শনিবার, মার্চ ২৩

ভোররাতে ভয়াবহ আগুন, ছাদ থেকে ঝাঁপিয়ে বাঁচার চেষ্টা, শিশু-সহ মৃত অন্তত ১৭

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোররাতে দিল্লির একটি বিলাসবহুল হোটেলে ভয়াবহ আগুনে কমপক্ষে ১৭ জনের মৃত্যু হল। মৃতদের মধ্যে এক মহিলা ও এক শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভোর চারটে নাগাদ দিল্লির করোলবাগের হোটেল অর্পিত প্যালেসে বিধ্বংসী আগুন লেগে যায়। ঘটনাস্থলে ছুটে যায় দমকলের ২৬টি ইঞ্জিন। উদ্ধার কাজ এখনও চলছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, পাঁচতলা বিল্ডিং থেকে আগুন ও ধোঁয়া বেরিয়ে ছেয়ে যায় চতুর্দিকে। আগুন থেকে বাঁচতে হোটেলের জানালা থেকে ঝাঁপ দিতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলা ও শিশুর। দিল্লি দমকল বাহিনীর প্রধান অতুল গর্গ জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও জানা যায়নি।

দমকল সূত্রে খবর, দিল্লির পাঁচতলা ওই হোটেলে ঘরের সংখ্যা ৬৫। দুর্ঘটনার সময় ১৫০ জন আবাসিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মায়ানমার থেকে আসা বেশ কিছু পর্যটক ছিলেন। একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে হোটেলের ৩৫টি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন একটি পরিবারও। আগুন প্রথমে লাগে পাঁচতলাতেই। হোটেল জুড়ে প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় এবং হোটেলের করিডোর, ঘরের মধ্যে কাঠের প্যানেল লাগানো থাকায় পাঁচতলা থেকে খুব দ্রুত আগুন অন্যান্য তলাতেও ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে দমকল।

৩৫ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাঁচ জনকে উদ্ধার করে লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয়। সেখানে এক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আরএমএল হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৩ জনের।

ভোর তখন ৪টে। দিল্লির অর্পিত প্যালেস হোটেলে আবাসিকরা সকলেই ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। আগুন যে লেগেছে, অনেকেই প্রথমে টের পাননি। যখন বুঝতে পারলেন, তত ক্ষণে চার দিক থেকে ঘিরে ফেলেছে আগুন। ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে হোটেলের বেশির ভাগ ঘর।

কিন্তু বাঁচার জন্য ঘর থেকে করিডোরে বেরিয়ে আসতে গিয়ে আরও বিপত্তির মুখে পড়েন আবাসিকরা। কাঠের প্যানেল দিয়ে তৈরি করিডোর তখন দাউদাউ করে জ্বলছে। ফলে বেশির ভাগ আবাসিকই বেরোতে পারেননি। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৭ জনের। তাঁদের মধ্যে এক জন মহিলা এবং এক শিশুও রয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই মহিলা এবং শিশু বাঁচার জন্য পাঁচতলার জানলা দিয়ে ঝাঁপ দিয়েছিলেন।

পাঁচতলা থেকে আগুন ক্রমশ দোতলায় চলে আসে। ফলে ভিতরে ঢুকে উদ্ধার করতে খুব সমস্যায় পড়তে হয় দমকলকর্মীদের। ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কি না এখন সেটাই ভাল করে খতিয়ে দেখছেন দমকলকর্মীরা। সকাল সাতটা নাগাদ নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শ্বাসরোধ হয়েই বেশির ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই নয়ডা সেক্টর ১২-তে মেট্রো হাসপাতালের আইসিইউ-তে আগুন লেগেছিল। সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছিল, হাসপাতালে ৬৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। যাঁদের মধ্যে ১৬ জন আইসিইউ-তে ভর্তি ছিলেন। তবে সেদিনের অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত হননি। রোগীদের নিরাপদে অন্যত্র সরানো হয়েছিল।

দিল্লির পূর্ত মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন বলেন, ‘‘পাঁচতলা পর্যন্ত হোটেলের অনুমোদন ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বেআইনি ভাবে ছাদে রান্নাঘর বানিয়েছে। যা চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রমাণ। এই গাফিলতির জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

Shares

Comments are closed.