গালওয়ানে হতাহতের সংখ্যা গোপন করতে সৈনিকদের দেহ পুড়িয়ে ফেলেছে চিন?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ১৫ জুন রাতে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সৈনিকদের সংঘর্ষ হয়। ২০ জন ভারতীয় সৈনিক মারা যান। একটি সূত্রে জানা যায়, চিনের ৪৫ জন সেনা নিহত হয়েছে। কিন্তু চিন সরকারিভাবে সেকথা স্বীকার করেনি। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দারা খবর দিয়েছেন, মৃত সৈনিকদের দেহগুলি পুড়িয়ে ফেলেছে চিন। সেই সময় মৃতদের আত্মীয়দেরও উপস্থিত হতে দেওয়া হয়নি। পুরো কাজটাই করা হয়েছে খুব গোপনে।

    ভারতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মৃত ২০ জন সৈনিকের শেষকৃত্য হয়েছে। গত ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে মৃতদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দাদের খবর, মৃত চিনা সৈনিকদের পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। চিনের অসামরিক কাজকর্ম সম্পর্কিত মন্ত্রক থেকে মৃত সৈনিকদের পরিবারকে বলা হয়েছিল, মৃতদেহের প্রথামাফিক শেষকৃত্য হবে না। মৃতদেহগুলি পুড়িয়ে ফেলা হবে। সেখানে মৃতদের পরিবারের কেউ উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

    চিনের সরকার বলেছে, করোনা সংক্রমণের ভয়েই দেহগুলি পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু মৃতদের পরিবারের লোকজনের ধারণা, সরকার সৈনিকদের মৃত্যুর কথা গোপন করতে চায়। আমেরিকার ব্রেইটবার্ট নামে এক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, মৃতদের পরিবারের লোকজন চিনের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েইবো-তে ক্ষোভের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার থেকে তাঁদের নানাভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। চিনের ভয়, পিপলস লিবারেশন আর্মির সৈনিকদের মৃত্যুর খবর সারা বিশ্বে জানাজানি হলে সরকারকে লজ্জায় পড়তে হবে।

    গালওয়ান উপত্যকা থেকে চিনা সেনাবাহিনী সরতে শুরু করেছে বেশ কিছুদিন আগে। শুধু গালওয়ান উপত্যকা নয়, বিতর্কিত হট স্প্রিং এলাকা থেকে অন্তত দু’কিলোমিটার পিছনে সরেছে লাল ফৌজ।

    ১৫ নম্বর পেট্রলিং পয়েন্ট থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ থেকে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৮ এর মধ্যে সারি সারি কালো ত্রিপল ঢাকা চিনের সেনার ক্যাম্প লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সেখান থেকেও ছাউনি উধাও হয়েছে। ভারতের বাহিনীও সরে এসেছে পিছনে। ফলে গালওয়ানের মতো এখানেও তৈরি হয়েছে একটি নিরপেক্ষ অঞ্চল তথা বাফার জোন।

    সেনা সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, যে গোগরা হট স্প্রিং এলাকায় ট্রাক, বুলডোজার নিয়ে ধীরে ধীরে ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে ঢুকে আসছিল চিনের লাল ফৌজ সেই জায়গা থেকে গাড়ি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে।

    গালওয়ানে সংঘর্ষের পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে টেলিফোনে বৈঠক করেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। সেই ফোনালাপের পরেই এই পদক্ষেপ শুরু করে লাল ফৌজ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More