মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

এনআরসি নিয়ে ভিন্ন সুর, কংগ্রেসকেও দায়ী করলেন মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করার পরেই সুর নরম করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে তিনি বলেছিলেন, মোদীর সঙ্গে এনআরসি নিয়ে কোনও কথা হয়নি। ওটা অসমের ব্যাপার। পরদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার পরে বলেন, তাঁকে এনআরসি নিয়ে চিঠি দিয়েছি। শুক্রবার নবান্নে মমতা জাতীয় নাগরিকপঞ্জির জন্য দায়ী করলেন কংগ্রেসকেও। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস ও সিপিএম এখন এনআরসি নিয়ে অপপ্রচার করে বেড়াচ্ছে। অসম অ্যাকর্ড অনুযায়ী এনআরসি হয়েছে। তৃণমূলনেত্রী একথা বলার পরেই প্রশ্ন উঠল, মোদী ও অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার পরেই কি জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে সুর বদল করলেন তিনি?

মমতার কথায়, এনআরসি নিয়ে কংগ্রেস আর সিপিএম অপপ্রচার করে বেড়াচ্ছে। ওরাও একইরকম দায়ী। অসম চুক্তি অনুযায়ী এনআরসি হয়েছে অসমে। তখন অগপ গভর্নমেন্ট ছিল ভুলে যাবেন না।

পরে তিনি বলেন, অসমে যেটা এনআরসি হয়েছিল, কংগ্রেসের আমলে হয়েছিল। প্লিজ রিমেমবার দিস। আমাদের বাংলায় কোনও প্রশ্ন আসে না। তাছাড়া রাজ্য সরকারে তো আমরা আছি। চিন্তা করার কী আছে? যখন আমরা বলছি হবে না হবে না হবে না তো হবে না।

গত বৃহস্পতিবার এনআরসি নিয়ে সিঁথির মোড় থেকে শ্যামবাজার অবধি পদযাত্রা করেছিলেন মমতা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, এনআরসি করে বাংলা থেকে দু’কোটি মানুষকে তাড়ানো হবে। এর জবাবে মমতা পাল্টা হুঁশিয়ারিতে বলেন, দু’কোটি তো পরের কথা, আগে বাংলার দু’জন মানুষের গায়ে হাত দিয়ে দেখাক!

গত বছর এনআরসি-র শুরুর সময়েই প্রতিনিধি দলকে অসমে পাঠিয়েছিলেন মমতা। তাঁদের ঢুকতে না দেওয়ায় দিল্লি গিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এর কাছে। কিন্তু মোদীর সঙ্গে দেখা করার পর মমতার ‘ওটা তো অসমের ব্যাপার’ মন্তব্যে অনেকেই নরম মনোভাব দেখেছিলেন। দলের ভিতরেও অনেকে বলতে শুরু করেছিলেন, এই রকম একটা স্পর্শকাতর ইস্যুতে আচমকা অবস্থান বদল করলে মুশকিল। কারণ বাংলার উদ্বাস্তু কলোনিগুলিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এনআরসি আতঙ্ক। অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর মমতা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে সুর নরম করেছিলেন। এরপর শুক্রবার কংগ্রেসকেও দায়ী করলেন।

কংগ্রেস থেকে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, মমতা কি বিজেপিকে খুশি করার জন্য একথা বলছেন?

Comments are closed.