শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

প্ল্যাটফর্মে চা বেচতেন, জল পেতেন কোথায়? মোদীকে কংগ্রেস

  • 261
  •  
  •  
    261
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোদ্দর ভোটের কথা মনে পড়ে! প্রশান্ত কিশোরের মতো ব্র্যান্ড ম্যানেজারদের ভাড়া করে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল গান্ধীকে পাপ্পু বানিয়ে ছেড়েছিলেন মোদী-শাহ। কেন্দ্রে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বোঝা কাঁধে নিয়ে রাহুলও তখন উত্তর দিতে গিয়ে থতমত খেয়ে যেতেন!

কিন্তু কে পরামর্শ দিচ্ছেন কে জানে! সেই রাহুলই এখন চৌখস। দলকে বলে দিয়েছেন, মুখ সামলে কথা বলার দিন শেষ! এ বার কথার পীঠে কথা হবে! হচ্ছেও তাই।

যেমন হলো শনিবার। ছত্তীসগড়ে প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাহুলকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, জলের পাইপ লাইন কি তোমার দাদু-দিদা বা নানা-নানি পেতেছিলেন? সেই সঙ্গে নেহরু-গান্ধী পরিবারকে খোঁচা দিয়ে মোদী বলেছিলেন, কংগ্রেসে গণতন্ত্র নেই। থাকলে গান্ধী পরিবারের বাইরে কোনও ভাল নেতা দলের সভাপতি হতেন!

ব্যস! শনিবার সকাল থেকে বাক্যবাণে যেন মোদীকে ঝাঁঝরা করে দিতে চাইল কংগ্রেস। সাত সকালে কংগ্রেসের পোড় খাওয়া নেতা তথা দুঁদে আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, “স্টেশনে চা বেচতেন শুনেছি। জল কোথা থেকে পেতেন শুনি!” স্টেশনে পাইপ কার দাদু পেতেছিলেন সে প্রশ্ন না তুলে কপিল বলেন,“জওহরলাল নেহরু আধুনিক ভারতের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। শিল্পোন্নত দেশ হিসাবে ভারতকে গড়ে তোলার নেপথ্যে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু আপনাদের দাদু-দিদা বা নানা-নানি তো ব্রিটিশের খোচর ছিলেন।

কপিল যেখানে শেষ করেন, সেখান থেকে শুরু করে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। তিনি বলেন, মোদীজি এক কাজ করুন, নিজের স্মৃতিকে একটি নাড়াচাড়া দিন। দেখবেন সব মনে পড়বে। ১৯৪৭ সালের পর থেকে আচার্য কৃপালানি, পট্টবি সীতারামাইয়া, পুরুষোত্তমদাস ট্যান্ডন, জগজীবন রাম, শঙ্কর দয়াল শর্মার মতো নেতারা কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

চিদম্বরমের কথায়, “স্বাধীনতার পর বাবা সাহেব ভীম রাও অম্বেদকর, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, কামরাজ, মনমোহন সিংহ সহ এতো বড় মাপের সব মানুষ কংগ্রেসের সঙ্গে জুড়েছেন যে আমরা গর্বিত। স্বাধীনতার আগে এমন হাজারো মানুষ কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু সে সব কথা ছাড়ুন। আপনি এসবে সময় নষ্ট করে বলুন, রাফাল কেলেঙ্কারিতে কত টাকার দুর্নীতি হয়েছে, নোটবন্দির ফলে কত মানুষের রোজগার লাটে উঠেছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারলেন না কেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে আপনার সরকারের সংঘাত হচ্ছে, কেনই বা গৃহযুদ্ধ চলছে সিবিআইতে, গোরক্ষা-রোমিও স্কোয়াড-কৃষক আত্মহত্যা এ সব নিয়ে জবাব দিন।”

ঘটনা হল কংগ্রেস এ সব বলার পর এ দিন গেরুয়া শিবির থেকে পাল্টা কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীও এক দিনের জন্য মালদ্বীপে গিয়েছেন। রবিবার প্রচারে গিয়ে তিনি নতুন কি বলেন এখন সেটাই দেখার!

 

Comments are closed.