শুক্রবার, মে ২৪

ইউরিক অ্যাসিডে জেরবার! খেতে থাকুন এই খাবারগুলো

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমাদের ঘরে ঘরে আজকাল হাঁটু ব্যথা, পায়ে ব্যথা লেগেই রয়েছে।  আগে হলে বলে দেওয়া হত বাতের ব্যথা।  এখন বেশ গম্ভীর মুখ করে আমরা বলি, ইউরিক আ্যসিড বেড়েছে বোধ হয়।  তাহলে কী করবেন! সত্যি কি আপনার ইউরিক অ্যাসিড বেড়েছে? আসলে শরীরে এই অ্যাসিড প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হলে, তা জয়েন্টগুলোয় গিয়ে ক্রিস্টালের মতো জমাট বাধে।  আর ব্যথা হয়।  যদি বেড়েই যায় তাহলে সব খাওয়া দাওয়া ছেড়ে বসে থাকবেন? তা তো সম্ভব নয়।  এতদিন জেনে এসেছেন, ইউরিক অ্যাসিড হলেই টোম্যাটো, ঢ্যাঁড়স, মুসুর ডাল সমেত অন্য অনেক খাবার আপনার তালিকায় রাখা চলবে না।  কিন্তু এত কিছু বাদ দিলে অনেকেই মনে করেন, সঠিক ব্যালান্স হয় না শরীরের।  তাই কী খাবেন, আর কী খাবেন না তা নিয়ে চলে চুলচেরা বিশ্লেষণ।  জেনে নিন এমন কিছু খাবারের কথা, যা খেলে ইউরিক অ্যাসিড থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

গ্রিন টি
গ্রিন টি তে থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যাটেকিন যৌগ।  এই ক্যাটেকিন একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।  অনেকেই মনে করেন, এই ক্যাটেকিন শরীরের এমন কিছু এঞ্জা়ইমের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়, যেগুলো ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করতে সাহায্য করে।  ফলে এই গ্রিন টি যত খাবেন, ক্যাটেকিনের দৌলতে আপনার ইউরিক অ্যাসিড থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

ফাইবার
ফাইবার জাতীয় খাবার যত পারবেন বেশি করে খান।  আপনি কুমড়ো খান বা ব্রকোলি, ওটস খান বা হোল গ্রেন ফুড সবই আপনাকে সাহায্য করবে ইউরিক অ্যাসিড কমাতে।  এগুলোয় থাকা ডায়েটারি ফাইবার শরীরে থাকা ইউরিক অ্যাসিড শুষে নেয় এবং তা শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।  তাই ইউরিক অ্যাসিড আপনার সঙ্গী হলে এ জাতীয় খাবার আপনার প্লেটে থাক।

ভিটামিন সি
যে কোনও সব্জি বা ফল যেগুলোয় ভিটামিন সি রয়েছে, সেগুলো আপনার খাবার লিস্টে থাকুক যদি আপনি ইউরিক অ্যাসিড কমাতে চান।  পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রত্যেক দিন যদি আপনি ৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খান, তাতে ইউরিক অ্যাসিড খুব তাড়াতাড়ি নেমে যাবে।  তাই কমলালেবু হোক বা পাতি লেবু, সারাদিনে অন্তত একটা করে খেতেই পারেন।  খেতে পারেন চেরিও।  এতে থাকা ফাইবার এবং ভিটামিন সি দুইই আপনার কাজে দেবে।


জল এবং পানীয়
জল সঠিক পরিমাণে খেলে অনেক রোগ থেকেই আমরা দূরে থাকতে পারি।  এ তো আমরা সকলেই জানি।  তবে ১০-১২ গ্লাস জল রোজ যদি খান তাহলে শরীরের টক্সিক পদার্থগুলো সহজেই শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।  এবার এই জলের সাথে আপনি যদি ফলের রসও খান তাহলে তা যে আরও ভালো হবে তা বলাই বাহুল্য।  যত তরল পদার্থ আপনার শরীরকে পরিশোধন করবে, তত আপনার শরীরের ইউরিক অ্যাসিড ফ্লাশ আউট হবে।  তবে অবশ্যই আপনি বাজার চলতি কোনও ড্রিঙ্কের উপর নির্ভরশীল হবেন না, কারণ তাতে যে সব সুইটনার মেশানো থাকে তাতে হিতে বিপরীত করে।

বেরি
যে কোনও রকম বেরি খেলে আপনার ইউরিক অ্যাসিড কমে যেতে পারে অনেকটাই।  বেরিতে থাকে অ্যান্থোসায়ানিন নামক যৌগ।  এই যৌগ আপনার ইউরিক অ্যাসিড একদিকে নিযন্ত্রণে রাখে, অন্যদিকে ইউরিক অ্যাসিড জমতে দেয় না।  তাই জয়েন্ট পেন হয় না।  কাজেই ব্যাগ ভরে নিয়ে আসুন বেরি, আর গাঁটের ব্যথা থেকে মুক্তি পান।

ফল এবং টোম্যাটো
ফল সবসময়েই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।  তাই ইউরিক অ্যাসিড কমাতে যথেষ্ট পরিমাণে ফল খান।  আর টোম্যাটো খেতে যেখানে বারণ করা হয় ইউরিক অ্যাসিডের জন্য , সেখানে ইদানিং বলা হচ্ছে ইউরিক অ্যাসিডেও আপনি টোম্যাটো খান।  এতে ভিটামিন সি পাবেন যথেষ্ট।  তাই আপনার কাজে আসে টোম্যাটো।

শাক সব্জি
শাক সব্জি আপনি খান, তবে ফুলকপি, মটরশুটি, পালংশাক এড়িয়ে চলুন।  এগুলোয় আপনার ইউরিক অ্যাসিড বাড়তে পারে।  এছাড়া বাকি শাক সব্জি খান প্রাণ ভরে।  এতে ইউরিক অ্যাসিড থাকবে আয়ত্তে।

শশা এবং গাজর
শশা এবং গাজরে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।  অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জন্য শরীরের সেই ক্ষতিকর এঞ্জ়াইম কম তৈরি হয়।  ফলে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা কমে যায়।  এই ক্ষতিকর এঞ্জ়াইমগুলো আপনার রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বাড়িয়ে দেয়।  কাজেই এদের ঢাল হয়ে থাকে এই শশা এবং গাজর।
 
ডার্ক চকোলেট
কোকোবিনে যে থাওব্রোমিন পাওয়া যায়, তা থাকে ডার্ক চকোলেটে।  এই থাওব্রোমিন আসলে ক্যফিনের মতো একটি উপক্ষার জাতীয় যৌগ।  ডার্ক চকোলেটে এই থাওব্রোমিন যথেষ্ট পরিমাণে থাকে।  এটা ফুসফুসের ব্রঙ্কিয়াল মাসলকে শিথিল করে দিয়ে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হওয়াকে আটকায়।  কোডিন জাতীয় উপক্ষারের তুলনায় থাওব্রোমিন অনেক বেশি অ্যাক্টিভ।  কোডিন জাতীয় উপক্ষার আমাদের কাশি কমাতে সাহায্য করে।  তার চেয়ে তাড়াতাড়ি কাজ করে এই থায়োব্রোমিন।

অতএব বুঝতেই পারছেন, ইউরিক অ্যাসিড হয়েছে বলে খুব দুঃখ পেয়ে মুখ বেজার করে বসে থাকার দরকার নেই। তার চেয়ে বরং ব্যাগ ভরে বাজার করেও ইউরিক অ্যাসিড থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

 

Shares

Comments are closed.