মুখ্যমন্ত্রীর ফোনে অজানা নম্বর থেকে কল, মুখ্যসচিব সহাস্যে বললেন, ‘আপনি অনেক পপুলার তো, তাই’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দল ও সরকারে তাঁর অত্যন্ত আস্থাভাজন ছাড়া কাউকেই তিনি ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বিশেষ শেয়ার করেন না। কারণ, অযাচিত ফোন কল চলে আসে। তাতে কাজের অসুবিধা হয়।

    কিন্তু সেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন বুধবার অজানা নম্বর থেকেই বারবার ফোন আসতে থাকে। এ দিন নবান্ন সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রী যখন বৈঠকে বসেছেন, তখনও ফোন আসতে থাকে। তাতে একটু বিরক্ত হন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতার পুলিশ কমিশনারের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “অনুজ দেখো তো! কে বারবার ফোন করছে। সারাক্ষণ আমার লাইনটা ব্যস্ত রেখে দিচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, অন্তত নাকি ২২ বার ফোন এসেছে অজানা নম্বর থেকে।

    মুখ্যমন্ত্রী এ কথা বলার পরই দেখা যায়, মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা তাঁকে উদ্দেশ করে হাল্কা মেজাজে বলছেন, “আপনি খুব পপুলার তো তাই ফোন আসছে!”

    রাজনীতিকদের ফোন বিড়ম্বনা নতুন নয়। সমাজের এতো মানুষের সঙ্গে জুড়ে থাকার কারণে দিনভর প্রচুর ফোন আসে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে কিছু উটকো বিড়ম্বনাও শুরু হয়েছে। যেমন টেলি মার্কেটিংয়ের ফোনও চলে আসছে মন্ত্রীদের ফোনে।

    বছর খানেক আগের কথা। কেন্দ্রে অর্থমন্ত্রী তখন প্রণব মুখোপাধ্যায়। লোকসভায় কংগ্রেসের তৎকালীন নেতাও তখন তিনি। একদিন সকালে লোকসভার ফ্লোর লিডারদের নিয়ে তিনি বৈঠক করছেন। বৈঠকে সেই সময়কার বিরোধী দলনেতা সুষমা স্বরাজ, এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার, সংযুক্ত জনতা নেতা শরদ যাদব, সিপিএমের বাসুদেব আচারিয়া সহ তাবড় নেতা নেত্রীরা ছিলেন। হঠাৎই অর্থমন্ত্রীর মোবাইলে ফোন আসে।

    হ্যালো বলে ফোন ধরতেই, ওপার থেকে কেউ বলেন, ‘লোন নেবেন স্যার!’ যারপরনাই রেগে ফোন কেটে দেন প্রণববাবু। উপস্থিত বাকিরা কৌতূহলী হয়ে পড়েন। প্রণববাবু হঠাৎ রেগে গেলেন কেন? সুষমা জিজ্ঞেসও করেন তাঁকে—কী হল? প্রণববাবু বলেন, আর বলবেন না.. লোন দিতে চাইছে। শুনে হো হো করে হেসে ফেলেন উপস্থিত সকলে।

    প্রণববাবু অবশ্য কখনও ফোন নম্বর গোপন রাখতেন না কখনও। গত প্রায় চোদ্দ-পনেরো বছর ধরে তাঁর মোবাইল নম্বর একই রয়েছে। দলের কেউ চাইলেই তিনি নম্বর দিয়ে দিতেন। শুধু তা নয় রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পরেও ওই মোবাইল নম্বরে ফোন করে তাঁর সঙ্গে কথা বলা যেত। তবে হ্যাঁ, প্রণববাবু বরাবরই রাশভারী। অল্পেতে রেগে যান। তাই কংগ্রেসের অনেক মন্ত্রী, নেতাও তাঁকে চট করে ফোন করতে সাহস করতেন না। তাঁর মুড কেমন রয়েছে তা তাঁর আপ্ত সহায়কের থেকে জেনে নিয়ে তবেই ফোন করতেন।

    প্রণববাবুর তুলনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা অনেক বেশি বলেই মনে করা হয়। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর ফোন নম্বর জানাজানি হলে আর ঘনঘন ফোন এলে কাজ করা সত্যিই মুশকিল হতে পারে। তবে দলের নেতা মন্ত্রীরা যেন কর্মীদের ফোন ধরেন সে ব্যাপারে দিদির স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। কারণ, তাঁর কাছে মাঝে দলের মধ্যে থেকেই অভিযোগ আসতে শুরু করেছিল যে মন্ত্রী বা অনেক নেতাকে কখনওই ফোনে পাওয়া যায় না। সেই সময় দলের কোর গ্রুপের এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পষ্টাপষ্টি বলেছিলেন, রাতের বেলায় না হয় ফোন বন্ধ রাখতে পারেন। কিন্তু দিনে যেন ফোন খোলা থাকে। দলের কর্মীরা যেন ফোন করে কথা বলতে পারেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More