসভা ভোটের আগে গুজরাতে কংগ্রেসের আরও কয়েকজন নেতা বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন।

 

Shares

Comments are closed.