বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

কাশ্মীর নিয়ে আপত্তি, হংকংয়ের ক্ষেত্রে উল্টো সুর চিনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক দেশ, এক নিশান, এক সংবিধান, নীতি সামনে রেখেই সংবিধানের অস্থায়ী ৩৭০ ধারা বিলোপ করেছে ভারত।  একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করেছে।  এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও এ নিয়ে প্রথম থেকেই তাদের ওজর-আপত্তির কথা বলে আসছে চিন।  কিন্তু হংকংয়ের ক্ষেত্রে একেবারে উল্টো অবস্থান তাদের।  হংকং নিয়ে বেজিংয়ের বক্তব্য, এক দেশ দুই নীতি তারা মেনে নেবে না।

ভারতের মানচিত্রে লাদাখ বলে যে অংশ দেখানো হয়, তার কিছুটা অংশ (আকসাই চিন) নিজেদের মানচিত্রে দেখায় চিন।  ওই অংশের উপর তারা সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।  যদিও ঐতিহাসিক ভাবে সেটি ভারতেরই অংশ।

প্রায় স্বায়ত্তশাসনাধীন শহর হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থীরা বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছিলেন।  কমিউনিস্ট পার্টির চার দিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা করা হয়।  বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।  এ কথা জানিয়েছেন হংকং, ম্যাকাউ ও বেসিক ল কমিশনের ডিরেক্টর শেন চুনইয়াও।

হংকংয়ের চিফ এগজিকিউটিভ ক্যারি ল্যাম ও সিটি পুলিশ এই ক্রমেই হিংসাত্মক হয়ে ওঠা আন্দোলন প্রতিহত করতে পারবেন বলে বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়।  সাবেক ব্রিটিশ কলোনি হংকংয়ের বাসিন্দারা আন্দোলন করছেন মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদে।  প্রকাশ্যেই তাঁরা গলা তুলেছেন বেজিংপন্থী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।  একসময় সেই আন্দোলন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।

বৈঠকের পরে শেন জানান, হংকংয়ের যাতে দীর্ঘমেয়াদে ভাল হয়, সেই পদক্ষেপই করবে চিন।  এ জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের যে নীতি আছে তারও উন্নতিসাধন করা হবে।

পরে তিনি বলেন, “এক দেশ এক নিয়ম – সরকারের এই নীতিকে যদি কোথাও কোনও ভাবে চ্যালেঞ্জ করা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা যদি কখনও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং বিদেশি শক্তি যদি মাথা গলায় তা হলে সরকার তা মেনে নেবে না। ”

সাবেক ব্রিটিশ কলোনি হংকং ও সাবেক পর্তুগিজ কলোনি ম্যাকাউয়ের ক্ষেত্রে চিন অন্য কোনও দেশের নাক গলানো পছন্দ করছে না বটে, তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা নাক গলাচ্ছে।  ভারত বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কাশ্মীর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।  তারপরেও চিন এ নিয়ে মন্তব্য করে চলেছে।

ভারত যখন দেশের সব অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রে এক দেশ এক নীতির কথা বলে তখন চিন আপত্তি করে, কিন্তু নিজের দেশের ক্ষেত্রে তো বটেই, দখল করে রাখা ভূখণ্ডের ক্ষেত্রেও তারা তা প্রয়োগ করে।  তখন তৃতীয় কোনও রাষ্ট্রের মন্তব্য করার রাস্তাই তারা বন্ধ করে দেয়।

Comments are closed.