শুক্রবার, ডিসেম্বর ৬
TheWall
TheWall

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভাণ্ডারের চাবি উধাও, সঞ্চিত গয়নার অডিট করানোর দাবি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দিরের অভ্যন্তরে আছে রত্নভাণ্ডার। তাতে যুগ যুগ ধরে সঞ্চিত আছে অমূল্য মণিমাণিক্য। সেই ভাণ্ডারের চাবি উধাও হয়ে গিয়েছে। রত্নভাণ্ডারে গচ্ছিত সম্পদ সুরক্ষিত আছে কিনা জানার জন্য অডিট করানোর দাবি তুলেছেন বিরোধী নেতারা। বিষয়টা নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে ওড়িশায়।

দ্বাদশ শতাব্দীর জগন্নাথ মন্দিরে গত ৪০ বছর ধরে রত্নভাণ্ডারের চাবি খোলা হয়নি। ওড়িশা বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা প্রদীপ্ত কুমার নায়েক দাবি করেছেন, অবিলম্বে রত্নভাণ্ডারের ভল্ট খুলে দেখতে হবে, সব অলংকার আছে না কিছু চুরি হয়ে গিয়েছে। এই দাবির মুখে স্পষ্টতই বিপাকে পড়েছে ওড়িশা সরকার। সত্যিই অডিট করানো হবে কিনা তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন প্রশাসনের কর্তারা। এর মধ্যে কংগ্রেস নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, অডিট করানো নিরাপদ নয়। কারণ, যারা অডিট করবে তারাও কেউ দেবতার অলংকার চুরি করতে পারে।

গত সোমবার প্রদীপ্ত কুমার নায়েক মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের কাছে আবেদন জানান, অবিলম্বে রত্নভাণ্ডার খোলা হোক। ১৯৭৮ সালে জগন্নাথদেবের গয়নার একটা তালিকা তৈরি হয়েছিল। সেই তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হোক সব গয়না আছে কিনা। রত্নভাণ্ডারের চাবি চুরির কথা জানাজানি হয় গত বছর। সেকথা উল্লেখ করে প্রদীপ্ত বলেন, চাবি চুরির খবর শুনে ওড়িশার সাড়ে চার কোটি অধিবাসী ও বিশ্ব জুড়ে জগন্নাথদেবের যে ভক্তরা ছড়িয়ে আছেন, তাঁদের মনে গভীর সন্দেহের জন্ম হয়েছে। শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসন এক  বছরেও চাবি খুঁজে পেল না তা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তাঁর কথায়, রাজ্য সরকার জগন্নাথদেবের মূল্যবান অলংকারগুলিকে রক্ষা করার জন্য কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ব্যাপারটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। রত্নভাণ্ডারের চাবি যেহেতু উধাও হয়ে গিয়েছে, অলংকার চুরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

চাবি চুরি হওয়ার কথা জানাজানি হওয়ার পরে ওড়িশার আইনমন্ত্রী প্রতাপ জানা বিধানসভায় জানিয়েছেন, রত্নভাণ্ডারে আছে ১২৮ কেজি সোনার গয়না, ২২১.৫ কেজি রুপোর বাসনপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী। ১৯৭৮ সালে যে তালিকা তৈরি হয়েছিল, তাতে এমনই লেখা আছে।

Comments are closed.