শুক্রবার, জুন ২১

চিনের নতুন হাতিয়ার উভচর ড্রোন, জল ছেড়ে ডাঙায় উঠে আঘাত হানবে নৌকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : উভচর ড্রোন নৌকা আবিষ্কার করল চিন। এই নৌকাগুলি ড্রোন বিমান ও জাহাজের সঙ্গে একযোগে জলপথে শত্রুকে আক্রমণ করতে পারবে। আবার প্রয়োজনে জল ছেড়ে ডাঙায় উঠেও আক্রমম করবে শত্রুকে। বিশ্বে এমন উভচর নৌকা আর কোনও দেশে নেই।

চায়না শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশনের উচাং শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপ ওই ড্রোন নৌকা তৈরি করেছে। তার নাম মেরিন লিজার্ড। চিনের সরকার নিয়ন্ত্রিত ‘গ্লোবাল টাইমস’ সংবাদপত্রে সোমবার প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, হুবেই প্রদেশের কারখানা থেকে প্রথম ওই ড্রোন নৌকা ডেলিভারি দেওয়া হয় ৮ এপ্রিল। ১২০০ কিমি দূরে গিয়েও শত্রুকে আঘাত হানতে পারে ওই নৌকা। দূর থেকে উপগ্রহ মারফৎ তাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

নৌকার দৈর্ঘ্য ১২ মিটার। তাতে আছে ডিজেল চালিত হাইড্রোজেট ইঞ্জিন। চিনের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মাটিতে আক্রমণের সময় ড্রোন নৌকার সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার। তবে প্রয়োজনে গতি বৃদ্ধিও করা যেতে পারে।

চিনের প্রতিরক্ষা বাজেটের পরিমাণ ১৭ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। সেনাকর্মীর সংখ্যা ২০ লক্ষ। গত কয়েক বছর ধরে নতুন নতুন যুদ্ধাস্ত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে চিন। মেরিন লিজার্ডে রয়েছে দু’টি মেশিন গান। আর থাকছে ভার্টিক্যাল লঞ্চিং-এর ব্যবস্থা। তা থেকে জাহাজ বা বিমান লক্ষ করে গোলা ছোঁড়া যাবে।

কোনও চালক ছাড়াই সমুদ্রে চলতে পারবে মেরিন লিজার্ড। ডাঙাতেও চলবে চালক ছাড়াই। পথে কোনও বাধা পড়লে নিজেই কাটিয়ে যাবে। কোন পথে চললে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে, তাও স্থির করবে সে নিজেই। মাটিতে বা জলে বড় ধরনের আক্রমণের আগে এই ড্রোনগুলিকে কাজে লাগানো যাবে।  জলে ও স্থলে খুব সহজেই শত্রুর অবস্থান খুঁজে বার করতে পারবে মেরিন লিজার্ড। সেনাবাহিনী কোনও নির্দিষ্ট লক্ষে আক্রমণ করার সময় তাদের সথেষ্ট সহায়তা করতে পারবে।

মেরিন লিজার্ডকে কাজে লাগানো যাবে উপকূল রক্ষার কাজেও। উচাং শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপ জানিয়েছে, কোনও নির্জন দ্বীপে শত্রুর অপেক্ষায় ওত পেতে থাকবে ওই উভচর নৌকা। ওইভাবে তাদের আট মাস পর্যন্ত রাখা যাবে। শত্রু যদি জলসীমার মধ্যে ঢুকে পড়ে, তাহলে দূর থেকে নির্দেশ দিলেই ড্রোন ঝাঁপিয়ে পড়বে তার ওপরে।

চিনের বেইদোউ নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে মেরিন লিজার্ডকে। ওই নৌকা ব্যবহার করলে সেনাবাহিনীতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির সংখ্যা কমবে।

Comments are closed.