ভারতে এতগুলি অ্যাপ নিষিদ্ধ হওয়ায় ‘গভীর উদ্বেগে’ চিন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার বার্তা এল দ্রুত

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে ‘গভীর উদ্বিগ্ন’ তারা, শীঘ্রই খতিয়ে দেখবে পরিস্থিতি– এমনটাই জানিয়েছে চিন। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান এই অ্যাপ ব্যন প্রসঙ্গে বলেন, “ভারতের এই ঘটনা জানার পরে চিন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং পরিস্থিতি যাচাই করে দেখছে।”

    গতকালই কেন্দ্রীয় তথ্য়প্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে ঘোষণা করা হয়, ভারতীয় গোয়েন্দারা জানিয়েছেন যে, অ্য়ান্ড্রয়েড ও আইওএস প্ল্য়াটফর্মে থাকা মোবাইল অ্য়াপগুলির অপব্য়বহার করে গ্রাহকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের চেষ্টা করা হচ্ছে অনেক দিন ধরে। অভিযোগও বারবারই উঠেছে বিভিন্ন অ্যাপের বিরুদ্ধে। সেই কারণেই শেষমেশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ভারতে অ্যাপগুলি ব্যান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গতকাল। একটি-দু’টি নয়, ৫৯টি অ্যাপ ব্যন করা হয়েছে ভারতে। এই কড়া পদক্ষেপের কথা জানার পরেই কার্যত নড়েচড়ে বসেছে চিন, এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

    তবে কেবলই অ্যাপ ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত সমস্যাই যে এই সিদ্ধান্তের কারণ নয়, সে কথা স্পষ্ট। গত মাস থেকেই ভারতের লাদাখে সেনা মোতায়েন করতে শুরু করে চিন। আধিপত্য দখলের লড়াই স্পষ্ট হয়ে ওঠে ক্রমে। দিন কয়েক আগে ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে ২০ জন ভারতীয় সেনাও মারা যান। অভিযোগ উঠেছে, বারবার আলোচনার পরেও এতটুকু নমনীয় হয়নি চিন। তাই মনে করা হচ্ছে, চিনকে বার্তা দিতেই চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধকরণের এই সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার।

    যদিও অনেক দিন ধরেই বিদেশি সামগ্রী বিশেষ করে চিনা পণ্য বয়কটের ডাক উঠেছে দেশে। সেই ডাক দিয়েছে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিও। নানা মহল থেকে ভারতে চিনা অ্যাপের ব্যবহার বন্ধ করার জন্যও কেন্দ্রের উপরে চাপ তৈরি হচ্ছিল। এবার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। গতকালই সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে টিকটক, ইউসি ব্রাউজার-সহ মোট ৫৯টি অ্যাপ ব্লক করা হয়।

    সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, দেশের গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি জানিয়েছে এই সব অ্যাপ ভারতীয়দের গোপনীয়তার শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তা নিয়ে আপস করছে। তা ছাড়া এই সব অ্যাপের মাধ্যমে স্পাইওয়ার ও ম্যালওয়ার ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রের এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই সরকারি টিকটক অ্যাকাউন্ট ডিসেবল করে দেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১১ লক্ষ ফলোয়ার ছিলেন।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে বলা হচ্ছে, টিকটক নিয়ে উদ্বেগ তো রয়েছেই। কিন্তু আরও চিন্তা হল ইউসি ব্রাউজার বা ক্যাম স্ক্যানার নিয়ে। কারণ, বহু লক্ষ ভারতীয় সরকারি নথিপত্র বা ব্যক্তিগত প্রমাণপত্র মোবাইলে ক্যাম স্ক্যানারের মাধ্যমে স্ক্যান করেছে। সেই সব নথির আর কোনও গোপনীয়তা রয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

    যদিও ইতিমধ্যেই একদফা সুর নরম করেছে টিকটক। নিষিদ্ধ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানিয়েছে, তারা আগামী দিনে ভারত সরকারের নির্দেশিকা পুরোপুরি মেনে চলবে। সেইমতো তারা নিজেদের বদলে নিচ্ছে।টিকটক ইন্ডিয়ার প্রধান নিখিল গান্ধী এদিন বলেন, “ভারতীয় আইন অনুযায়ী আমরা টিকটক ব্যবহারকারীদের তথ্য গোপন রেখেছি। কোনও গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য আমরা চিন বা অন্য কোনও দেশের সরকারকে দিইনি।”

    এর পরেই ফের চিনের বিদেশ মন্ত্রক ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করার কথা জানিয়েছে। কূটনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, আচচমকা এতগুলি অ্যাপ ব্যান করার সিদ্ধান্তে হয়তো খানিকটা ধাক্কা খেয়েছে চিন। সে কারণেই এত দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তারা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More