বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

গড়িয়াহাট-কাণ্ডে ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী, আগুনের উৎস নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গড়িয়াহাটের মোড়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া বিভিন্ন দোকানগুলিকে সাহায্যের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তিনি মেয়রের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথাবার্তা বলেন। বড় বড় দোকান শুধু নয়, ফুটপাথের দোকানগুলিকেও সাহায্য করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

শনিবারের ঘটনায় ওই রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, দমকলের অধিকর্তা ও পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। সারা রাত ওখানেই ছিলেন তাঁরা। রবিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মেয়র ববি হাকিম। যান বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও। যত্রতত্র হোর্ডিং, তারের জাল থেকে রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। জানান, পুরো জতুগৃহ বানিয়ে রাখা হয়েছে এলাকাকে। এত হোর্ডিং, দমকলের কাজও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে পুরসভার সঙ্গে কথা বলবেন বলেও তিনি জানান। মেয়রের গলায় ক্ষোভ স্পষ্ট প্লাস্টিকের ঘেরাটোপে থাকা হকারদের নিয়েই।

গড়িয়াহাট অগ্নিকাণ্ডে, প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। সূত্রের খবর, যে সমস্ত স্টল বা দোকান পুড়ে গিয়েছে, সেগুলি সংস্কার করা হবে পুরসভার তরফেই। শুধু তা-ই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মেয়রকে নির্দেশ দেন সমস্ত ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার। পাশাপাশি, ট্রেডার্স অ্যাসেম্বলির মালিকের সঙ্গে তিনি নিজে ফোনে কথা বলেছেন বলেও সূত্রের খবর।

 

তবে রবিবার আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও, সোমবার সকালে ফের একতলার একটি দোকানে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। দমকল কর্মীরা সেখানেই ছিলেন। পরে একটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।

ফরেনসিক বিভাগ প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছে, শনিবার দোকানের ভিতরেই শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। সেই আগুন বিদ্যুতের তার বেয়ে বাইরে এসে হকারদের ডালার উপরে চাপানো প্লাস্টিকের ছাউনিতে ধরে যায়। পাশেই ছিল বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার। তাতে আগুন লাগলে সেটি ফাটতে শুরু করে। সেখান থেকেই আগুনের ফুলকি ছড়াতে থাকে বাকি ডালাগুলিতে। যা পরে দোকানের ভিতরে ঢুকে যায়। এ ভাবেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে মনে করা হচ্ছে প্রাথমিক তদন্তে।

দমকলের তরফে অভিযোগ, ট্রেডার্স অ্যাসেম্বলি-সহ গোটা বিল্ডিংয়েই আগুন মোকাবিলার সামান্যতম ব্যবস্থাও তাঁদের নজরে আসেনি। সূত্রের খবর, বিল্ডিং-মালিক স্বীকারও করে নিয়েছেন সে কথা।
তবে অগ্নিকাণ্ডের দু’দিন পরেও প্রকাশ্যে চলছে স্থায়ী দোকানদার-আবাসিকদের সঙ্গে হকারদের চাপানউতোর। ঠিক যেমনটা দেখা গিয়েছিল বাগরি মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের পরেও। দোকানদারেরা অভিযোগ করছেন, হকারদের ফুটপাথ দখল করে যত্রতত্র মাল বোঝাই করে রাখা এবং প্লাস্টিকের স্তূপ তৈরি করার কারণেই ঘটেছে অগ্নিকাণ্ড। হকারদের পাল্টা দাবি, বিল্ডিংয়ের মধ্যে বেআইনি নির্মাণ, ওভারলোডিং-ই আগুনের জন্য দায়ী। গড়িয়াহাট ইন্দিরা হকার্স ইউনিয়নের সহ-সম্পাদক মনোরঞ্জন ধর বলেন, “বিল্ডিংয়ে ঢোকার রাস্তায় মিটার বক্সে মাঝেমধ্যেই শর্ট সার্কিটে আগুন লাগে। জেনারেটরের জন্য তেলও মজুত থাকে অনেক।”
ঘটনায় এখনও কোনও মামলা দায়ের হয়নি বলেই জানিয়েছে পুলিশ।
Shares

Comments are closed.