বুধবার, মার্চ ২০

BREAKING: ক্লাস ফাইভকে প্রাইমারিতে আনব, টিচার পাবে বাচ্চারা: মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকদের সংখ্যা নিয়ে সমস্যার মূল কারণ হল, ভারসাম্যের অভাব। এমনই মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “কোথাও হয়তো অনেক শিক্ষক আছেন, কোথাও আবার শিক্ষক প্রায় নেই। এই দু’জায়গার মধ্যে ভারসাম্য আনতে পারলেই অনেকটা সমাধান হবে সমস্যার। এ জন্য ক্লাস ফাইভকে প্রাইমারিতে আনব ভাবছি।”

সোমবার বেলা দু’টোয় নবান্ন সভাঘরে উপাচার্য বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সারা রাজ্যের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অধ্যক্ষরা। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ শিক্ষা দফতরের একাধিক আধিকারিকও ছিলেন আলোচনায়। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “খুব ভাল বৈঠক হয়েছে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার ব্যাপারে আলোচনা করেছি আমরা।” তিনি জানান, শিক্ষক সমস্যা মেটানোই তাঁদের প্রাথমিক লক্ষ্য।

এই সমস্যা মেটাতে, শিক্ষকের সংখ্যায় ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্দেশে, পঞ্চম শ্রেণিকে প্রাথমিকের আওতায় নিয়ে আসার ভাবনা রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর যুক্তি, রাজ্যের স্কুুলগুলির প্রাথমিক বিভাগে শিক্ষকের সংখ্যা বেশি থাকায়, একটি গোটা শ্রেণি তাঁদের আওতায় চলে এলে মাধ্যমিক বিভাগের চাপ কমবে। সে ক্ষেত্রে অনেকটাই ভারসাম্য আসবে শিক্ষকের সংখ্যায়।

দেখে নিন, কী বলেছেন মমতা।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ক্লাস ফোর অবধি পড়ানোর যে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা শিক্ষকদের রয়েছে, ক্লাস ফাইভের পড়ুয়াদের পড়াতে কি সেটাই যথেষ্ট? শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, ক্লাস ফোর অবধি সিলেবাসে চারটি বিষয় থাকে। বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক ও পরিবেশ। ফাইভ থেকে এই পরিবেশ বিষয়টিই ভাগ হয়ে যায় ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞানে। সে ক্ষেত্রে একেবারে নতুন শিক্ষকদের খানিক অসুবিধা হতেও পারে। কিন্তু একটু অভিজ্ঞ হলেই এই সমস্যা আর থাকবে না। এমন কিছু বড় ফারাক নেই সিলেবাসের। কেবল আলাদা বিষয় হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। ক্লাস ফাইভের বাংলা-ইংরেজি-অঙ্কও শিক্ষকদের আয়ত্তের মধ্যেই বলে জানাচ্ছেন তাঁরা।

কিন্তু কেবল পড়ানো নয়, আসল সমস্যা হতে পারে পরিকাঠামোয়। শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, বহু প্রাথমিক স্কুলে পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, বেঞ্চ, বোর্ড– এ সব কিছুই নেই। সে সবের ব্যবস্থা না করে একটা গোটা ক্লাসকে স্কুলের অন্তর্ভুক্ত করা খুবই মুশকিল বলে মত তাঁদের।

আরও পড়ুন: BREAKING: স্নাতক বা স্নাতকোত্তর করলেই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ, বেতন ২০০০ থেকে ২৫০০: ঘোষণা মমতার

আগরপাড়ার উষুমপুর বিদ্যামন্দির প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক মহুয়া সিংহরায় যেমন বলছেন, “ক্লাস ফোর পড়াতে পারলে ক্লাস ফাইভও পারা যাবে। সেটা হয়তো তেমন বড় সমস্যা নয়। কিন্তু এই মুহূর্তে বহু প্রাইমারি স্কুল আছে, যেখানে একটা ক্লাসরুমকে বাঁশের বেড়া দিয়ে দু’টো রুম করা হয়েছে। আলো-পাখা-বেঞ্চ-বোর্ডও পর্যাপ্ত নয়। সেখানে আরও একটি ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এসে পড়ানো কার্যত অসম্ভব।”

তিনি জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এক এক জন পড়ুয়ার বার্ষিক বেতন ২৪০ টাকার বেশি করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে স্কুলের যা আয় হবে, তা দিয়ে আরও অতিরিক্ত একটি শ্রেণিকে অন্তর্গত করা সম্ভব নয় স্কুলের পক্ষে। সেই টাকা বা পরিকাঠামো যদি সরকার আগে না দেয়, তা হলে অতিরিক্ত ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের নেওয়া সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন:

BREAKING: স্নাতক বা স্নাতকোত্তর করলেই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ, বেতন ২০০০ থেকে ২৫০০: ঘোষণা মমতার

Shares

Comments are closed.