করোনাভাইরাস নিয়ে ‘প্রকৃত সত্য’ জানাক চিন, বললেন সেরে ওঠা মার্কিন নাগরিক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : সম্প্রতি করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন অ্যাটর্নি। তাঁর নাম রবি বাত্রা। তিনি দাবি করেছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে ‘র ট্রুথ’ অর্থাৎ আসল কথাটা সারা বিশ্বকে জানাক চিন। তবেই বিজ্ঞানীরা ওই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সহ অনেকেই অভিযোগ করেছেন, করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করছে চিন। কিন্তু ওই অ্যাটর্নির বক্তব্য, মারণ ভাইরাস সম্পর্কেও চিন তথ্য গোপন করেছে। ফলে অন্যান্য দেশের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা তার স্বরূপ জানতে পারছেন না।

    আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরকে এখন কোভিড ১৯ অতিমহামারীর এপিসেন্টার হিসাবে ধরা হচ্ছে। রবিবারের মধ্যে শহরে ১ লক্ষ ২০ হাজার লোকের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৫০। চিনের চেয়েও বেশি মানুষ কোভিড ১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন আমেরিকায়।

    নিউ ইয়র্কের আইনজীবী রবি বাত্রা বলেন, “আমি আশা করি মানবসভ্যতা করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। আমি আশা করব, চিন খোলাখুলি সত্যি কথাটা সকলকে বলবে।”

    রবি বাত্রার পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী রঞ্জু ও মেয়ে অ্যা ঞ্জেলাও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। রবি বলেন, “যতদিন না কোভিড ১৯ এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হচ্ছে, ততদিন কেউ কাজে যাবে না। কেউ স্কুলে যাবে না। খেলতেও যাবে না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বলতে আমরা যা বুঝতাম, তা আমূল বদলে যাবে।”

    রবিবার আমেরিকায় ২৫ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে। এক দিনে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৫০০ জনের। নিউ ইয়র্ক তো বটেই, সারা দেশের নানা প্রান্তের শহরগুলিতেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শহরের বাইরের অন্য এলাকাগুলির কী অবস্থা, তা এখনও ভাবতে পারা যাচ্ছে না পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

    এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পার্ল হারবার ও নাইন ইলেভেনে মৃতের সংখ্যার চেয়েও শুধু এই সপ্তাহে করোনায় বেশি মানুষের মৃত্যু হবে যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন সার্জন জেনারেল জেরোমি অ্যাডামস এ কথাই জানিয়েছেন সোমবার।

    উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নৌ-ঘাঁটি পার্ল হারবারে জাপানি বাহিনী আক্রমণ করে ১৯৪১ সালের ২৬ নভেম্বর। নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক টর্পেডো নিক্ষিপ্ত হতে থাকে, সঙ্গে চলে প্রচণ্ড বোমা হামলা ও উপর্যুপরি মেশিনগানে গুলিবর্ষণ। ধ্বংস হতে থাকে একের পর এক  যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ যুদ্ধে ব্যবহৃত নানা সমরাস্ত্র। এই আক্রমণে প্রায় আড়াই হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু হয়, আহত হয় আরও এক হাজারেরও বেশি মানুষ।

    ২০০৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিধ্বংসী জঙ্গিহামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৩০০০ নাগরিকের প্রাণ যায়। এর পরে পেরিয়ে গিয়েছে ১১ বছর। সেই স্মৃতিই ফিরে আসছে ফের।

    জানা গেছে রবিবার পর্যন্ত ১৬ লাখ মানুষের করোনাভাইরাস পরীক্ষা হয়েছে আমেরিকায়। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ। এখনও ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায়নি কয়েক লাখ মানুষের। আতঙ্ক ছড়িয়েছে হাসপাতালগুলিতেও। সাধারণ মানুষের একাংশ অভিযোগ করছেন, হাসপাতালে ভর্তি হয়েও নিরাপদ নন তাঁরা। এ সম্পর্কে আমেরিকার এমার্জেন্সি হেল্থ অফিসার ডক্টর রোজেনা স্মিথ বলেন, “অনেকের ধারণা, যেসব হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা বেশি সেখানেই ভাইরাসটি বেশি ছড়াচ্ছে। ফলে অন্যান্য রোগীরাও করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More