রবিবার, অক্টোবর ২০

খোঁজ মিলল নন্দাদেবীতে হারিয়ে যাওয়া পাঁচ অভিযাত্রীর! প্রাণের সম্ভাবনা নেই, এখনও নিখোঁজ তিন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খোঁজ মিলল নন্দাদেবী (ইস্ট) শৃঙ্গে অভিযানে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া আট পর্বতারোহী দলের মধ্যে পাঁচ সদস্যের খোঁজ মিলল। সেনা সূত্রের খবর, তিন দিন ধরে লাগাতার হেলিকপ্টার-সার্চ চালানোর পরে, অবশেষে সোমবার দুপুরে দেখা গেল তাদের। অভিযাত্রীরা সাধারণত যে রুটে শৃঙ্গে আরোহণ করেন, সেই রুটেই পড়ে রয়েছেন তাঁরা। তবে পড়ে থাকতে দেখলেও এখনও উদ্ধার করা যায়নি তাঁদের।

সেনা সূত্রের খবর, প্রায় ১৮ হাজার ফিট উচ্চতার কাছাকাছি রয়েছে ওরা। এতটা উচ্চতায় ও এতটা ঠান্ডায়, তিন দিন ধরে খোলা আকাশের নীচে পড়ে থাকার পরে দেহগুলিতে প্রাণ থাকার সম্ভাবনা কার্যত শূন্য। অভিযাত্রীদের উদ্ধার করে আনার জন্য বিশেষ দক্ষ আরোহীর দল প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা করবেন তাঁরা।

ব্রিটিশ পর্বতারোহী মার্টিন মোরানের নেতৃত্বাধীন আট অভিযাত্রীর দলে ছিলেন আরও তিন ব্রিটিশ, দুই মার্কিন, এক অস্ট্রেলীয় মহিলা পর্বতারোহী এবং ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফাউন্ডেশনের তরফ থেকে টিমটির সঙ্গে ছিলেন একজন ভারতীয় লিয়াঁজো অফিসার চেতন পাণ্ডে। গত ১৩ মে টিমটি নন্দাদেবী-ইস্ট অভিযান  শুরু করে। টিমটি মুন্সিয়ারি থেকে  ৯০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে নন্দাদেবী বেসক্যাম্প পৌঁছায়। নন্দাদেবী ইস্ট শৃঙ্গ ছুঁয়ে, ২৬ মে ফের বেস ক্যাম্পে তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে, সম্ভবত তার পরের দিন, অর্থাৎ ২৭ তারিখে তুষারধস নামে। এর পরে চার দিন কেটে যায়। ৩১ তারিখেও ওই আট জন বেস ক্যাম্পে না-ফেরায়, বেসক্যাম্প থেকে এক পোর্টার বিপদবার্তা পাঠান সমতলে।

তবে আট পর্বতারোহীর ওই দলটির নন্দাদেবী ইস্টে আরোহণ করেই ফেরার কথা ছিল কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় পর্বতারোহী মহল। কারণ, দলনেতা মোরানের সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টে ইঙ্গিত রয়েছে, তাঁরা এমন একটি শৃঙ্গে অভিযানের কথা ভাবছেন, যেটিতে আগে কারও পা পড়েনি।

মার্টিনের দলের সদস্যদের খোঁজার সময়ে রবিবার অন্য একটি দলের চার পর্বতারোহীর খোঁজ পাওয়া যায়। তাঁরা আলাদা ভাবে অভিযান করছিলেন। প্রবল তুষারপাত-সহ খারাপ আবহাওয়ার কারণে ওঁরা বেস ক্যাম্পেই আটকে যান। তবে মার্টিনের আট জনের দলটির সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল। তাঁরা জানিয়েছেন, মোরানদের দলের সঙ্গে গত ২৪ মে শেষ বার যোগাযোগ হয়েছিল তাঁদের। আট পর্বতারোহী তখন অন্য একটি শৃঙ্গের দিকে এগোচ্ছিলেন।

এর পরেই ২৬ মে বেসক্যাম্পে ফেরার কথা থাকলেও তাঁরা ফিরে না এলে, দুশ্চিন্তা বাড়ে। এর পরে ওই এলাকায় তুষারধস নামে ২৭ তারিখ। দুশ্চিন্তা বদলে যায় আশঙ্কায়। শেষমেশ আশঙ্কাই সত্যি হল। দুর্ঘটনার মুখে সম্ভবত মারাই গিয়েছেন সকলে। তিন সদস্যের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি।

তবে চিহ্নিত করা পাঁচ সদস্যকে কবে উদ্ধার করা যাবে, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। কারণ এই দুর্গম আবহাওয়ায় পায়ে হেঁটে ওই এলাকায় পৌঁছনো কার্যত অসম্ভব। হেলিকপ্টারে করে যদি বা পৌঁছনো যায়, তবু আবহাওয়ার সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নিতে খানিক সময় লাগবে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের।

এ বছরে অন্যতম দুর্যোগপূর্ণ আরোহণ মরসুম দেখছে হিমালয়। এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্গা, মাকালু– সব অভিযানেই একাধিক অভিযাত্রীর প্রাণ গিয়েছে নানা কারণে। মারা গিয়েছেন বেশ কয়েক জন বাঙালি ও ভারতীয়ও। বারবার অভিযোগ উঠেছে, এত বেশি সংখ্যক আরোহণ নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া অভিযানে চলে আসা নিয়ে।

কিন্তু নন্দাদেবীর এই ঘটনা সে সবের থেকে আলাদা। প্রথমত, উত্তরাখণ্ডের নন্দাদেবী ইস্ট শৃঙ্গটি এভারেস্ট বা নেপালের আর পাঁচটা শৃঙ্গের মতো পরিচিত ও আরোহণ-বহুল নয়। দ্বিতীয়ত, মার্টিন মোরান এক জন বিশ্বখ্যাত আরোহী। ভারতীয় হিমালয়ে এর আগেও অজস্র বার এসেছেন মোরান। এমনকী নন্দাদেবী পূর্বে আগেও দু’বার উঠেছেন তিনি।

ফলে ভিড়ের কারণে বা কম অভিজ্ঞতার কারণে এমনটা ঘটেছে, সে সম্ভাবনা কার্যত নেই। তবু পাহাড়ে দুর্ঘটনা আগে থেকে আঁচ করা প্রায়ই অসম্ভব হয়। এ ক্ষেত্রেও হয়তো তেমনটাই ঘটেছে।

ইতিমধ্যেই মৌসুমি বায়ু ঢুকতে শুরু করেছে, বর্ষা যে কোনও সময়ে এসে পড়বে পাহাড়ে। আবহাওয়া ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। ফলে চিহ্নিত করা আরোহীদের নামিয়ে আনার কাজটি সঙ্কটের মুখে পড়েছে। বাকি তিন জনের খোঁজ পাওয়া যাবে কি না, তা-ও অনিশ্চিত।

Comments are closed.