মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

কাশ্মীর নিয়ে নাক গলানোর চেষ্টা চিনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কাশ্মীর নিয়ে এবার নাক গলাতে চাইছে পাকিস্তানের ‘অল ওয়েদার ফ্রেন্ড’ চিন। তাদের দাবি, কাশ্মীর নিয়ে বিরোধে তারা কোনও পক্ষে নেই। কাশ্মীর খুবই দরিদ্র ও অনুন্নত অঞ্চল। সেখানকার উন্নতিই তাদের লক্ষ। ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যের ‘উন্নয়ন’ নিয়ে চিন যেভাবে মাথা ঘামাচ্ছে, তাতে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এবার তারাও কাশ্মীর বিতর্কে ঢুকতে চায়। চিন ইতিমধ্যেই বলেছে, তারা ভারত ও পাকিস্তানের বিরোধে মধ্যস্থতা করতে আগ্রহী।

এর আগে জানা গিয়েছিল, কাশ্মীরে যারা নিয়মিত জঙ্গি হানা চালায়, সেই জইশ ই মহম্মদের নেতা মৌলানা মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করতে বাধা দিচ্ছে চিন। ভারত একাধিকবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে মাসুদকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। চিন তাতে রাজি হয়নি। ভেটো দিয়ে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।

চিনের সরকারি মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, ভারত ভাবে, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ ই মহম্মদকে আমরা সমর্থন করি। বাস্তবে তা সত্য নয়।

কাশ্মীর সম্পর্কে বলা হয়েছে, বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চল যেন বরাবর দরিদ্র ও অনুন্নত না হয়ে থাকে। চিনের লক্ষ হল কাশ্মীরের উন্নয়ন। ভারত ও পাকিস্তানের লক্ষও তাই। দুই দেশই যদি এগিয়ে আসে, তাহলে তাদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে উঠবে। বিতর্কের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। চিনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দুই দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।

ভারত ও পাকিস্তানের বিরোধে তারা কোনও পক্ষ নিচ্ছে না বলে চিনের দাবি। গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, আমরা ভারত-পাকিস্তানের বিরোধে কোনও পক্ষেই নেই। নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার জন্য আমরা প্রস্তুত। যদিও ভারত বহু আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, কাশ্মীর নিয়ে বাইরের কারও মধ্যস্থতায় সে রাজি নয়।

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরে আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে রয়েছে পাকিস্তান। কারণ পাকিস্তানে আশ্রিত জইশের জঙ্গিরাই ওই হামলা চালিয়েছিল।

এর মধ্যে গত সপ্তাহে চিনের উপ বিদেশমন্ত্রী কং শুয়ানইউ পাকিস্তানে গিয়ে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার কথা হয়। কং তাঁদের আশ্বাস দেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষে বেজিং সব সময় পাকিস্তানের পক্ষে থাকবে।

Shares

Comments are closed.