মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

যমজ সন্তান চিনা তরুণীর, কিন্তু কী কাণ্ড! দু’জনের বাবা আলাদা!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তরুণী। কিন্তু পরীক্ষায় জানা গেছে, সেই দুই সন্তানের বাবা অভিন্ন নন!

দু’জন আলাদা পুরুষের সঙ্গে সঙ্গমের ফলে এমন একই সঙ্গে দু’টি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তরুণী! যারা জন্মসূত্রে যমজ হলেও, আসলে দু’টি আলাদা নিষেকের ফলে জন্মানো শিশু। কী করে হল এমন, রহস্য উদ্ধার করতে গিয়ে বিস্মিত চিকিৎসা বিজ্ঞানও!

চিনের শিয়ামেন শহরের এই ঘটনায় সদ্য মা হওয়া ওই তরুণী প্রথমে দুই বাবার কথা মানতে চাননি ৷ তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, একটি সন্তানের বাবা তাঁর স্বামী হলেও, অন্য সন্তানটির বাবা তাঁর ‘এক রাতের যৌনসঙ্গী’। অর্থাৎ ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড পার্টনার। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমনটা বিরল। চিনের একটি ফরেন্সিক আইডেন্টিফিকেশন সেন্টারের ডিরেক্টর মিস ঝ্যাং জানিয়েছেন, পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, শিশু দু’টি একই মায়ের গর্ভ থেকে একই সময়ে জন্ম নিলেও, তাদের বাবা এক নন।

কিন্তু কেমন করে সামনে এল এই ঘটনা? প্রথম সংশয় কী করে তৈরি হল?

জানা গিয়েছে, প্রথম প্রশ্ন তোলেন ওই তরুণীর স্বামী। সদ্য বাবা হওয়ার আনন্দে যাঁর মশগুল হয়ে থাকার কথা ছিল, যমজ সন্তান প্রাপ্তিতে যাঁর আনন্দ কয়েক গুণ বেশি হওয়ার কথা ছিল, সেই বাবারই চোখে পড়ে, জন্মের সময় থেকেই শিশু দু’টির মধ্যে বেজায় পার্থক্য। যমজ সন্তানের সব কিছুই যেখানে একই রকম হওয়ার কথা, সেখানে তাদের মধ্যে প্রচুর অমিল। এমনকী তিনি এ-ওদাবি করেন, যে একটি শিশু অবিকল তাঁর মতো দেখতে, কিন্তু অন্যটি আলাদা। তখনই তিনি দাবি করেন বাচ্চা দু’টির ডিএনএ টেস্টের। স্ত্রীয়ের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে অবশ্য আগে থেকেই অশান্তি ছিল তাঁদের মধ্যে।

তবে তা সত্ত্বেও, এমনটা বোধ হয় ভাবতে পারেননি কেউই। টেস্টের রেজ়াল্টে চমকপ্রদ তথ্য আসে! জানা যায়, দু’জন আলাাদ ব্যক্তির বীর্য থেকে জন্মানোর কারণেই শিশু দু’টি যমজ হওয়া সত্ত্বেও আলাদা। পরে তাদের মা স্বীকারও করে নেন, দুই সন্তানের দুই আলাদা বাবার কথা। পরে ওই শিশু দু’টির জন্ম সরকারি ভাবে নথিভুক্ত করতে গিয়ে যখনই দু’জন আলাদা বাবার নাম সামনে আসে, তখনই জানাজানি হয় ঘটনাটি। ঝাঁপিয়ে পড়ে সংবাদমাধ্যমগুলি।

কিন্তু বিজ্ঞান কী বলছে, এমনটা কি হওয়া সম্ভব?

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিরলতম হলেও এ ভাবে আলাদা বাবার যমজ সন্তানের জন্ম অসম্ভব নয়। চিকিৎসা পরিভাষায় এই ঘটনার নাম ‘হেটেরোপ্যারেন্টাল সুপারফেসানডেশন’। এতে দু’রকম বিষয় ঘটে থাকে। হয় ওই মহিলা একই দিনে খুব কম সময়ের ব্যবধানে দুই সঙ্গীর সঙ্গে সঙ্গম করেছেন ফলে তাঁর ডিম্বাণু দু’বার নিষিক্ত হয়েছে, অথবা একই জনন-চক্রে দু’টি ডিম্বাণু উৎপাদন হয়েছে ওই মহিলার শরীরে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে, ওই জনন চক্রেই রিপ্রোডাকটিভ সময়ে ওই মহিলা দু’জনের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। এবং দু’জনের শুক্রাণুই আলাদা আলাদা করে নিষিক্ত করেছে দু’টি ডিম্বাণুকে। ফলে গর্ভে দু’টি ভ্রুণ তৈরি হয়েছে, যাদের বাবা আলাদা। ডিম্বাণু বাঁচে ১২-৪৮ ঘণ্টা৷ স্পার্ম বাঁচে ১০ দিন৷ সে কারণে দুই পুরুষের দ্বারা ডিম্বাণু নিষিক্ত হতে পারে৷

তবে এ ক্ষেত্রে ঠিক কী ঘটেছে, তা জানা যায়নি এখনও।

Comments are closed.