শনিবার, জুলাই ২০

অধীর মানেই লড়াই, বহরমপুরের নেতা থেকে লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহরমপুরের নেতা অধীর চৌধুরী। সাত বছর আগেই রেলের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছেন। তবুও তাঁর পরিচয় বহরমপুর, বড় জোর মুর্শিদাবাদের নেতা হিসেবেই থেকে গিয়েছে। আসলে কংগ্রেস যতই ক্ষয়িষ্ণু হোক, নিজের এলাকায় নিজের দলকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে একা কুম্ভের ভূমিকায় তিনি অদম্য। এবার তারই পুরস্কার পলেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। বহরমপুরের নেতা এখন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা। রাহুল নয়, ‘রবিনহুড’ অধীরকেই বেছে নিয়েছেন সনিয়া গান্ধী।

রাজ্যে যখন মূল লড়াইটাই ঘাসফুল বনাম পদ্মের তখনও হাত-এর মুখ রক্ষা হয়েছে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বহরমপুর লোকসভা আসন কংগ্রেসের দখলে রেখেছেন তিনি। পাঁচ বছর আগে গোটা দেশে কংগ্রেস যখন ৪৪ আসনে নেমে গিয়েছে, তখনও সাড়ে তিন লক্ষ ভোটে তিনি জিতেছিলেন। শুধু জয় নয়, গোটা দেশে অধীরের জয়ের ব্যবধানই ছিল বাকি কংগ্রেস সাংসদদের সবার থেকে বেশি ৩ লাখ ৫৭ হাজার।

অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে এই লড়াইয়ের ‘স্বীকৃতি’ আগেই দিয়েছেন সনিয়া। গত রবিবার সংসদে সর্বদল বৈঠকে কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব তাঁকেই দেন কং সুপ্রিমো। এবার দিলেন আরও বড় সম্মান। প্রয়োজনীয় সংখ্যার অভাবে সংসদে বিরোধী দলের মর্যাদা মেলেনি কংগ্রেসের। কিন্তু তা হলেও একজন বাঙালির দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দলের সংসদীয় নেতা হওয়া বাংলার জন্য কম গর্বের নয়।

অনেকেই তাঁর একা কুম্ভ হয়ে কংগ্রেসের গড় রক্ষাকে ‘অধীর ম্যাজিক’ বলেন। কিন্তু নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এক জন মানুষের এই সম্মানপ্রাপ্তিকে ম্যাজিক বললে বিষয়ের গুরুত্ব খাঁটো করা হবে। অধীর নিজেও ম্যাজিকে বিশ্বাস রাখেন না। দ্যা ওয়ালকে লোকসভা নির্বাচনের আগেই বলেছিলেন, “অধীর ম্যাজিকের কথা বললে গর্ব হয় ঠিকই। কিন্তু ভয়ও হয়। মুর্শিদাবাদের মানুষের সমর্থন তো কারও পেটেন্ট নেওয়া নয়! ফিক্সড ডিপোজিটও নয়।”

তিনি বরং বিশ্বাস করেন চ্যালেঞ্জে। তাই তো ভোটের আগে বলেছিলেন, তাঁর লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। চ্যালেঞ্জও দিয়েছিলেন মমতাকে। “আসুন মুর্শিদাবাদের কোনও আসনে আমায় হারিয়ে দেখান। রাজনীতি ছেড়ে দেব।”

অসুস্থ হওয়ার পরে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি এবং রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরে প্রণব মুখোপাধ্যায় সক্রিয় রাজনীতি থেকে বিদায় নেন। এর পরে আর কংগ্রেসের সর্বভারতীয় স্তরে বাঙালি নেতাদের প্রতিনিধিত্ব মেলেনি। এবার অধীর চৌধুরীর হাত ধরে আবার দিল্লিতে বাঙালির গুরুত্ব বাড়ছে। এটা নিঃসন্দেহে রং-মত নির্বিশেষে সব বাঙালির জন্যই বড় প্রাপ্তি।

Comments are closed.