শুক্রবার, জুন ২১

এই গরমে কুল থাকার দশ দাওয়াই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছর শুরু হয়ে গেছে, ভোটের উত্তাপও বাড়ছে।  তবে এত মিক্সডব্যাগ আলোচনার মধ্যেও চায়ের দোকানগুলোয় যে আলোচনা প্রায় প্রায়ই উঠে আসছে, সেটা…উফ্ কী গরম! তাপমাত্রার পারদ যে ভাবে বাড়ছে তাতে এই আলোচনা খুবই স্বাভাবিক।  বাঙলা ও বাঙালি চায়ের কাপে তুফান তুলবে না, তা হয় না।  কিন্তু তাপমাত্রা যখন ৪০ পেরিয়ে ৪২ এর দিকে যাচ্ছে তখন চায়ের প্রতিও আসছে অনীহা।  আবার রবিবারের বাজারের ব্যাগে মাটনটাও এখন বাদ দিতে হচ্ছে।  তাহলে উপায়!
ভোজন রসিক বাঙালি কি তাহলে এখন উপোসি থাকবে? একেবারেই নয়, বরং বেছে নিন এমন কিছু খাবার এবং পানীয়, যাতে আপনার স্বাদকোরকেও তৃপ্তি থাকে, আবার যে পরিমাণ ঘামছেন, তাতে কাহিলও না হয়ে পড়েন।

তরমুজ
কিনে নিন তরমুজ।  এতে থাকা ৯২ শতাংশ জল আপনার ডিহাইড্রেশন কমাতে সাহায্য করবে।  এদিকে পেটও ভরা থাকছে, তাই ভাজাভাজি খাবারের প্রতিও নজর কম যাবে, আপনার ওজনও থাকবে আয়ত্তে।  লো ব্লাড প্রেশারের সমস্যা, কার্ডিও ভাসকুলার ডিসিজ় বা হার্টের সমস্যা থাকলে, তরমুজের ভিটামিন আপনাকে তরতাজা রাখবে এই গরমেও।  ফলে যে পরিমাণ ঘেমে নেয়ে একশা হচ্ছেন আপনি, তাতে শরীরের যতটা সোডিয়াম বেরিয়ে যাচ্ছে তার রিকভারির দায়িত্ব নিচ্ছে তরমুজ।

টোম্যাটো
টোম্যাটোর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লাইকোপেন, ভিটামিন সি, জলীয় পদার্থ আপনাকে এই গরমে কী কী সুবিধা দেয় আপনার জানা নেই।  প্রথমত আপনি জলীয় পদার্থতে পেট ভরালে বেশি ক্যালোরি খরচ হচ্ছে না তা হজম করতে, দ্বিতীয়ত লাইকোপেন আপনার স্কিনের উপরে আল্ট্রাভায়োলেট রে-র যে ক্ষতিকর প্রভাব তাকে আটকায়, তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে যাওয়া আটকে দেয়।  আপনার স্মৃতিশক্তি প্রখর করে, হার্টের অসুখ থেকে সুরাহা দেয়, এমনকি আটকে দিতে পারে স্ট্রোকও।  সকলেই জানি ভিটামিন সি ঠাণ্ডা লাগতে দেয় না।  আর এই ঘেমে নেয়ে থাকায় আমরা বারবার সর্দি গর্মিতে ভুগি।  সেটা থেকে প্রোটেক্ট করে টোম্যাটো।

শশা
শশা খেয়ে তো আপনি ওজন কমান, কেন জানেন? শশায় থাকে ৯৫ শতাংশ জল! আর শশার ফাইবার যে আপনার কন্স্টিপেশন কমায় সেটা জানেন তো? কাজেই সিস্টেম ক্লিয়ার থাকাটা এই গরমে খুবি জরুরি।  সঙ্গে পেট ভরা ভাব আর ৯৫ শতাংশ জল হওয়ায় গরমে সহজেই শরীরের ভিতরের কলকব্জা ঠাণ্ডা থাকছে।  যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  তাই টুকটাক মুখ চালাতে খেয়ে নিন শশা।

বেরি
ব্লু বেরি, ব্ল্যাকবেরি বা স্ট্রবেরি খেতে তো দিব্যি লাগে।  জানেন কি, এতে আছে প্রচুর ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।  যা আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, খিদে কমায়, শরীরের যে কোনও ক্ষত সারিয়ে দেয় সহজেই।  এই গরমে আপনাকে ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচায় এই বেরিগুলোই।  তাই বেরি রাখুন আপনার স্যালাডে, কাসটার্ডে আর গরমে থাকুন ফিট অ্যাণ্ড ফাইন।

দই
এর চেয়ে ভালো যে আর কিছুই নেই, তা আমি আপনি সকলেই জানি।  দইয়ে থাকে প্রোটিন, ব্যাকটিরিয়া, ভিটামিন, মিনারেলস।  যা আপনার মুড ভালো করার দায়িত্ব নেয়, সঙ্গে শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমায়, প্রয়োজনীয় প্রোটিনও দেয়, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।  তাই এই গরমে ভরসা রাখুন দইয়ে।

ডাবের জল
যখন ঘেমে নেয়ে আপনি ক্লান্ত হন, বুঝবেন শরীরের সোডিয়াম পটাশিয়াম ম্যাগনেশিয়াম বেরিয়ে যাচ্ছে অনেকটাই, তাই আপনি ক্লান্ত।  ডাবের জল খেলে আপনার এই ঘাটতিগুলো সহজেই মিটবে। তাছাড়াও এতে কোনও অ্যাডেড সুগার থাকে না, ফলে ফলের জল থেকে শরীরের প্রয়োজনীয় সুগার আপনি পাচ্ছেন, এছাড়াও পাচ্ছেন এমন কিছু, যা হার্টের স্বাস্থ্য, স্কিনের যত্ন নিচ্ছে।  সঙ্গে  ডায়াবেটিকদের খেয়ালও রাখছে।  আপনার ওজনও থাকছে আয়ত্তে।  তাই চা কফি ভুলে এই গরমে ডুব দিন ডাবের জলেই।

দুধ
দুধের ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি প্রোটিন ৪০-৪২ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও আপনাকে স্বস্তি দেয়।  তাই দুধ শুধুই বাচ্চাদের খাবার ভাববেন না, ভাববেন না এটা জলের থেকে ঘন, তাই এতে কোনও হাইড্রেশনের ব্যবস্থা নেই।  এতে যা কিছু আছে তা আপনার শরীরকে গরমে সমস্যা থেকে দূরেই রাখবে।

আইসড টি
গরমে ধোঁয়া ওঠা চা আপনার ভালো নাই লাগতে পারে, তবে চাইলে আইসড টি খেতেই পারেন।  যে কোনও ভেষজ চা এই সময়ে আমাদের খুব আরাম দেয়।  এতে শরীরে জলও যায় আবার রিফ্রেশিংও লাগে।  আই এই আইসড টি খেলে তাতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস আর মধু মিশিয়ে নিন।  অনেকটাই রিফ্রেশিং লাগবে।  সারাদিনে দুবার এই চা খান, আর দেখুন শরীর কতটা ঝরঝরে থাকে।  লেবুর গন্ধে আপনি থাকবেন তরতাজা।

লেবুর জল
লেবুর চা তো হল, এবার বলি লেবুর জলের কথা।  ভিটামিন সি-এর উৎস এই লেবুর জল।  ঘন্টার পর ঘন্টা যখন আপনার ঘাম বেরিয়ে আপনি ক্লান্ত , খেয়ে নিন এক গ্লাস লেবুর জল।  পরের কয়েকটা ঘণ্টা থাকবেন ঠাণ্ডা।  রিফ্রেশড থাকতে তাই লেবু আনুন বাড়িতে।

শশার জুস
এক গ্লাস শশার রস খেয়ে নিতে পারেন, এই গরমে শশায় থাকা নব্বই শতাংশ জলই আপনাকে ঠাণ্ডা রাখবে সারাটাদিন।  সারাদিন তাই হাইড্রেটেড থাকতে, হেল্দি থাকতে শশার রস খেতেই পারেন, মিক্সিতে দিয়ে এত ঝক্কি না করতে চাইলে কাঁচা শশাও যে খেতে পারেন সে তো আগেই বলা হয়েছে,  তাতেও লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই।

অতএব এই ৫টা পানীয় এবং ৫টা খাবারে খুঁজে নিন গরমের স্বস্তি, নিজেকে রাখুন তরতাজা এবং এনার্জেটিক।

 

Comments are closed.