সংসদে পাশ নাগরিকত্ব বিল, বিক্ষোভ, বন্‌ধ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার বিল পাশ হল লোকসভায়। ওই বিলে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন কংগ্রেস ও বামপন্থী দলগুলির এমপিরা। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিটি দল, এমনকী বিজেপির শরিকরাও ওই বিলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, বিলটি সংবিধানের বিরোধী।

বিলটি পাশ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই অসমে বিজেপির মুখপাত্র মেহদি আলম বরা দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে এদিন অসম সহ উত্তর-পূর্বের প্রতিটি রাজ্যে ১১ ঘণ্টার বন্‌ধ পালিত হয়েছে। অসমে বন্‌ধের ডাক দিয়েছিল আসু, অসম গণ পরিষদ, কংগ্রেস, এআইইউডিএফ এবং কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি। সোমবারই বিজেপি সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছে অসম গণ পরিষদ।

অসমের নানা স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করা হয়। ডিব্রুগড়, গুয়াহাটি ও তিনসুকিয়া জেলায় গাড়িতে ভাঙচুরও করা হয়েছে। রেল সূত্রে খবর, গুয়াহাটি ও ডিব্রুগড়ে বন্‌ধ সমর্থকরা রেল লাইন অবরোধ করেছিল। দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস ও আরও কয়েকটি ট্রেন তাতে আটকে পড়ে। জিআরপি কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের তুলে দেয়।

এদিন অসমে দোকান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষায়তন ও বেসরকারি অফিস বন্ধ ছিল। যানবাহন বিশেষ চলেনি। সরকারি অফিসে উপস্থিতি ছিল কম।

প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল ২০১৬-তে বলা হয়েছে, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যে মানুষজন ধর্মীয় নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচার জন্য ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে পালিয়ে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

যে দলগুলি এই বিলের বিরোধিতা করেছে, তাদের বক্তব্য, প্রস্তাবিত আইনে ১৯৭১ সালের পরে যে বাংলাদেশী হিন্দুরা অনুপ্রবেশ করেছেন, তাঁরা নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন। তাতে ১৯৮৫ সালের অসম চুক্তি ভঙ্গ করা হবে। উত্তর-পূর্ব ভারতে অনুপ্রবেশ একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। সেখানকার আদিবাসী ও অন্যান্য জনজাতি অন্য দেশ থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দেওয়ার বিরোধী।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ লোকসভায় ওই বিল পেশ করার সময় বলেন, অন্য দেশে আক্রান্ত হয়ে যারা ভারতে পালিয়ে আসছে, তাদের দায় সারা দেশকেই নিতে হবে। অসমকে একা সেই দায় বহন করতে বাধ্য করা ঠিক নয়। ভারত সরকার এজন্য অসমের সরকারকে সাহায্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিরোধীদের বক্তব্য, ওই বিলে নাগরিকত্বের সঙ্গে ধর্মকে যুক্ত করা হয়েছে। বিলে আশ্রয়প্রার্থীদের ধর্ম বা দেশের কথা উল্লেখ করা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন-সিটিজেনশিপ বিল নিয়ে ধুন্ধুমার ত্রিপুরায়, ভাঙচুর, আগুন, গুলি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More