শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

আপনার ছেলে স্পেনে টেনিস ক্লাব কেনার অর্থ পেল কোথা থেকে, চিদম্বরমের কাছে জানতে চাইবে ইডি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম বাড়িতে নেই। বুধবার সকালে অভিজাত জোরবাগ অঞ্চলে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেটের টিম। কিন্তু তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ইডি কিন্তু আশা করছে, তিনি বেশিদিন গ্রেফতারি এড়িয়ে থাকতে পারবেন না। একবার হেফাজতে পেলেই তাঁকে প্রশ্ন করা হবে, আপনার ছেলে কার্তি চিদম্বরম বিদেশে অত সম্পত্তি কিনল কী করে? এত অর্থ পেল কোথায়?

ইডি জানতে পেরেছে, চিদম্বরমের ছেলে স্পেনে টেনিস ক্লাব কিনেছেন। ব্রিটেনে কিনেছেন কয়েকটি বিলাসবহুল কটেজ। এছাড়া ভারতে ও বিদেশে ৫৪ কোটি টাকা দামের স্থাবর সম্পত্তি কিনেছেন। গোয়েন্দাদের ধারণা, আইএনএক্স মিডিয়ার থেকে কার্তি যে টাকা ঘুষ হিসাবে পেয়েছিলেন, তাতেই এত সম্পত্তি কিনেছেন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ওই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। তখনই বলা হয়েছিল, কার্তি অসদুপায়ে যে অর্থের মালিক হয়েছেন, তা দিয়েই এত সম্পত্তি কিনেছিলেন।

আইএনএক্স মিডিয়া কেসে ছেলের সঙ্গে চিদম্বরমও অভিযুক্ত। এছাড়া এয়ারসেল-ম্যাক্সিস টু জি দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। দু’টি মামলাতেই তদন্ত করছে ইডি এবং সিবিআই। দিল্লির জোর বাগ অঞ্চলে যে বাংলোয় চিদম্বরম থাকেন, সেটিও দুর্নীতির অর্থে কেনা বলে গোয়েন্দাদের দাবি। স্পেনের বার্সিলোনায় কার্তি যে টেনিস ক্লাব কিনেছেন, তার দাম ১৫ কোটি টাকা।

ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্কের চেন্নাইয়ের নুনগামবক্কম শাখায় কার্তি ৯ কোটি ২৩ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলেন। সেই ফিক্সড ডিপোজিট ইডি বাজেয়াপ্ত করেছে। চেন্নাইয়ের ডিসিবি ব্যাঙ্কে তাঁর আরও ৯০ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ছিল। তাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ইডির দাবি, আইএনএক্স মিডিয়ার তৎকালীন মালিক পিটার মুখার্জি কার্তিকে ৩ কোটি ৯ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। ডেবিট নোটে কারচুপি করে তাঁকে ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল। কার্তি ওই ডেবিট নোটের মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছিলেন, তাঁর কোম্পানি বেশ কিছু পরিমাণ অর্থ লেনদেন করেছে। বাস্তবে সেই লেনদেন হয়নি।

২০১৭ সালের ১৫ মে সিবিআই কার্তির বিরুদ্ধে প্রথম এফআইআর করে। অভিযোগ, ২০০৭ সালে পি চিদম্বরম অর্থমন্ত্রী থাকার সময় বিধিবহির্ভূতভাবে আইএনএক্স মিডিয়াকে বিদেশ থেকে ৩০৫ কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। চিদম্বরমের ছেলে বাবার প্রভাব খাটিয়ে আইএনএক্স মিডিয়াকে ওই অর্থ পাইয়ে দিয়েছিলেন।

ওই বছরের অক্টোবরে কার্তি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান, তাঁকে ব্রিটেনে যেতে অনুমতি দেওয়া হোক। সেখানে তিনি মেয়েকে এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করবেন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে অনুমতি দেয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কার্তিকে সিবিআই গ্রেফতার করে। তিনি ২৩ দিন জেলে থাকেন। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে পিটার মুখার্জির স্ত্রী ইন্দ্রাণী মুখার্জি রাজসাক্ষী হন। গত ২০ অগস্ট দিল্লি হাইকোর্ট চিদম্বরমের আগাম জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয়।

Comments are closed.