শনিবার, মার্চ ২৩

ট্যাক্সির সিটে যাত্রীর পিরিয়ডসের দাগ! কী করলেন চালক? জানলে অবাক হয়ে যাবেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্যাক্সিতে যাচ্ছিলেন তরুণী, রোজকার মতোই। শেয়ারড ট্যাক্সির সামনের আসনে বসে এক সুবেশ, সুপুরুষ যুবক। চেহারায়, পোশাকে, ফোনের ব্র্যান্ডে বৈভব স্পষ্ট। ফোনে বলা কথা শোনা যাচ্ছে, যেখানে ইংরেজি উচ্চারণ জানান দিচ্ছে শিক্ষাগত যোগ্যতাও। খানিক পরেই আর এক মহিলা সহযাত্রী উঠে বসলেন প্রথম তরুণীর পাশে। তাঁর আচরণে অস্বস্তি স্পষ্ট। কিছুতেই যেন ঠিক করে বসতে পারছেন না তিনি।

তরুণী অভ্যাসবশত কানে হেডফোন গুঁজে চোখ বুজে ফেলেন, যেমন অন্য দিন বোজেন। তন্দ্রাও এসে যায় অফিস থেকে বাড়ি ফেরার দীর্ঘ পথে। খানিক পরেই ঘুম ভাঙে, সহযাত্রী যুবকের গলার আওয়াজে। রীতিমতো বিরক্ত হয়ে চেঁচাচ্ছেন তিনি। “এরা তো সব জায়গা নোংরা করার জন্যই আছে! এভাবে গাড়িতে দাগ করে কেউ! লজ্জা নেই!” কয়েক মুহূর্তে তরুণীর কাছে পরিষ্কার হয় বিষয়টি। তাঁর পাশের সহযাত্রিনী নেমেছেন সদ্য। তাঁর বসার জায়গায় রয়ে গিয়েছে রক্তের ছোপ। তরুণীর চকিতে মনে পড়ে যায় ওই মহিলার অস্বস্তিকর ভাবে বসা। স্পষ্ট হয় সবটা।

ওই মহিলার মেনস্ট্রুয়েশন ব্লাড লেগে গিয়েছে ট্যাক্সির সিটে। আর সেটা দেখেই উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ করছেন সামনের সেই সুবেশ, সুপুরুষ এবং সুশিক্ষিত বলে মনে হওয়া সেই যুবক। বলছেন, “মায়ের পুজো দিতে বেরিয়েছিলাম। জানি না কী হবে এবার। কেন যে মরতে শেয়ার ট্যাক্সি বুক করতে গেলাম! গোটা গাড়িটা অশুদ্ধ করে দিয়ে গেল!” গজগজ করেই চলেছেন যুবক। শেষমেশ বললেন, “আমায় এখানেই নামিয়ে দিন। ফিরে স্নান করে পোশাক বদলাতে হবে।”

এ ভাবেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন ওই তরুণী নিজেই। এমবিবিএস-এর ওই ছাত্রীর নাম স্নেহা ভট্টাচার্য। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। এর পরের পর্বটাও বিস্তারিত ভাবে জানান স্নেহা। আর সেই সবটা পড়ার পরেই চমকে যান নেটিজেনরা।

স্নেহা জানিয়েছেন, এর পরে  কোনও কথা না বলে একটি গলিতে ওই যুবককে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন চালক। এবং নিজে চালকের আসন থেকে নেমে পেছনে এসে তরুণীর উল্টো দিকের দরজা খোলেন। প্রথমটায় একটু ভয়ই পেয়ে যান তিনি। শীতের সন্ধে। গাড়িতে আর কেউ নেই। গলিও ফাঁকা। সিটের উপরে ঝুঁকে আসেন চালক। ভয় পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে যাবেন বলে ঠিক করেন তরুণী।

তখনই চালক বলেন, “জাস্ট দু’মিনিট লাগবে ম্যাম।” বলেই ভেজা কাপড় দিয়ে সিটে লেগে থাকা রক্তের দাগ মুছতে শুরু করেন তিনি। হাসিমুখে। প্রাথমিক বিস্ময় কাটিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন তরুণী। সেই সঙ্গে অবাক হয়ে যান চালকের এমন সুন্দর আচরণে।

নামার সময়ে তরুণী জিজ্ঞেস করেন, “দাদা, আপনার একটুও খারাপ লাগল না? আপনার গাড়িতে দাগ লাগিয়ে চলে গেল, আর আপনি নিজে সেটা পরিষ্কার করলেন! কীসের দাগ জানার পরেও!” হাসিমুখেই জবাব দেন চালক। বলেন, “আমার ঘরেও তো মহিলারা আছেন। এতে তো এত খারাপ লাগার কিছু নেই! আসল বিপদে তো পড়েছেন ওই মহিলা, ওঁর কতই না অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ভাবুন। উনি তো আর ইচ্ছে করে দাগ লাগাননি!”

এখানেই শেষ নয়। ওই চালক আরও বলেন, “কত লোক তো অসতর্কতায় চা-কফি ফেলে দেয় সিটের উপরে। খাবার ফেলে নোংরা করে। ওগুলোও তো আমিই পরিষ্কার করি। ওই দাগও আমিই ঘষে ঘষে তুলি, তাই না? তো এটাও ওরকমই কোনও দাগ ছিল, আমি মুছে দিলাম। ব্যাস।”

এই গোটা ঘটনাটা লেখার পরে স্নেহা লেখেন, “আমি থমকে দাঁড়িয়ে ছিলাম রাস্তায়। ভাবছিলাম, শিক্ষার আসল অর্থ কী! কারা আসল শিক্ষিত!”

স্নেহার এই পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সকলে অভিবাদন জানান ওই চালকের উদারতাকে। তাঁর মুক্ত মনের প্রশংসা করেন সবাই। জানান, এমনটাই হওয়া উচিত। বলেন, মেনস্ট্রুয়েশন যেহেতু আর পাঁচটা শারীরবৃত্তীয় বিষয়ের মতোই সাধারণ ও স্বাভাবিক, তেমনই মেনস্ট্রুয়েশেন দাগ কোথাও লেগে গেলে, সেটাও আর পাঁচটা দাগের মতোই স্বাভাবিক। তা নিয়ে ছিছিক্কার করা অপ্রয়োজনীয়।

Shares

Comments are closed.