রবিবার, অক্টোবর ২০

হংকং-এর কাছে জড়ো হচ্ছে চিনের আধা সেনা, বিক্ষোভকারীদের কড়া বার্তা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েক মাস ধরে চিনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে আছে হংকং। এরই মধ্যে বুধবার দেখা গিয়েছে, চিনের আধা সেনা পিপলস আর্মড পুলিশের একটি বাহিনী রওনা হচ্ছে শেনঝেন শহর থেকে। তাঁদের হাতে আছে ব্যাটন ও ঢাল। ‘সেমি মিলিটারাইজড’ গাড়িতে চড়ে তারা জড়ো হয়েছে হংকং-এর অদূরে বে স্পোর্টস সেন্টারে।

বিক্ষোভকারীদের কড়া বার্তা দেওয়ার জন্যই চিন আধা সেনাদের হংকং সীমান্তে জড়ো করেছে বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও পিপলস আর্মড পুলিশ সত্যিই বিক্ষোভকারীদের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়বে কিনা তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের সন্দেহ আছে। কারণ তেমন কিছু ঘটলে ওই দ্বীপ শহরের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হবে।

পিপলস আর্মড পুলিশ হল ১৫ লক্ষ সদস্যের এক আধা সেনা বাহিনী। চিনের অভ্যন্তরে অশান্তি থামানোর জন্য তাদের পাঠানো হয়। ওই বাহিনী চিনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের অধীনে। তার শীর্ষে আছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

হংকং-এর নিজস্ব সংবিধানে বলা আছে, নগর প্রশাসন প্রয়োজনে চিনের গণফৌজের থেকে সাহায্য চাইতে পারে। গণফৌজের ৬ হাজার সৈনিক সব সময়েই হংকং-এ থাকে। শহরে যদি ব্যাপক দাঙ্গাহাঙ্গামা শুরু হয়, নগর প্রশাসনের পক্ষে সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে তখনই চিনের সেনাবাহিনীর সাহায্য চাওয়া যেতে পারে।

আমেরিকা প্রশাসনের এক অফিসার জানিয়েছেন, হংকং-এর অবস্থা এখনই হাতের বাইরে চলে গিয়েছে বলা যাবে না। চিন সম্ভবত আধা সেনা জড়ো করে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে একটা বার্তা দিতে চাইছে। কিন্তু একইসঙ্গে ওই অফিসার বলেছেন, চিন যদি ইচ্ছা করে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হংকং-এ বিপুল সেনা সমাবেশ ঘটাতে পারে।

গত জুন মাসে হংকং-এ একটি বন্দি প্রত্যর্পণ বিলকে ঘিরে শুরু হয়েছে অশান্তি। ওই বিল অনুযায়ী, হংকং-এ কেউ অপরাধ করলে চিনের মূল ভূখণ্ডে নিয়ে গিয়ে তার বিচার করা যাবে। হংকং-এর মানুষের ধারণা হয়, কেউ চিনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখালে যাতে কড়া শাস্তি দেওয়া যায়, সেজন্যই ওই বিল আনা হয়েছে।

বিলটি প্রত্যাহারের দাবিতে শুরু হয় বিক্ষোভ। সেই বিল ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তাতেও বিক্ষোভ থামেনি। বুধবার চিন সরকার বিক্ষোভকারীদের কড়া নিন্দা করে বলেছে, তাঁরা যে কাজ করছেন, তা আইন, নৈতিকতা ও মানবতার বিরোধী।

Comments are closed.